Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

অর্থাভাবে বন্ধ বহু আদালত, দুর্ভোগ

শিবাজী দে সরকার ও কুন্তক চট্টোপাধ্যায়
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:১০

কোনও আদালতে দেড়শো, কোথাও বা সংখ্যাটা গিয়ে ঠেকেছে তিনশোর কাছাকাছি।

শহরের বিভিন্ন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে জমে থাকা মামলার সংখ্যাটা এমনই। আইনজীবীদের বক্তব্য, এই মামলার পাহাড়েই কার্যত থমকে যাচ্ছে বিচারের প্রক্রিয়া। যার জেরে শুধু কামদুনি-পার্ক স্ট্রিট নয়, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারই ক্রমাগত পিছিয়ে চলেছে।

কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক সূত্রের জানা গিয়েছে, একাদশ অর্থ কমিশনের (২০০০-২০০৫) সুপারিশে গোটা দেশে ১৭৩৪টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট খোলা হয়। দায়রা আদালতের জমে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যই এই কোর্ট খোলার কথা বলা হয়েছিল। কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্যে রাজ্যগুলি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট খোলে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই সাহায্য দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরও পাঁচ বছর দেশের ১৫৬২টি ফাস্ট ট্র্যাকের জন্য আর্থিক সাহায্য বজায় রাখে কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের ৩১ মার্চ এই আর্থিক অনুদান বন্ধ করা হয়।

Advertisement

শহরের বিভিন্ন আদালতের আইনজীবীরা বলছেন, আর্থিক অনুদান বন্ধ হওয়ার পর থেকে এ রাজ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের সংখ্যা কমানো হয়। শহরের নগর দায়রা আদালত, শিয়ালদহ আদালত, আলিপুর পুলিশ আদালত এবং জজ কোর্টে ২১টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ছিল। এখন সেখানে ১২টি আদালত রয়েছে। আদালতের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মামলার চাপ বেড়েছে। তার ফলেই বিচারের কাজ তুলনামূলক ভাবে গতি হারিয়েছে বলে আইনজীবীদের অভিযোগ।

কলকাতার নগর দায়রা আদালতে আটটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ছিল। এখন রয়েছে মাত্র দু’টি। তার প্রতিটিতে ২০০-২৫০টি করে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পার্ক স্ট্রিট ও কামদুনি কাণ্ডের মতো ‘হাই-প্রোফাইল’ মামলাও। শুধু মামলার পাহাড় নয়, অনেক সময়ে সাক্ষীরা ঠিক মতো হাজির না হওয়াতেও মামলার শুনানি দেরি হচ্ছে।

নগর দায়রা আদালতের আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, কিছু কিছু মামলায় ডাক্তার বা অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময়েই জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় তাঁরা আসতে পারেন না। ফলে চার্জ গঠনও পিছিয়ে যায়। নগর দায়রা আদালতের এক সরকারি আইনজীবী বলেন, “চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ থাকলে তো আর ডাক্তারকে জোর করা যায় না।” এত বাধা সত্ত্বেও সরকারের তরফে সব মামলাই দ্রুত শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কামদুনি মামলার সরকারি আইনজীবী অনিন্দ্য রাউথ। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আদালতের কাছে সব মামলাই গুরুত্বপূর্ণ। সব ক’টির বিচার যাতে তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়, সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।” আদালত সূত্রের খবর, কামদুনি মামলার মতো আরও অনেক মামলাই দ্রুত শেষ করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। শুনানির দিন ধার্য করার সময়ে সেগুলিও মাথায় রাখতে হয়।

রাজ্য সরকারের পক্ষেও জানানো হয়েছে, নিজেদের খরচে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত চালানো হচ্ছে। শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই জমে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাক্ষী বা অভিযুক্তেরা হাজির না হওয়ায় কী ভাবে বিচারের কাজ পিছিয়ে যায়, তার একটি উদাহরণ দিয়েছেন আলিপুর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অরিন্দম দাস। সপ্রতি ক্যানিং থানা এলাকার একটি ধর্ষণের মামলায় চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। অরিন্দমবাবু বলেন, “তিন জন সাক্ষীর মধ্যে দু’জন পৌঁছতেই পারেনি আদালতে। তার ফলেই চার্জ গঠন পিছিয়ে গিয়েছে।”

এই আদালতেরই আর একটি মামলায় তদম্তকারী অফিসার ছিলেন মহেশতলা থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে গিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি পৌঁছতে পারেননি কোর্টে। ফলে সেই শুনানিও পিছিয়ে যায়। আলিপুর পুলিশ আদালতে তিনটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের মধ্যে একটি চালু রয়েছে। তবে আলিপুর জজ কোর্টের সাতটি আদালতের একটিও বন্ধ নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলার পাহাড় জমেছে শিয়ালদহ আদালতেও। সেখানে তিনটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মধ্যে দু’টি চালু রয়েছে। আদালত সূত্রের খবর, এর মধ্যে প্রথম ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রায় তিনশো মামলা রয়েছে। দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে শ’দেড়েক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ধর্ষণ-সহ মহিলাদের উপরে অপরাধের মামলা।

এই আদালতের আইনজীবীরা অবশ্য তাঁদের অভিযোগে জানিয়েছেন, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে নানা পদে বহু দিন ধরেই কর্মী সঙ্কট রয়েছে। তার ফলে বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দেরি হচ্ছে। শিয়ালদহ কোর্টের সরকারি আইনজীবী অসীম কুমার বলেন, “স্টেনোগ্রাফারের মতো বহু পদ খালি থাকার দরুণ সাক্ষীদের বয়ান নথিভুক্ত করতে দেরি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে বিচার প্রক্রিয়ায়।”

আরও পড়ুন

Advertisement