Advertisement
E-Paper

কলকাতার তিন এলাকায় অবৈধ বহুতল ভাঙছে পুরসভা, বুলডোজ়ার নামল, মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীও

দিন কয়েক আগেই তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা— এই তিন এলাকার অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠায় কলকাতা পুরসভা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১০:৫৭
Kolkata Municipality Corporation begins demolition of illegal constructions in three areas of Kolkata

অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে আনা হয়েছে বুলডোজ়ার। ছবি: সংগৃহীত।

অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশের পরই বিভিন্ন জায়গার অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে পুরসভা। কলকাতাতেও একই ছবি। রবিবার সকাল সকাল কলকাতার তিন এলাকায় হানা দিলেন পুরকর্মীরা। তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা— এই তিন এলাকার তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করল পুরসভা। এই ভাঙাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটে, তাই ওই এলাকার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, যে তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে, প্রত্যেকটিই কোনও না কোনও স্থানীয় তৃণমূল নেতার সঙ্গে যুক্ত। বেলেঘাটার অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর। বাকি দুই জায়গার দুই অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যানের যোগ থাকার খবরও মিলেছে। যদিও রাজু বা কাউন্সিলর কিংবা বরো চেয়ারম্যান এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এই নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ারও আনা হয়েছে। অভিযোগ, নির্মাণগুলির জন্য পুরসভা যে প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল, তা উপেক্ষা করে মাথা তুলতে শুরু করে বহুতলগুলি। কোথাও পাঁচতলা, কোথাও ছ’তলা বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও দুই ব্লকে বহুতল নির্মাণের কাজও চলছিল।

পুরসভা জানিয়েছে, যা বেআইনি, তা বেআইনিই। কোনও বৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে না। বেআইনি ভাবে তৈরি নির্মাণ ভাঙা হবে। সেই মতো রবিবার কলকাতার তিন জায়গায় ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুরসভা। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কসবার যে এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে, সেই এলাকায় পৌঁছেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ নির্মাণটির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। ওই নির্মাণের বাইরে যে নোটিস টাঙানো হয়েছে, তাতে লেখা ডিসেম্বর মাসে পুর আধিকারিকেরা এসে জায়গায় পরিদর্শন করেন। এবং সেটিকে অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু তার পরেও কেন ওই নির্মাণ তৈরির কাজ বন্ধ হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘আমরা অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছি। এই সব নির্মাণ যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই দায়িত্বে থাকা পুরসভার আধিকারিক-কর্মীরাও ছাড় পাবেন না।’’ অগ্নিমিত্রার নিশানায় প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, ‘‘এই সব অবৈধ নির্মাণ কী ভাবে তৈরি হল? পুরসভা বা আগের মন্ত্রী কি দেখেননি? সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।’’

জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগেই তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা— এই তিন এলাকার অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠায় কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০ -এর ৪০০(১) ধারায় ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, কোনও বাড়ি বা নির্মাণের প্ল্যান-বহির্ভূত অবৈধ অংশ ভাঙার বা কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারেন পুর কমিশনার। তবে ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট ওই সম্পতির মালিককে নোটিস পাঠাতে হবে পুরসভাকে। সেই নোটিস অনুযায়ী, পুরসভা সংশ্লিষ্ট ওই সম্পত্তি ভেঙে দেওয়ার জন্য মালিককে জানানো হয়। যদি মালিক না-ভাঙেন, তবে পুরসভাই ওই নির্মাণ ভাঙবে। সেই মতো রবিবার সকালে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করল পুরসভা।

Illegal property KMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy