Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

শাশুড়িকে এই ভাবে মারছে বৌমা! একেই কি বলে সভ্যতা!

ভেবেছিলেন, ঘটনাটা কারও নজরে আসবে না। কিন্তু, সেই মারধরের ঘটনা পাশের বাড়ি এক যুবক ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন। আর সেই সূত্র ধরেই ৭

নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ মে ২০১৮ ১৮:৫৯
Save
Something isn't right! Please refresh.
পাশের বাড়ি থেকে মারধরের ছবিই ধরা পড়েছে মোবাইলে।

পাশের বাড়ি থেকে মারধরের ছবিই ধরা পড়েছে মোবাইলে।

Popup Close

ভিডিয়োটা দেখেই চমকে উঠতে হয়। সাদা শাড়ি পরিহিতা এক বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর করছেন এক মহিলা।

কখনওই চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাচ্ছেন। কখনও পাঁচিলে ঠেসে ধরে তাঁর গলা টিপে ধরছেন। কখনও আবার গালে সপাটে চড়। কান মুলে দেওয়া, গাল-নাক টিপে ধরা... বেশ কয়েক মিনিটের ভিডিয়োটি দেখে শিউরে উঠেছিলেন সকলে। কিন্তু, কোথায়, কবে এই ঘটনা ঘটেছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছিল, বৃদ্ধাকে হাউহাউ করে কাঁদতে এবং শাড়ির খুঁট দিয়ে চোখ মুছতে। কিন্তু, সবুজ নাইটি পরা ওই মহিলাকে থামতে দেখা যায়নি।

না। এই ঘটনা নিয়ে কেউ কোথাও কোনও অভিযোগ করেননি। থানা-পুলিশেও দায়ের হয়নি কোনও অভিযোগ। কিন্তু, পাশের বাড়ি থেকে কেউ এক জন সেই মারধরের ছবি মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোডও করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ফেসবুকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে ওই পোস্টটি পৌঁছে যায়। প্রায় আট হাজার লাইক এবং ২৫ হাজার শেয়ার। বিষয়টা নজরে আসে পুলিশের। এর পরেই তারা তদন্তে নেমে ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম স্বপ্না পাল।

Advertisement



বৃদ্ধার পুত্রবধূকে (ডান দিকে) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুভ্র চক্রবর্তী নামে বাঁশদ্রোণী থানার এক সার্জেন্ট ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে ওই ভিডিয়ো পোস্টটি দেখেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তাঁর ঊর্ধ্বতনকে জানান। রন্তু সেনগুপ্ত নামে এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শুভ্রবাবু ওই ভিডিয়োটি দেখেন। পুলিশের তরফে সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, কোথায়, কবে ওই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর নাম-ঠিকানা গোপন রাখা হবেও বলে পুলিশের তরফে নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু, রন্তু সেনগুপ্ত আর পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি।

এর পর বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফেসবুক থেকে রন্তুর ছবি জোগাড় করে তাঁর সন্ধান শুরু করে পুলিশ। ফের যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে। শেষমেশ ওই যুবক জানান, ভিডিয়োটি তিনি পেয়েছেন ক্যানিং-এর ভোলার বাজার এলাকার চিকিৎসক তরুণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে। রন্তুর কাছ থেকে ওই চিকিৎসকের ফোন নম্বর জোগাড় করে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই চিকিৎসক জানান, তিনি ওই ভিডিয়োটি সুমন নামে এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাছ থেকে পেয়েছেন। তাঁকে ওই মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ জানিয়েছিলেন, গড়িয়ার পঞ্চাননতলা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। এর পর সুমনের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু, তিনি মোবাইলে সবটা শোনার পর সুইচ অফ করে দেন।

দেখুন ভিডিয়ো

কিন্তু, হাল ছেড়ে দেয়নি বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। তারা ওই ভিডিয়ো থেকে বৃদ্ধার ছবি বার করে পঞ্চাননতলা এলাকায় অভিযান শুরু করে। আর এতেই সাফল্য আসে। জানা যায়, ওই বৃদ্ধার নাম যশোদা পাল। বৌমাকে না জানিয়ে ফুল তোলার ‘অপরাধে’ তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই বৃদ্ধার বড়ছেলে রঞ্জিত পালের স্ত্রী স্বপ্না দেবী। তাঁরা সকলে যশোদা দেবীর বাড়িতেই থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, যশোদা দেবী মাঝে মধ্যেই স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হন। দিনবন্ধু অ্যান্ড্রুস কলেজের এক ছাত্র ওই ভিডিয়োটি তুলেছে বলে পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে। ওই ছাত্রের কাছ থেকেই ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement