Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

কলকাতার কড়চা

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:০০

স্কুল দুশো, পত্রিকাও একশো পেরোল

নবজাগরণের আলোয় প্রাণের প্রদীপটুকু জ্বালাবার জন্য যে সলতে পাকানোর ইতিহাসটা রয়েছে, তার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আমাদের আদি ও অকৃত্রিম হিন্দু স্কুল।’ হিন্দু স্কুল পত্রিকার ১০১ বর্ষের সদ্যপ্রকাশিত সংকলনে এ মন্তব্য বর্তমান প্রধানশিক্ষক তুষারকান্তি সামন্তর। হ্যাঁ, ১৮১৭ সালে রক্ষণশীল হিন্দুদের হাতে গড়া হিন্দু কলেজ থেকে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৮৫৫ সালে সরকারি উদ্যোগের হিন্দু স্কুল সব মিলিয়ে দুশো বছরের মাইলফলক ছুঁয়েছে। তার সঙ্গে স্কুল পত্রিকাও নীরবেই পেরিয়ে এসেছে শতবর্ষ, নানা ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে। সংকলনের শুরুতেই সম্পাদক গৌতম অধিকারী ছুঁয়ে গিয়েছেন সে ইতিবৃত্তের রূপরেখা। স্কুলের প্রবাদপ্রতিম প্রধানশিক্ষক রসময় মিত্রের (সঙ্গে ডান দিকে তাঁর ছবি) আমলেই পত্রিকার সূচনা, যিনি খুব খারাপ অবস্থা থেকে বিশ শতকের প্রথম দশকে স্কুলকে তুলে এনেছিলেন খ্যাতির শীর্ষে। অক্টোবর ১৯১৫-য় প্রকাশিত হল প্রথম সংখ্যা (সঙ্গে বাঁ দিকে তারই প্রচ্ছদ), সম্পাদক বিজলীভূষণ সোম। বছরে চারটি, তিনটি, দুটি নানা ভাবে প্রকাশিত হতে হতে স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে তা একটিতে গিয়ে ঠেকে। সত্তর দশক থেকে অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়ে পত্রিকাটি। কিন্তু এত দিন ধরে টানা প্রকাশিত এই স্কুল পত্রিকা শুধু ছাত্রদের হাত পাকানোর জায়গা হয়েই ফুরিয়ে যায়নি। পরবর্তী কালে স্বনামখ্যাত বহু জনের প্রথম সৃজন লুকিয়ে আছে এখানেই। লিখেছেন সেই পর্বের শিক্ষকরাও, সমকালে তা বিদগ্ধ সমাজের প্রশংসাও পেয়েছিল। সাম্প্রতিক সংখ্যাটি লেখা ও ছবির বৈচিত্রে সেই ঐতিহ্যের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছে। পুনর্মুদ্রিত হয়েছে যোগেশচন্দ্র বাগলের ‘হিন্দু স্কুলের আদিপর্ব’ রচনাটি। প্রধানশিক্ষক তুষারবাবু জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে দুশো বছর উপলক্ষে প্রকাশিত হবে একটি স্মারকগ্রন্থ, যেখানে নানা নিবন্ধের সঙ্গে স্থান পাবে শতবর্ষের পত্রিকার পৃষ্ঠা থেকে তুলে আনা রচনাও। দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন সমিতির পরিকল্পিত আর একটি স্মারকগ্রন্থে থাকবে স্কুলের ইতিহাসের রূপরেখার সঙ্গে দুর্লভ নানা ঐতিহাসিক নথি ও চিত্র।

Advertisement



দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের অঙ্গ হিসাবে ২৭-২৯ সেপ্টেম্বর স্কুলেই আয়োজিত হয়েছে আন্তঃস্কুল ‘ফেস্ট’। নাচ, গান, আবৃত্তি, কুইজ, বিতর্ক, ছবি আঁকা ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা। সঙ্গের ছবি স্কুল কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে।

মুখোশ



ছদ্মবেশ, সুরক্ষা, প্রদর্শন, বিনোদন ইত্যাদি নানা ব্যবহারেই মুখোশের অস্তিত্ব। স্বদেশ-স্বভূমিতে সেই মুখোশের চিত্রবিচিত্র রূপ অন্বেষণ তাই আবহমানকালের চর্চার বিষয়।’ লিখছেন দীপঙ্কর ঘোষ, তাঁর বাংলার মুখোশ (আনন্দ) বইয়ে। শুধু বাংলা নয়, ভারতের নানা প্রান্তে মুখোশের কত না বৈচিত্র। এ বার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংগ্রহশালার মুখোশ গ্যালারিটি খুলে দেওয়া হবে, ২০১৪ থেকে সংস্কারের জন্য এটি বন্ধ ছিল। ৮৫টি মুখোশের এই চমৎকার সংগ্রহটি বিকেল ৩টেয় উদ্বোধন করবেন ভোপালের ইন্দিরা গাঁধী রাষ্ট্রীয় মানব সংগ্রহালয়ের অধিকর্তা সরিৎকুমার চৌধুরী। দুপুর দুটোয় গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট নৃতাত্ত্বিক বিরিঞ্চি মেধি এ বিষয়ে বলবেন আশুতোষ জন্মশতবার্ষিকী হলে। সকাল থেকে সংগ্রহশালায় চলবে মুখোশ তৈরির কর্মশালা, বিকেলে আছে মুখোশ নৃত্য। সঙ্গে কর্নাটকের একটি ভূত-মুখোশ।

জলরং



উনিশ শতকের মাঝামাঝি বা খানিকটা পরের দিকে ব্রিটিশ জলরং চর্চার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল ভারতীয়ত্ব। ছবিতে ব্রিটিশ করণ-কৌশলের গন্ধ বজায় রইল ঠিকই, কিন্তু আমেজ ও মেজাজে তা হয়ে উঠল ভারতীয়। মায়া আর্ট স্পেস-এ ‘ট্রান্সপারেন্ট ওয়াটার কালার’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে কলকাতা বা বাংলার শিল্পীদের হাতে চর্চিত ব্রিটিশ ধারার জলরঙের ছবির কিছু বাছাই নিদর্শন। চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত (২-৮)। ললিতমোহন সেন থেকে পরেশ মাইতি (সঙ্গে তাঁর আঁকা ছবি)— মোট আঠারো জন শিল্পীর পঁয়ত্রিশটি কাজ নিয়ে প্রদর্শনীর পরিকল্পনায় দেবদত্ত গুপ্ত।

সুনাট্য রঙ্গে

নব্বইয়ের দশকে অ্যালেক্সি আরবুজভ-এর ‘ওল্ড ওয়র্ল্ড’-এর অনুসরণে মোহিত চট্টোপাধ্যায় লিখলেন ‘তখন বিকেল’। গান্ধারের প্রযোজনায় বঙ্গরঙ্গমঞ্চে ছড়িয়ে পড়ল কাব্যকৌতুকে মেশানো সেই সংলাপের মুগ্ধতা। অভিনয় করেছিলেন অসিত মুখোপাধ্যায়, শিপ্রা লাহিড়ি প্রমুখ। অগ্রজ দুই ব্যক্তিত্ব মোহিত চট্টোপাধ্যায় ও অসিত মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাতে ও নাট্যদল ‘রঙরূপ’-এর জন্মদিন উপলক্ষে তাদেরই প্রযোজনায়, সীমা মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায়, ২ অক্টোবর সন্ধে সাড়ে ৬টায়, অ্যাকাডেমিতে আবার মঞ্চস্থ হবে ‘তখন বিকেল’। অন্য দিকে, কলকাতা রঙ্গিলা তাদের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর, সন্ধে ৬টায়, আকাদেমিতে উৎসব উদ্বোধন করবেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। আছে ‘রঙ্গিলা শ্রী’ সম্মাননা ও বিভিন্ন নাটক। পাশাপাশি, ছোটদের বেশি করে বাংলা পড়ানো, বাংলা ভাষা-সংস্কৃতিতে আগ্রহী করে তোলার জন্য সুখচর পঞ্চমের আর্ট গ্যালারি ‘জলসাঘর’-এর যে ‘বাংলা’ বইগ্যালারির সূচনা হয়েছিল, তারই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১ অক্টোবর সন্ধে সাড়ে ৬টায় ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট মঞ্চে নাটক ও গানের অনুষ্ঠান। দেখা যাবে মলয় মিত্রের নাটক ও নির্দেশনায় ‘আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র’ এবং শোনা যাবে শুচিশ্রী রায়ের বাংলা গান।

প্রয়াণ



কলকাতায় সিনেমা নিয়ে সিরিয়াস চর্চার মুষ্টিমেয় কয়েক জনের অন্যতম বীরেন দাশশর্মা (১৯৫৬-২০১৬) চলে গেলেন হঠাৎই। চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রখর ছিল তাঁর ইতিহাসচেতনা, তথ্যে ছিল তাঁর শক্তি, আর তত্ত্বে আসক্তি। গত তিরিশ বছর ধরে যুক্ত ছিলেন ফিল্ম-শিক্ষকতার কাজে, তত্ত্বের ইতিহাস থেকে চিত্রনাট্য রচনা— কোনও কিছুই বাদ দিতেন না শেখানোয়। শেষ কুড়ি বছর পড়িয়েছেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। পড়িয়েছেন এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, দেশের বাইরেও। নৈহাটিতে ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে ওতপ্রোত সেই যৌবন থেকে, তার পর কলকাতায় সিনেমা-নিবিষ্ট চিত্রবাণী’র ঋদ্ধ গ্রন্থাগার ও পরিবেশের সঙ্গে। হারিয়ে যাওয়া বাংলা ছবি, কলকাতার সিনেমা হল, ভারতীয় চিত্রাভিনেত্রীদের সচিত্র জীবনী, শতাব্দী-প্রাচীন অরোরা ফিল্ম স্টুডিয়োর ইতিহাস ইত্যাদি নানান বিষয়ে তাঁর তন্নিষ্ঠ কাজ অগ্রন্থিত, অসম্পূর্ণ হয়ে রইল। ছাত্রছাত্রীর প্রতি যত্নশীল, মননশীল লেখক এবং মৃদুভাষী এই মানুষটি রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও ফিল্ম আর্কাইভ গড়ার স্বপ্ন। এসআরএফটিআই আর ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যালায়েড আর্টস-এর আয়োজনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে তাঁকে নিয়ে বললেন ফাদার গাস্তঁ রোবের্জ গৌতম ঘোষ প্রমুখ।

পঞ্জিকা নিয়ে

পুজোর বেশ একটু আগেই বেরিয়েছে অনুষ্টুপ পত্রিকার (সম্পা: অনিল আচার্য) প্রাক্-শারদীয় ‘বিশেষ পঞ্জিকা সংখ্যা’। ‘পঞ্জিকা বিষয়ে জানব না... কেননা তা কুসংস্কারের নামান্তর, এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। এ-সব বিষয়ে নিজের অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হওয়া এবং না-জেনে কোনো বিষয়কে অবজ্ঞা, অবহেলা ও পরিবর্জন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা সমীচীন হয় না।’ এ নিয়ে আলোকপাতের প্রয়াসেই এ-সংখ্যা, জানানো হয়েছে ‘পত্রিকার কথা’-য়। অর্জুন দেব সেনশর্মা অতিথি সম্পাদক সংখ্যাটির। পঞ্জিকা বিষয়ে বিবিধ প্রবন্ধে ঋদ্ধ এ-সংখ্যার ক্রোড়পত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ: প্রণব দেব প্রণীত ‘শ্রীরামপুর মিশনের পুঁথি সংগ্রহের ইতিহাস ও দু’টি বাংলা গদ্য পুঁথি’।

ফরাসি সন্ধ্যা

বইটির ভিতরে ঢুকলে মনে হয় বিশ্বের শিল্পসাহিত্যের গ্যালারিতে যেন আমাদের নিয়ে হেঁটে চলেছেন চিন্ময় গুহ। তাঁর ঘুমের দরজা ঠেলে-তে (সিগনেট) ইতিহাস খুঁড়ে সৃষ্টিশীল মানুষজনের কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করেছেন তিনি। কে নেই সেখানে, প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ মনীষীরা প্রায় সকলেই। এই ‘দুই সংস্কৃতির সেতু’ খুঁজে পান নোবেলজয়ী ফরাসি ঔপন্যাসিক ল্য ক্লেজিও, চিন্ময়ের লেখনীতে, আর তাঁর বক্তৃতা ‘শ্বাসরোধকারী’, শুনে মনে হয়েছিল মুগ্ধ দেরিদা-র। বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষে আলিয়াঁস ফ্রঁস্যাজ-এর আয়োজন: ‘অ্যান ইভিনিং অব ফ্রেঞ্চ লিটারেচার উইথ চিন্ময় গুহ’। ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধে সাড়ে ৬টায়। বইটি থেকে পড়বেন লেখক, ফরাসি ও বাংলায়।

চলচ্চিত্র উৎসব

গোমড়ামুখো মেঘের ফাঁকেই উঁকি দিচ্ছে আশ্বিনের নীল আকাশ, উৎসবের মেজাজ এখন কলকাতা জুড়ে। মহালয়ার মুখেই গোটা তিনেক ভিনদেশি ছবির উৎসব। হালফিল সব ছবি, তাতে ব্যক্তি থেকে সমাজের নানা অনুষঙ্গ। বাঙালির খানিকটা বহির্ভ্রমণও বলা যেতে পারে। সিনে সেন্ট্রালের উদ্যোগে ‘কলাম্বিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ নন্দনে ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর, ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যালায়েড আর্টস-এর আয়োজনে ‘ড্যানিশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ এসআরএফটিআই-তে ২৬-২৯ সেপ্টেম্বর, এবং ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফিল্মস’ নন্দনে ২৭-২৯ সেপ্টেম্বর, উদ্যোক্তা ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ।

মাতৃরূপেণ



‘নাম নেবেন না, তবেই কথা বলব। মনে রাখবেন, আমাদের এলাকা এখনও দু’ভাগে ভাগ। এক দিকে ওরা আর আরেক দিকে আমরা’। যে যুবক কহিল, সে আকারে-ইঙ্গিতে ইহাই বুঝাইতে চাহিল যে, এখনও কুমারটুলি রাজনৈতিক ভাবে দ্বিধাবিভক্ত। সেই ভাগ এত দূর অবধি গড়াইয়াছে যে শাসক পক্ষ ও বিরোধী পক্ষ না জানিয়া প্রশ্ন করিলে অত্যন্ত হেলা ও অবজ্ঞার সঙ্গে ‘বলতে পারব না, ওদিকে যান’ বলিয়া পাঠাইয়া দেওয়া হয়। যদিও এর বিপরীত চিত্র পটুয়াপাড়ায়। তাহাই স্বাভাবিক। তদঞ্চলে পক্ষ লইয়া কোনও প্রশ্ন নাই। যদিও বরিষণ পিছু ছাড়িতেছে না কলিকাতার, অপিচ মাতৃমূর্তির গাত্রে রঙ পড়িয়াছে। মৃত্তিকার উপর প্রাথমিক সাদা রঙ পড়িবার পর অন্যান্য অর্থাৎ গাত্রবর্ণের বিভিন্ন রঙ পড়িতেছে। ঠিক তেমন ভাবেই সিংহ-পেচক-ময়ূর-হংস-মূষিক ইত্যাদির উপর রঙ পড়িতেছে। কিয়ৎ স্থানে সিংহের গাত্রে এক ধরনের বস্ত্রাদিও আচ্ছাদিত হইতেছে, যাহা দেখিয়া ভ্রম হইতে পারে যে ইহা সত্যিই চর্ম কি না। তবে এই বার কুমারটুলিতে ময়ূর পেখমের বিষয়ে খুবই ক়ড়াকড়ি চলিতেছে। শোনা যায়, মাঝে মাঝে আরক্ষাবাহিনী টহল দিয়া যায়। বিনা পেখমে কার্তিকেয় এ বার কী করিবেন, তাহাই দেখিবার বিষয়। চিনা বণিকেরা নাকি প্রস্তুত, সে দেশ হইতে কৃত্রিম পেখম আসিল বলিয়া!!

ডাক্তারদা



তিনি ‘ডাক্তারদা’ নামেই বঙ্গরঙ্গ মঞ্চে তাঁর অনুজ ও অনুরাগী নাট্যকর্মী-কলাকুশলী-দর্শকদের কাছে পরিচিত। সর্বক্ষণের পেশাদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়েও সমধিক নিষ্ঠা-মেধা-শ্রম ও আত্মত্যাগ নিয়ে থিয়েটার চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তপনজ্যোতি দাস। তিনি বিশ্বাস করেন সময়কে উচ্চারণ করে থিয়েটার— কখনও তা সাম্প্রতিকতাকে ছুঁয়ে, কখনও প্রাচীনের অনুসন্ধিৎসায় সমকালে হাত রেখে। ২০০৩-এ মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের অভিভাবকত্বে ও অনুপ্রেরণায় ‘রঙ্গপট’ নাট্যদলের সূচনা করেন তপনজ্যোতি। সঙ্গে শুরু হয় ‘রঙ্গপট নাট্যপত্র’ সম্পাদনার কাজও। ‘অশ্বত্থামা’, ‘তুষের আগুন’, ‘আওরঙ্গজেব’, ‘তথাগত’, ‘ধর্মাশোক’ একের পর এক নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকস্মৃতিতে উজ্জ্বল। কাজ করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক ও বেতার নাটকে। লিখেছেন নিবন্ধ ও কবিতা। পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা ও পুরস্কার। ‘রঙ্গপট’ নাট্যদল এই মহালয়ায় চৌদ্দোয় পা দেবে। সেই উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমিতে সারা দিন তাঁরই নির্দেশনায় তিনটি নাটক: ‘তথাগত’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ এবং ‘ধর্মাশোক’। ১ অক্টোবর সন্ধে সাড়ে ৬টায় বাংলা আকাদেমিতে পঞ্চম ‘মোহিত স্মারক কথনমালা’। ‘থিয়েটারে সমকাল ও চিরকালীনতা’ বিষয়ে বলবেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। ‘নাট্যে ও জীবনে মোহিত’ স্মৃতিচারণ করবেন দেবাশিস মজুমদার। রঙ্গপট সম্মাননা প্রদানের সঙ্গে আলোচনা হবে অসিত মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্মকৃতি।

পাঁচকাহন



দশকের পর দশক ধরে বাংলা অভিধান চর্চা আর প্রযুক্তিবিদ্যাকে যিনি অবলীলায় মিলিয়ে আসছেন, তাঁর নাম অশোক মুখোপাধ্যায়। বিজ্ঞান জানলে ভাষাসাহিত্য চর্চা, কিংবা ভাষাসাহিত্য জানলে বিজ্ঞান চর্চায় ব্যাঘাত ঘটে— এ সব কথা যাদবপুর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এই প্রাক্তন অধ্যাপকের কাছে প্রতিবাদেরও অযোগ্য। অভিধান চর্চায় বাঙালির একক বিদ্যোৎসাহিতার যে নিদর্শন আমরা দেখেছিলাম হরিচরণে, জ্ঞানেন্দ্রে, রাজশেখরে; ইদানীং তারই সাক্ষাৎ উত্তরসূরি তিনি। তাঁর সমার্থ শব্দকোষ অনায়াসেই বাংলা ভাষা চর্চায় একটি কিলোমিটার-ফলক। বাংলা লেখালিখির সঙ্গে যাঁদের এতটুকু যোগ আছে, তাঁরাই জানেন, কত হাজার বার জ্যেষ্ঠের আশীর্বাদের মতো কাঙ্ক্ষিত শব্দটির জোগান দিয়ে তিনি আমাদের বিস্ময়ে প্রণত করেন। আবার এই মানুষটিই ব্যাকরণভীরু আম-বাঙালি পাঠকের কাছে সহজসুলভ করে পেশ করেছেন তাঁর ব্যাকরণ অভিধান। যাতে বাগান পরিচর্যার পরিশ্রমটুকু না করে পাকা ফলটি টুক করে পেড়ে নিতে পারি আমরা। অশোকবাবুর আরেক কীর্তি বানান অভিধান। বাংলা বই সম্পাদনার ক্ষেত্রে অপরিহার্য এই মানুষটি যেন ‘গাম্ভীর্য নির্বোধের মুখোশ’— এই ঋষিবচনের মূর্ত ব্যক্তিরূপ। তাঁর সঙ্গে কথোপকথন যেন সদানন্দর মেলা। নিজ মতে দৃঢ়, অথচ সতত মন-খোলা এই মানুষটি অবশেষে রাজি হয়েছেন ভাষা আর শব্দ নিয়ে দু’-চার কথা বলতে। আলোচনার নাম দিয়েছেন ‘শব্দের পাঁচকাহন’। শব্দের যাথাযথ্য আর সংক্ষিপ্তির সাধক যিনি, ‘সাতকাহন’-এ তো তাঁর অনীহা থাকবেই, তাই ‘পাঁচকাহন’। একতরফা বক্তৃতা নয়, তিনি চান বহুতরফা আলাপ-আলোচনা। তারই আয়োজন ১ অক্টোবর বিকেল ৫টায়, বইচিত্র সভাঘরে।

আরও পড়ুন

Advertisement