Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

ঠেলার নাম ডেঙ্গি, দূরের রক্তেও তৈরি প্লেটলেট

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
০৪ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪০

এত দিন ‘অসম্ভব’ বলে দাবি করে যা এড়ানো হয়েছিল, ঠেলায় পড়ে সেটাই এখন দিব্যি করে ফেলছে বিভিন্ন সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক।

কী সেই কাজ?

খাতায়কলমে কোনও নিয়ম না-থাকলেও এতদিন অলিখিত ভাবে মানিকতলার কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্ক-সহ অধিকাংশ সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক কলকাতা থেকে ৩০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আয়োজিত কোনও স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির থেকে সংগৃহীত রক্তের উপাদান ভাগ করত না বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, একটু বেশি দূরের শিবির হলেই সেখান থেকে শুধু ‘হোল ব্লাড’ আসত। তার থেকে প্লেটলেট, প্লাজমা বা কনসেনট্রেটেড আর বি সি তৈরি করা হত না। কারণ, শিবির থেকে রক্ত কলকাতায় আসতেই অনেক সময় চলে যেত। রক্ত সংগ্রহের ৬-৮ ঘণ্টার মধ্যে তার থেকে উপাদান ভাগ করতে হয়। ফলে সেটা করা যেত না।

Advertisement

ডেঙ্গির প্রাবল্যের সময়ে এখন চতুর্দিকে রোগীদের জন্য প্লেটলেটের চাহিদা তুঙ্গে এবং প্লেটলেটের আকাল নিয়ে বহু অভিযোগও উঠছে। ফলে স্বাস্থ্যভবনের চাপে কলকাতার ৬০, ৭০ বা ৮০ কিলোমিটার দূরের শিবির থেকে সংগৃহীত রক্ত থেকেও ৬-৮ ঘণ্টার মধ্যে উপাদান পৃথক করে ফেলছে একাধিক সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক।

তা হলে এতদিন এমনটা করা যেত না কেন? তা কি নিছক কাজ না-করার মানসিকতার জন্য? তা না-হলে এখন রক্ত সংগ্রহের ৬-৮ ঘণ্টার মধ্যে ৬০-৭০ কিলোমিটার দূর থেকে রক্ত এনে কলকাতায় উপাদান পৃথকীকরণ করা যাচ্ছে কী ভাবে?

চিকিৎসক, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, রক্ত আন্দোলনের কর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্তারাই জানাচ্ছেন, প্লেটলেট যাতে করা যায় তার জন্য স্বাস্থ্যভবন এখন অনেক রক্তদান শিবিরে দু’টি করে গাড়ি দিচ্ছে। তার মধ্যে একটি হল ‘ব্লাড ট্রান্সপোর্টেশন ভ্যান’ বা বিটি ভ্যান। কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্কের এক চিকিৎসক-কর্মীর কথায়, দূরের শিবিরে প্রথম ৫০ বা ১০০ জনের রক্ত দেওয়া হয়ে গেলেই বিটি ভ্যান সেই রক্ত নিয়ে দ্রুত শহরে ব্লাড সেপারেশন ইউনিটে চলে আসছে। তার থেকে প্লেটলেট, প্লাজমা, আর বি সি তৈরি করে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ওই শিবিরে যে ক’জন রক্ত দিচ্ছেন, সেই রক্ত নিয়ে ফিরছে দ্বিতীয় গাড়ি।

এত দিন বেলা ১১টায় কোনও শিবির থাকলে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা-ছ’টায় শিবির শেষ না-হওয়া পর্যন্ত কোনও রক্ত কলকাতায় আনা হত না। ফলে যে রক্ত দিনের প্রথম ধাপে অর্থাৎ, ১১টা থেকে ১টার মধ্যে নেওয়া হয়েছে, তা রাত ৮টায় কলকাতায় পৌঁছতে-পৌঁছতে ৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যেত। বুধবার, ১ নভেম্বর হুগলির চাঁপাডাঙার একটি শিবির থেকে এই ভাবেই প্রথমে একটি গাড়িতে ৫০ ইউনিট রক্ত নিয়ে এসে উপাদান পৃথক করা হয়েছে। বাদবাকি রক্ত এসেছে পড়ে। ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোচরণ থেকে এই ভাবেই কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্কে ৫২ ইউনিট প্লেটলেট তৈরি হয়েছে। ৭ অক্টোবর মেদিনীপুরের সবংয়ের একটি শিবিরে আগের রাতে কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে একটি গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সংগৃহীত রক্ত থেকে ১৬৩ ইউনিট প্লেটলেট সময়মতো বানানো গিয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর বকখালির একটি শিবির থেকে ১৫৬ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে ফিরে আসেন। তার থেকেও ১০০ ইউনিট প্লেটলেট তৈরি করেন তাঁরা। ওই দিনই খড়্গপুরের একটি শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ৮০ ইউনিট প্লেটলেট বানায় কলকাতা মেডিক্যাল। ২৫ অক্টোবর নীলরতন মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক সন্দেশখালির একটি শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করে উপাদান পৃথকীকরণ করে ৩৬ ইউনিট প্লেটলেট বানায়।

ভারত সরকারের স্বেচ্ছা রক্তদান জাতীয় কার্যক্রমের পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য অপূর্ব ঘোষের কথায়, ‘‘রক্তের মান খারাপ হয়ে যাওয়ার বাহানা দিয়ে এতদিন সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি কলকাতার ৩০ কিলোমিটারের বাইরে কোনও শিবির থেকে সংগ্র করা রক্তের উপাদান ভাগ করত না। এখন স্বাস্থ্য দফতরের চাপে তা দিব্যি করতে পারছে।’’ রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম কর্মী দীপঙ্কর মিত্রেরও বক্তব্য, ‘‘যাতে দূরের ক্যাম্প থেকে রক্ত ৬-৮ ঘণ্টার ভিতরে উপাদান পৃথকীকরণ কেন্দ্রে পৌঁছয়, তার জন্য আমরা আয়োজকেরাও এখন দ্রুত শিবির শেষ করছি। আগে খাওয়া বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সময় নষ্ট করা হত, তা হচ্ছে না।’’

আরও পড়ুন

Advertisement