×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জুন ২০২১ ই-পেপার

৫ যাত্রী নিয়েও উড়ল বিমান! পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কা

সুনন্দ ঘোষ
কলকাতা ১৪ মে ২০২১ ০৫:৪৪
জনহীন: যাত্রীদের দেখা নেই। কলকাতা বিমানবন্দরের টার্মিনাল কার্যত ফাঁকা। নিজস্ব চিত্র

জনহীন: যাত্রীদের দেখা নেই। কলকাতা বিমানবন্দরের টার্মিনাল কার্যত ফাঁকা। নিজস্ব চিত্র

বিমানকর্মীরা হাজির। হাজির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অফিসারেরাও। পুরোদস্তুর চালু বিমানবন্দর। অথচ, যাঁদের জন্য এত আয়োজন, আসছেন না সেই যাত্রীরাই।

অন্য স্বাভাবিক সময়ে কলকাতা ছেড়ে অন্য শহরে দৈনিক উড়ে যান গড়ে ৩০ হাজার যাত্রী। করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল উড়ান পরিষেবা, তখনও এ শহর ছেড়ে উড়ে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২২ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সেটা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি। টানা প্রায় ১৫ দিন যাত্রী-সংখ্যা এর আশেপাশেই ছিল।

কিন্তু, অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতেই যাত্রী-সংখ্যা কমতে শুরু করে। এতটাই যে, গত মঙ্গলবার কলকাতা থেকে অন্য শহরে উড়ে গিয়েছেন মাত্র ২৭০০ জন যাত্রী! মাথায় হাত পড়েছে উড়ান সংস্থাগুলির। এমনিতেই গত এক মাস ধরে একের পর এক উড়ান বাতিল করা হচ্ছিল। এখন কোনও সংস্থা দিনে ১০টি, কেউ ১৯টি, কেউ আবার সাকুল্যে ১২টি উড়ান চালাচ্ছে। মঙ্গলবার সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে ৫৯টি যাত্রী-বিমান অন্য শহরে উড়ে গিয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রের খবর। গড়ে প্রতি বিমানে মাত্র ৪৫ জন করে যাত্রী।

Advertisement

সামগ্রিক পরিস্থিতি যে কী করুণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবার। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, মাত্র ৫-৭ জন যাত্রী নিয়েও এ দিন পরিষেবা চালু রাখতে বাধ্য হয়েছে কিছু উড়ান সংস্থা। একটি বেসরকারি উড়ান সংস্থার এক কর্তার কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ না দিলে আমরা তো আচমকা পরিষেবা বন্ধ করে দিতে পারি না। তা-ও কলকাতা আসার সময়ে কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে।’’ অভিযোগ, এই মুহূর্তে উড়ান চালিয়ে প্রচুর লোকসান হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু, এক রকম নিরুপায় হয়েই তাঁরা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই কর্তা জানাচ্ছেন, এই হারে যাত্রী কমতে থাকলে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে করোনার লেখচিত্র নিম্নমুখী না হলে চরম বিপদে পড়বেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট উড়ান সংস্থার আর এক কর্তা বলেন, “এমনও হতে পারে, বাধ্য হয়ে উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দিল কেন্দ্র।”

কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, প্রথম লকডাউনের সময়ে ২০২০-র ২৪ মার্চ দেশ জুড়ে উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। ২৮ মে কলকাতা থেকে আবার পরিষেবা চালু হয়। তার পর থেকে মূলত পরিযায়ী শ্রমিকেরা কলকাতা ছেড়ে কেরল, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, আন্দামান-সহ বেশ কিছু জায়গায় পাড়ি দিচ্ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের অবস্থাও বেশ খারাপ। প্রচুর মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন। ওই শহরগুলিতে মৃত্যুর সংখ্যাও পশ্চিমবঙ্গের থেকে বেশি। এক উড়ান সংস্থার কর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দেখে ওই সব শহর থেকে আবার পরিযায়ী শ্রমিকেরা এই রাজ্যে ফিরতে শুরু করেছেন। ওই কর্তার কথায়, “বলতে পারেন, আমরা এখন তাঁদের দিকেই তাকিয়ে বসে আছি। ওঁরা আসা বন্ধ করে দিলে ২০ জন যাত্রীও পাওয়া যাবে কি না, জানি না।’’

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, মঙ্গলবার অন্য শহর থেকে ৫৮টি উড়ানে কলকাতায় এসেছেন ৫১০৩ জন যাত্রী। সোমবার, ৬৫টি উড়ানে ৬১৮২ জন যাত্রী এসেছিলেন কলকাতায়। সে দিন শহর ছেড়ে ৬৬টি উড়ানে অন্য শহরে উড়ে গিয়েছেন ৪৩৭৫ জন। গত রবিবার, ৯ মে কলকাতায় নেমেছেন ৫১৭০ জন এবং শহর ছেড়ে উড়ে গিয়েছেন ৩৪৪৪ জন যাত্রী। রাজ্য সরকারের নির্দেশ মোতাবেক, যে কোনও শহর থেকে এখন কলকাতায় এলে যাত্রীর সঙ্গে আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। গত ৭ মে রাত বারোটার পর থেকে এই নিয়ম জারি হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, অন্য রাজ্যে সহজে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট মিলছে না। শনিবার, ৮ মে থেকে যাত্রী সংখ্যা কমার সেটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।



Tags:

Advertisement