Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

কতটা খেলে মদে বিপদ, বলে দেবে কে?

ঋজু বসু
১৫ মে ২০১৭ ০১:৩২

কতটা মদ খেলে তাকে মাতাল বলা যায়!

তা বুঝতে এ বার লালবাজারের কর্তাদের দ্বারস্থ হবেন পানশালা-নাইট ক্লাবের মালিকেরা। কতটা মদ্যপান করে গাড়ি চালানো যাবে তার মাত্রা পুলিশই বেঁধে দিক বলে হোটেল রেস্তোরাঁ কর্তাদের একাংশ এখন দাবি করছে। মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো রুখতে পুলিশের কিছু নির্দেশের পটভূমিতে আগামী শুক্রবার হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছে।

দু’সপ্তাহ আগে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মডেল সোনিকা সিংহ চৌহানের। অভিযোগ ওঠে, তাঁর বন্ধু বিক্রম চট্টোপাধ্যায় মত্ত হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাতেই ফের সক্রিয় পুলিশ। লালবাজারের দাবি, মত্ত অবস্থায় কাউকে গাড়ি চালাতে না দিয়ে পানশালা কর্তৃপক্ষই তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করুন। এবং যন্ত্রের সাহায্যে নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে দেখা হোক, কোনও ক্রেতার রক্তে অ্যালকোহলের ভাগ বিপদসীমা পার করেছে কি না।

Advertisement

এখানেই উঠছে প্রশ্নটা। হু-র বিধি অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিমিটার রক্তে ৩০ মিলিগ্রামের বেশি অ্যালকোহল জমলেই তিনি গাড়ি চালানোর পক্ষে অনুপযুক্ত বলে ধরার কথা। এই মাপটাই মেনে চলে পুলিশ। কিন্তু কতটা মদ্যপান করলে এই বিপদসীমা পেরোবে, তা বুঝতেই যত ঝঞ্ঝাট।

ক’দিন আগে চায়না টাউন ফেরত এক বাইকচালকের নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে বিপজ্জনক মাত্রার অনেক বেশি অ্যালকোহল পেলেও তিনি পুলিশকে বলেন, মোটে দু’গ্লাস বিয়ার খেয়েছেন। আবার দেখা গিয়েছে, আড়াই পেগ হুইস্কি খেয়েও কারও রক্তে অ্যালকোহল-মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি। কেন এই গরমিল? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, কার রক্তে কতটা অ্যালকোহল জমবে তা শুধু মদ্যপানের মাত্রার উপরে নির্ভর করে না। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অজয় গুপ্তের কথায়, ‘‘কে কত ক্ষণ ধরে কী খাবারের সঙ্গে মদ খাচ্ছেন, সেটাও দেখার।’’ মানে, খালি পেটে অল্প মদেই রক্তে অ্যালকোহল বাড়তে পারে। আবার সময় নিয়ে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে খেলে অন্য ফল আসবে। মাংস বা প্রোটিনগোছের খাবারের সঙ্গে মদ খেলে রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ কখনওই বেশি বাড়বে না বলে জানাচ্ছেন অজয়বাবু। ‘‘এতশত দিক হিসেব করে নিরাপদ মাত্রার মদ্যপান করা অসম্ভব,’’ বলছেন প্যাথোলজিস্ট প্রদীপ মিত্র। তাঁর মতে, কে কতটা মদ খেয়ে হুঁশে থাকবেন, তা লিভারের বিপাকক্রিয়ার (মেটাবলিজম) উপরেও নির্ভর করে। অল্পেই কারও নেশা চড়ে যায়। তাই মদ্যপান করে গাড়ি চালানো নৈব নৈব চ বলে নিদান ডা়ক্তারদের।

পূর্ব ভারতের হোটেল-রেস্তোরাঁ সমিতির কর্তা সুদেশ পোদ্দারের দাবি, ‘‘মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়ে কেউ দুর্ঘটনা ঘটাক কখনওই চাইব না। তবে কে গাড়ি চালাবেন, তা কী ভাবে বুঝব!’’ নাইট ক্লাব কর্তাদের কারও প্রস্তাব, মদ্যপান করে কে গাড়ি চালাবেন বা চালাবেন না, তা জানতে মুচলেকা আদায়ের নিয়ম হোক। তা হলে তাঁকে মদ দিতে আরও সাবধান হবে পানশালাগুলি।

আরও পড়ুন

Advertisement