পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে করে ঝামেলায় অভিযুক্তদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এলাকার দাপুটে শ্রমিক নেতা। কিন্তু হাসপাতালে তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। কী ভাবে এক নেতা পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে অভিযুক্তদের নিয়ে এসেছেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তোলাবাজি, মারধর ও যৌন হেনস্থার ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতা-সহ আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার রাতে, বরাহনগরের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শঙ্কর রাউত, অর্পণ দত্ত, দেবাশিস দাস ওরফে বান্টি, সুবল দে, সুব্রত সরকার ওরফে সাহেব এবং দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি। শনিবার ধৃতদের ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত শ্রমিক নেতা শঙ্করের ক্লাবে ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মারধরের অভিযোগে জেলে যান শঙ্করের অনুগামী অর্পণ। শঙ্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই তোলাবাজি, মারধর, সিন্ডিকেট-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, দলের নেতারাও তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতেন না বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় বাহুবলী বলেই পরিচিত ছিলেন শঙ্কর।
পুলিশ সূত্রের খবর, বরাহনগরের বনহুগলি এলাকার একটি যৌনপল্লিতে ওই রাতে তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। তাতে জড়িয়ে পড়েন শঙ্করের সঙ্গীরা। খবর পেয়ে শঙ্কর সেখানে গেলে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন শঙ্কর সঙ্গীদের নিয়ে পুলিশের স্টিকার সাঁটা একটি গাড়িতে করে বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে যান। এর পরেই তুমুল বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়েরা। কী ভাবে পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ওই নেতা হাসপাতালে গেলেন, তা নিয়ে প্রতিবাদ করেন স্থানীয়েরা। খবর পেয়ে বরাহনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছে শঙ্কর ও তাঁর সঙ্গীদের গ্রেফতার করে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)