×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

রোড শোয়ে বাবাকে সঙ্গী করেই প্রচারে দেব

দেবমাল্য বাগচি
ডেবরা ১০ এপ্রিল ২০১৪ ০১:০১
বাবাকে (দেবের বাঁ দিকে প্রথম) পাশে নিয়ে দেব। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

বাবাকে (দেবের বাঁ দিকে প্রথম) পাশে নিয়ে দেব। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

দেব প্রচারে আসছেন। বুধবার সকাল থেকে ডেবরার বিভিন্ন এলাকায় ছিল ছুটির আবহ। এমন সময় কী আর স্কুলে পরীক্ষা দিতে ভাল লাগে? তাই স্কুল গেটে উঁকিঝঁুকি মারছিল পড়ুয়ারা। আর গেটের সামনে দেবের হুড খোলা জিপটা এসে পৌঁছাতেই পাশে হাজির স্কুলের অনেক শিক্ষকও। ফলে পরীক্ষার সময়ের দফারফা। বাধ্য হয়ে পরীক্ষার সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন রাধামোহনপুর বিবেকানন্দ হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শঙ্কর শীল বলেন, “প্রথম অর্ধের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ১১টায়। কিন্তু দেব নিয়ে পড়ুয়াদের উন্মাদনা দেখে পরীক্ষা আধ ঘণ্টা পিছোতে হয়েছে।” বুধবার দিনভর এমনই দেব-উন্মাদনায় ভাসল ডেবরা।

পরনে ফুলহাতা শার্ট কিছুটা গোটানো, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি- প্রচারে দেবকে এমনভাবেই দেখা গিয়েছে সর্বত্র। এ দিনও তার কোনও বদল হয়নি। তবে এ দিনের সংযোজন হল দেবের পাশের মানুষটি। এ দিন ডেবরার সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩২ কিলোমিটারের রোড শোয়ে দেবকে সর্বক্ষণ আগলে রাখলেন তাঁর বাবা গুরুপদ অধিকারী। অবশ্য তিনি একা নন, কালো হুড খোলা জিপে দেবের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেন রায়, জেলা কার্যকরী সভাপতি নির্মল ঘোষ, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী পরিদর্শক মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, আহ্বায়ক শঙ্কর দোলুইও। পথ প্রদর্শক ছিলেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি রতন দে ও বিধায়ক রাধাকান্ত মাইতি।

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল দশটা। পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার সীমানা ঘেঁষা ডেবরার শ্রীরামপুরে থিকথিক করছে ভিড়। এখান থেকেই শুরু হয় দেবের রোড শো। মাইকে স্লোগান ওঠে, ‘রাস্তা ধরে যাচ্ছে কে?’ জনতার চিত্‌কার ‘নায়ক দেব আবার কে’। গাড়ি এগোতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটতে থাকে উত্‌সাহী যুবকের দল। এ দিন কলেজপড়ুয়া, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় ছিল নজরে পড়ার মতো। স্থানীয় মহিলারা জানান, দেব আসবে বলে সকাল সকাল রান্নার কাজও করে রেখেছেন তাঁরা। শ্রীরামপুর থেকে গাড়ি এগিয়ে যায় আষাড়ি মোড়ের দিকে। এরপর গাড়ি এগোয় লোহনাবাদ, পলাশি ক্যানেল পাড়ের ভিড় ঠেলে রাধামোহনপুরে।

Advertisement



বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় রোড শো করলেন ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব।
রাধামোহনপুরের কাছে এক খুদেকে কোলে তুলে আদরও করেন তিনি। বুধবার রামপ্রসাদ সাউয়ের তোলা ছবি।

রাধামোহনপুরের কাছে যেতেই স্কুল গেট থেকে উঁকি মারতে থাকে পড়ুয়ারা। ইউনিট টেস্ট উপেক্ষা করেই রাস্তার দু ধারে ভিড় জমিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া কৌশিক রাজ, অর্পণ মাইতি, অনিমা করেরা। তাদের কথায়, “পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু এত সামনে থেকে দেবকে দেখার সুযোগ ছেড়ে দেব?” পরে অবশ্য স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার সময় কিছুটা পিছিয়ে দেন। এত ভক্তকে নিরাশ করেননি দেবও। কখনও মাথার উপরে প্রণামের ভঙ্গিতে হাত তুলে আশীর্বাদ চেয়েছেন, হাত নাড়িয়েছেন, হাত মিলিয়েছেন ভক্তদের সঙ্গে। প্রবল রোদকে হেসে উড়িয়ে অকাতরে বিলিয়েছেন অটোগ্রাফ। বাড়ির মহিলারা এগিয়ে এসে কেউ দিয়েছেন ফুল আবার কেউ বা পরিয়ে দিয়েছেন মালা। মাইক টেনে নিয়ে দেব বলে উঠেছেন, “আপনারা সকলে ভাল আছেন তো? আমাকে আর্শীবাদ করুন”। তবে বেলা একটা নাগাদ চড়া রোদে কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল দেবকে। ডেবরা বাজারের একটি অতিথি নিবাসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেন তিনি।

তারপর বিকেল চারটে থেকে ডেবরা বাজার থেকে শুরু হয় রোড শো। এই সময় সাদা জামা ছেড়ে দেব গলিয়ে নিয়েছেন সবুজ জামা। বিশ্রাম নেওয়ায় কিছুটা তরতাজাও দেখাচ্ছিল তাঁকে। ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ি ছোটে দ্বারিকাপুর, খড়্গপুর-২ নম্বর ব্লকের বুড়ামালা বাজারের দিকে। সেখান থেকে শ্যামচক হয়ে ৯ কিলোমিটার মোরাম রাস্তা ধরে বালিচক। স্থানীয় মানসী নন্দী, প্রদীপ মান্নারা বলেন, “দেবের অনেক সিনেমা দেখেছি। এ বার সামনাসামনি দেখব বলে প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। ওকে সামনে দেখতে পেয়ে নিজেদের ধন্য লাগছে।”

দু’ সপ্তাহ আগে ঘাটালেও রোড শো করেছিলেন দেব। ভিড়ের চোটে দু’কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লেগে গিয়েছিল দু’ঘণ্টা। সময়ের অভাবে ৩০ কিলোমিটারের যাত্রাপথ থেমে গিয়েছিল কুড়ি কিলোমিটারে। তবে বুধবার সেই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হয়নি। ৩২ কিলোমিটার পথের প্রচার শেষ হল সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভদনা বরুণ চন্দ্রশেখর বলেন, “ভিড় থাকলেও এ দিন কোনও বিশ্ৃঙ্খলা হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই এ দিনের রোড শো হয়েছে।”

Advertisement