×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

স্টেডিয়ামে দেব, কর্মীদের হিড়িক ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ

বরুণ দে
মেদিনীপুর ১৬ মার্চ ২০১৪ ০৪:১৬
মেদিনীপুরে তৃণমূলের কর্মিসভার প্রবেশপত্র। —নিজস্ব চিত্র।

মেদিনীপুরে তৃণমূলের কর্মিসভার প্রবেশপত্র। —নিজস্ব চিত্র।

এ যেন ‘চ্যালেঞ্জ থ্রি’!

ভোটের বাজারে প্রার্থীর সভায় ভিড় জমাতে আগে থেকে হোমওয়ার্ক করতে হয় প্রায় সব দলকেই। কিন্তু মেদিনীপুর তৃণমূলের এখন উল্টো মাথাব্যথা মঙ্গলবার তাদের প্রার্থীদের দেখতে ভিড়ের চাপে অরবিন্দ স্টেডিয়ামের গেটটাই না ভেঙে পড়ে! অবাঞ্ছিত ভিড় এড়াতে প্রবেশপত্রও করা হচ্ছে।

দোল পার করে আগামী মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) মেদিনীপুরে পা রাখছেন দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ঘাটাল কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন। কিন্তু জেলার নেতা-কর্মীদের প্রায় কাউকেই তিনি চেনেন না। যেমন চেনেন না মেদিনীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী সন্ধ্যা রায়ও। এই দুই তারকা প্রার্থী আর ঝাড়গ্রামের চিকিৎসক প্রার্থী উমা সরেনকে নিয়ে তাই অরবিন্দ স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি সভা করতে চলেছে তৃণমূল। মুকুল রায়, সুব্রত বক্সী এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও সেখানে থাকার কথা।

Advertisement

তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা চেয়ারম্যান মৃগেন মাইতি বলেন, “আমরা ঘেরা জায়গায় কর্মিসভা করতে চাইছি। মেদিনীপুর শহরের অরবিন্দ স্টেডিয়ামই সে দিক থেকে ভাল জায়গা।” দল সূত্রের খবর, কর্মিসভায় বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। আর সেখানেই আশঙ্কা। ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘চ্যালেঞ্জ-২’র নায়ককে কাছ থেকে দেখতে জেলায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা এতটাই চড়েছে যে, তাঁদের সামাল দেওয়াটাই এখন নেতাদের কাছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে! দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোৎ ঘোষ বলেন, “দেবকে ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ওই দিন যাতে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপত্র করা হচ্ছে। তা দেখিয়েই প্রতিনিধিদের স্টেডিয়ামে ঢুকতে হবে।”

শুরুতে ঠিক ছিল বুধবার (১৯ মার্চ) মেদিনীপুর শহরের কোনও মাঠে প্রস্তুতি সভা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার দুপুরে ফোনে জেলা সভাপতি দীনেন রায়কে মমতা জানান, মঙ্গলবারই জেলায় যাচ্ছেন দেব। সেই দিনই সভা করতে হবে। কর্মিসভা কোথায় হবে, তা-ও জানতে চান মমতা। দীনেনবাবু জানান, তাঁরা বিদ্যাসাগর হলের মাঠ বেছেছেন। কিন্তু নেত্রী বলেন, কোনও বড় মাঠে সভা করতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক ও একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলছে। তাই স্কুলের মাঠগুলিতে সভা করা সম্ভব নয়। সে দিন বিকেলেই স্টেডিয়াম ভাড়া করতে ছোটেন প্রদ্যোৎবাবু। কিন্তু ভিড় সামাল দেওয়া যাবে কী করে? দু’দিন আগেই দীনেনবাবুদের ভাড়া করা একটি গাড়িকে দেবের গাড়ি বলে ভুল করে কেশপুর বাজারে জনতা যে ভাবে ধেয়ে এসেছিল, তাতে সত্যি দেব এলে কী হতে পারে, তা বুঝে গিয়েছেন নেতারা। অরবিন্দ স্টেডিয়ামের মাঠ ৮৮০০ বর্গমিটারের। গ্যালারির আট হাজার আসন ধরলে সব মিলিয়ে হাজার দশেক লোক ভাল ভাবে বসতে পারে। তাই প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, জেলার ২৯টি ব্লকের হাজার দশেক কর্মীকে নিয়ে প্রস্তুতি সভা হবে। ব্লক পিছু গড়ে তিনশো প্রবেশপত্র বিলি করা হবে। আটটি পুর এলাকায় দেওয়া হবে দু’শো করে। তবে হিসেবের বাইরেও অত্যুৎসাহী কর্মীরা আসতে পারেন ধরে নিয়ে বাড়তি হাজার পাঁচেক প্রবেশপত্র ছাপানো হচ্ছে। দেবকে নিয়ে যা উন্মাদনা, তাতে আগামী দিনে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার কতটা চালানো যাবে, তা-ও ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। এক জেলা নেতার আশঙ্কা, “প্রিয় তারকাকে দেখতে লোকে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। বিশেষ করে অল্পবয়সীরা। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রার্থীকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সম্মেলন করা কঠিন। দু’একটি জনসভা হতে পারে। আর বড়জোর রোড-শো।”

চ্যালেঞ্জ ৪, ৫, ৬... আরও কত চ্যালেঞ্জ যে বাকি রয়ে গেল...!

Advertisement