Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

আজ মেদিনীপুরে রাহুল

সভায় রেকর্ড জমায়েতই লক্ষ্য বিজেপি-র

লোকসভার ভোটের পর এই প্রথম মেদিনীপুর শহরে সভা করতে চলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। আজ, বুধবার দুপুরে শহরের গাঁধীমূর্তির পাদদেশের সামন

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেদিনীপুর ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০২:১১
Save
Something isn't right! Please refresh.
গাঁধী মূর্তির পাদদেশে সভার প্রস্তুতি। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

গাঁধী মূর্তির পাদদেশে সভার প্রস্তুতি। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

Popup Close

লোকসভার ভোটের পর এই প্রথম মেদিনীপুর শহরে সভা করতে চলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। আজ, বুধবার দুপুরে শহরের গাঁধীমূর্তির পাদদেশের সামনেই এই সভা হবে।

আজকের সভায় বিপুল জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বিজেপি। সভা ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তেজনার পারদও চড়তে শুরু করেছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন গ্রামাঞ্চলে দলের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে, শাসাচ্ছে। রাহুল সিংহের সভাকে যে তাঁরা হালকা ভাবে নিচ্ছেন না, তা তৃণমূল নেতৃত্বও বুঝিয়ে দিয়েছেন। গত রবিবারই দলের বর্ধিত সভা ডেকে শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবার জেলার সব অঞ্চল এবং ওয়ার্ডে মিছিল করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, বিজেপির সভায় ভিড় ঠেকাতেই তৃণমূলের এই কৌশল। তৃণমূল নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদ-সহ নির্দিষ্ট কিছু দাবির প্রেক্ষিতেই এ দিন দলের সকলে পথে নামবেন। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “রেকর্ড সংখ্যক মানুষের জমায়েত হবে বুঝতে পেরেই তৃণমূলের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করেছে। মানুষ যাতে আমাদের সভায় না আসতে পারেন, তার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ ভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না। বুধবারের সভাই প্রমাণ করে দেবে মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন।” অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেন রায়ের দাবি, “জেলার সর্বত্রই শান্তির পরিবেশ আছে। কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়াতে পারে। তবে দলের কর্মীদের কোনও রকম প্ররোচনায় পা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আগামী ৩০ ডিসেম্বর দুই মেদিনীপুরের কর্মীদের নিয়ে খড়্গপুর গ্রামীণের রূপনারায়ণপুরের কাছে সাংগঠনিক সভা করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোড়ায় ঠিক ছিল, তৃণমূলনেত্রীর সভা হবে ২৪ নভেম্বর। পরে ঠিক হয়, সভা হবে ১৯ ডিসেম্বর। তারও পরে ঠিক হয়, সভা হবে ২০ ডিসেম্বর। সপ্তাহ দেড়েক আগে ফের সভার দিন পরিবর্তন হয়। ২০ ডিসেম্বর তৃণমূলনেত্রীর সভা হবে ধরে নিয়েই মেদিনীপুরে রাহুল সিংহের সভার দিন চূড়ান্ত করেন বিজেপির নেতৃত্ব। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তৃণমূলনেত্রী জেলায় এসে যা বলবেন, দলের রাজ্য সভাপতি সভা থেকে তাঁরই জবাব দেবেন। অবশ্য তা হচ্ছে না। ‘জবাবি’ সভা বদলে যাচ্ছে সাধারণ সভায়! এখন বিজেপি নেতৃত্বের আশা, বুধবারের সভায় রাহুলবাবু যে সব প্রশ্ন তুলবেন, জেলায় এসে তার জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওদের (তৃণমূল) সভার দিনক্ষণ দফায় দফায় পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের তা হয় না।” তাঁর কথায়, “এটা ঠিক, গোড়ায় আমরা জানিয়েছিলাম, তৃণমূলনেত্রীর সভার পরপরই মেদিনীপুরে রাহুল সিংহের সভা হবে। কিন্তু ওদের সভা তো দফায় দফায় পিছোচ্ছে। আশা করব, শহরের সভায় রাহুলদা যে সব প্রশ্ন তুলবেন, তৃণমূলনেত্রী জেলায় এসে তার জবাব দেবেন।”

লোকসভা ভোটের পর থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের কর্মী সংখ্যাও বাড়ছে। বিভিন্ন দল ছেড়ে অনেকেই গেরুয়া-শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। লোকসভা ভোটের পর এর আগে একদফা জেলা সফরে এসেছেন রাহুল সিংহ। তবে সদর শহরে সভা করেননি। খড়্গপুর গ্রামীণ সহ কয়েকটি এলাকায় তিনি সভা করেন। পরিবর্তীত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রথম সভা করতে চলেছেন মেদিনীপুর শহরে। অগষ্ট গত অগস্টেই সদর শহরে এসে সভা করার কথা ছিল রাহুলবাবুর। প্রস্তুতিও সারা হয়েছিল। তবে পুলিশ অনুমতি না- দেওয়ায় সভা হয়নি। বদলে দলের কর্মী- সমর্থকেরা শহরে মিছিল করেন। এ বার অবশ্য সভার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ফোনে জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের সঙ্গে কথা হয়েছে বিজেপির জেলা সভাপতি তুষারবাবুর। বিজেপির জেলা সভাপতি ভারতীদেবীকে কিছু নালিশই জানিয়েছেন। তৃণমূলের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গোলমাল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তুষারবাবু বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে। এই সব ঘটনায় আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী প্রহৃত হয়েছেন। আমাদের কিছু আশঙ্কার কথাই পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। আশা করব, পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই করবে।” সভায় বিভিন্ন দল ছেড়ে বেশ কিছু কর্মী বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলেও দলের এক সূত্রে খবর।

ফের বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার নালিশ

নিজস্ব প্রতিবেদন

রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের সভার আগে বারবার বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে সবংয়ের ভেমুয়ার বসন্তপুরে তিন বিজেপি কর্মী প্রহৃত হন। বিজেপির অভিযোগ, এলাকায় দলের সক্রিয় কর্মী শম্ভু পাঁজা, রবি পাঁজা ও অমিত শিটের বাড়িতে চড়াও হয় তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের বাড়ি থেকে ডেকে মারধর করা হয়। বলা হয় আজ, বুধবার মেদিনীপুরে রাহুল সিংহের সভায় যাওয়া চলবে না। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অবশ্য পুলিশে অভিযোগ হয়নি। বিজেপি-র অঞ্চল সভাপতি স্বপন দাসের বক্তব্য, “বারবার আমাদের উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলের নামে অভিযোগ করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে তৃণমূলের অত্যাচার বেড়েছে। সন্ত্রাসের ভয়েই থানায় যাওয়া হয়নি।” রাহুলের সভায় লোকসমাগম আটকাতেই তৃণমূল হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। দলের জেলা কমিটির সদস্য অন্তরা ভট্টাচার্য বলেন, “রাহুল সিংহের সভার বিপুল জমায়েত আঁচ করতে পেরেই হিংস্র হয়ে উঠেছে তৃণমূল। তবে তৃণমূলের এই চেষ্টা বিফলে যাবে।” সবংয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রভাত মাইতি বলেন, “ওখানে বিজেপি বলে কিছু নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ।”সোমবার রাতে ঘাটাল থানার মনসুকায় আবার তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে ৮ জন জখম হন। আহতদের মধ্যে তিন তৃণমূল কর্মীকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। দু’পক্ষই অভিযোগ করেছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আজ, বুধবার মেদিনীপুরে রাহুল সিংহের সভা উপলক্ষে সোমবার রাতে মনসুকায় বিজেপির বৈঠক চলছিল দলীয় কর্মী সুকুমার হাজরার বাড়িতে। বিজেপি-র ঘাটাল ব্লকের গ্রামীণ মণ্ডল কমিটির সম্পাদক স্বরূপ সামুইয়ের নেতৃত্বে শতাধিক বিজেপি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “বৈঠক চলাকালীন খবর আসে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা জড়ো হয়েছে।” দলের স্থানীয় নেতা রামপদ দে, স্বরূপ সামুইয়ের বক্তব্য, “বৈঠক শেষ হতেই তৃণমূলের লোকজন আমাদের কয়েকজন কর্মীর উপর চড়াও হয়। চার জন আহত হয়।” ঘাটাল ব্লকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মাঝি অবশ্য বলেন “আমরা আক্রমণ করিনি। বিজেপি কর্মীরাই আমাদের লোকজনকে মারধর করে।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement