Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

প্রত্যাশিত ভিড় হল না দেবের রোড-শোয়ে, ত্রুটি পরিকল্পনায়

দেবমাল্য বাগচি
পিংলা ১৭ এপ্রিল ২০১৪ ০১:০০
বুধবার পিংলায় দেবের রোড-শো। ছবি: কিংশুক আইচ।

বুধবার পিংলায় দেবের রোড-শো। ছবি: কিংশুক আইচ।

দেব আর জনস্রোত পরিপূরক। এটাই ছিল এত দিনের দস্তুর। বুধবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের তারকা প্রার্থীর রোড-শোয়ে সেই পরিচিত ছবির কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম দেখল পিংলা। সৌজন্যে, দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনার ত্রুটি।

এ দিন সকাল ৯টায় পিংলার কালীতলা মোড় থেকে রোড-শো শুরুর কথা ছিল এই তারকা প্রার্থীর। জলপাইগুড়িতে জনপ্রিয় নায়ককে দেখতে উন্মাদনা ঘিরে যে অব্যবস্থা সামনে এসেছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ দিন আটোসাঁটো নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল। পর্যাপ্ত সিভিক ও মহিলা পুলিশ, দলীয় স্বেচ্ছাসেবকও রাখা হয়েছিল। কিন্তু, কতগুলি মূল রাস্তার মোড় ছাড়া প্রত্যন্ত মোরাম রাস্তা দিয়ে রোড-শো যাওয়ায় তুলনায় কম ভিড় ছিল এ দিন। যা এত দিনের প্রচার কর্মসূচির সঙ্গে বেমানান। কেন? নেতৃত্বের যুক্তি, প্রত্যন্ত গ্রামের দীর্ঘ পথ বাছাইয়ে ‘ভুল’ ছিল।

পিংলা বিধানসভা এলাকায় দলের নির্বাচনী চেয়ারম্যান অজিত মাইতি বলেন, “সব গ্রাম পঞ্চায়েত ছঁুতেই এই প্রত্যন্ত গ্রামগুলির উপর দিয়ে দীর্ঘ পথে রোড-শো করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তাতে কিছুটা কম লোক হয়েছে তা মানছি।” তাঁর যুক্তি, এখন সর্বত্র ধান কাটা চলছে। তাতেও লোক কিছুটা কম হয়েছে। পাশাপাশি, বিপুল জনসমাগম এড়াতে তাঁরা তেমন প্রচার করেননি বলেও মানছেন এই নেতা।

Advertisement

বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু জায়গায় জনস্রোতে ভাটা থাকলেও সর্বত্রই ‘দেব’ভক্তদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কালীতলা থেকে ঘোড়ামারা যাওয়ার রাস্তায় প্রিয় নায়ককে কাছ থেকে দেখতে হাতে ফুল নিয়ে সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কলেজ ছাত্রী কেতকী রায়, সহেলী দাসেরা। চড়া রোদে রোড-শোয়ের পিছু পিছু ছুটছিলেন রাজু ঘোড়ই। ছুটতে ছুটতে এসে তিনি প্রিয় নায়ককে রোদ থেকে আড়াল করতে নিজের টুপিটাই এগিয়ে দেন। যদিও প্রার্থী দেব রাজুকেই ইশাড়ায় টুপি পড়ে থাকতে বলেন। দেবের অনুরোধে একটি গাড়িতে উঠে যান তিনি। রাজু বলেন, “আমি দেবদার ভক্ত। ও গরমে কষ্ট পাবে তাই টুপি দিচ্ছিলাম। কিন্তু, ও আমার কথা ভেবেই টুপি ফেরাল!” রাজু আশাবাদী তাঁর দাদাকে সবাই ভোট দেবেন।

রোড-শো শুরুর প্রথম দু’শো মিটার পর থেকে ভিড় কিছুটা পাতলা হলেও পরে ক্ষীরাই পৌঁছালে সেই পরিচিত উন্মাদনার দৃশ্য চোখে পড়েছে। কেউ ফোম স্প্রে করে, কেউ ফুল ছিটিয়ে ‘পাগলু’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আশির্বাদ চেয়েছেন দেবও। প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা ধরে কাঁটাপুকুর, মীরপুর, যশোরাজপুরের দিকে এগিয়ে গিয়েছে রোড-শো। কিন্তু, নির্দিষ্ট কতগুলি মোড় এলাকার ভিড় ছাড়া বাকি রাস্তা ছিল তুলনায় শুনশান। কিছু এলাকায় বাড়ির বারান্দা, ছাদ থেকে হাত নেড়েছেন দেবভক্তেরা। দেবও ছুড়ে দিয়েছেন ‘ফ্লাইং কিস’। যশরাজপুর হরেকৃষ্ণ প্রাইমারির কাছে একটি বাড়িতে সংকীর্তন দেখে, মজা করে খাওয়ানোর জন্য ইঙ্গিতও করেছেন।

এর পর রাজমা, কুঞ্জপুর, কুলতাপাড়া হয়ে সাহরদার দিকে এগিয়ে গিয়েছে রোড-শো। সাহরদা কালীপদ বিদ্যাপীঠের কাছে দেবের অপেক্ষায় ছিলেন স্কুল পড়ুয়া সঞ্জীব মাইতি, রঞ্জিত বেরা, মৌসুমী বেরারা। আল্পুত তারাও। রাগপুরের দিকে এগিয়ে যায় গাড়ি। সেখানেই মাইক হাতে দেব বলেন, “আশীর্বাদ করুন, যেন জিততে পারি। আপনাদের পাশে থাকতে পারি।” গাড়ি এগোতে থাকে গোবর্ধনপুর, চণ্ডীপুরের দিকে। প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ততক্ষণে ক্লান্ত নায়কও।

পিংলা পেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সীমানা এলাকা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের ময়না ব্লকও ছুঁয়ে যায় দেবের রোড-শো। ময়নার মুদিবারে রোদ উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্যামলী সামন্ত, মৌ মাইতি, বিষ্ণুপদ পাইকরা। বেলা ১টায় পিংলার জলচক পৌঁছনোর কথা থাকলেও দেব যখন সেখানে পৌঁছলেন তখন বেলা আড়াইটে।

এ দিন যে অন্য জায়গার তুলনায় ভিড় কম হয়েছে তা মানছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বেলা গড়ালে বিকেলে ভিড় হয় রোড-শো ঘিরে। স্থানীয় জলচক হাইস্কুল সংলগ্ন মাঠের একটি সভায় দেব বলেন, “আপনাদের মাঝে এসে ভাল লাগছে। আশীর্বাদ, দোয়া করবেন। যেন জিততে পারি।” সময়ের অভাবে এ দিন রোড-শো যেতেও পারেনি এগারো মাইল ও সাঙ্গার এলাকায়। বাতিল করা হয় সাঙ্গারের জনসভাও।

আরও পড়ুন

Advertisement