Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিমা রয়েছে নামে, কৃষকেরা সেই বঞ্চিতই

বিকল্প চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিতে বিমার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চাষের সময়ের সঙ্গে সরকারি নিয়মের তাল না মেলায় সমস্যায় পড়েছেন কৃষিজীবীরা। সামনেই ধ

সুমন ঘোষ
মেদিনীপুর ০৪ জুন ২০১৪ ০০:৩৪

বিকল্প চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিতে বিমার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চাষের সময়ের সঙ্গে সরকারি নিয়মের তাল না মেলায় সমস্যায় পড়েছেন কৃষিজীবীরা।

সামনেই ধানের মরসুম। কিন্তু কৃষিজীবীরা চিন্তায় পড়েছেন ধানের বিমা করা নিয়ে। সরকারি নিয়ম মতো, ধানের বিমা করতে হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে। কিন্তু কৃষিজীবীরা জানাচ্ছেন, ধান রোওয়ার কাজ শেষ করতে করতে এ রাজ্যে সেপ্টেম্বর গড়িয়ে যায়। তাই বিমার ব্যবস্থা থাকলেও এক্ষেত্রে কত জন চাষি তার সুবিধা নিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্যার একটি সমাধানের পথও রয়েছে। যেমন, যদি কোনও কৃষিজীবী ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করতে চান, তা হলে তাঁকে বিমা নিয়ে এই বিধিনিষেধ মানতে হবে না। ব্যাঙ্ক নিজের তাগিদেই সময় পেরিয়ে গেলেও ওই চাষিকে বিমার আওতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু সরকারি হিসেব মতোই, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেন মাত্র গুটিকয়েক কৃষকই। বেশিরভাগই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেন না। তাই তাঁদের বিমার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

ধানচাষিদের মতো বিপাকে পড়েছেন বাদাম চাষিরাও। খরিফে বাদাম চাষের ক্ষেত্রে এ বার বিমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরে সব থেকে বাদাম চাষ করা হয় খরিফেই। কৃষি দফতরের পরিসংখ্যানই বলছে, জেলায় গ্রীষ্মকালীন বাদাম চাষ হয়েছে ৯৮১৫ হেক্টর, রবি মরসুমে বাদাম চাষ হয়েছিল ৭০০ হেক্টর আর গত বছর খরিফ মরসুমে এই চাষ হয়েছিল মাত্র ৪০০ হেক্টর জমিতে। কারণ, এই সময় সকলেই বেশি ধান চাষ করেন। সব থেকে বেশি বাদাম চাষ হয় গ্রীষ্মকালেই। তবু সেক্ষেত্রে কেন বিমার ব্যবস্থা নেই?

Advertisement

কৃষি দফতর জানিয়েছে, কোন চাষে চাষি কখন বিমা করাতে পারেন, সেই সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। বছরে দু’বার দু’টি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য কৃষি দফতর। সেই নির্দেশিকায় কোন ব্লকের কোন কোন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কোন ফসল বিমার আওতায় আসবে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। সেই মতোই জেলাতে বৈঠক করে পদক্ষেপ করা হয়।

এ তো গেল বিমা জটিলতার একটি দিক। এর বাইরেও নানা জটিলতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম হল, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ না নিয়ে চাষ করছেন এমন কৃষকদের বিমা পেতেও অসুবিধা হয়। ব্যাঙ্কগুলিই সেই কৃষকদের বিমা দিতে আগ্রহ দেখায় না বলে কৃষিজীবীদের অভিযোগ। তা ছাড়া, ফসল পিছু খরচ কত হতে পারে, জেলাস্তরে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই নিরিখে ঠিক করা হয়, বিমার প্রিমিয়াম কত হবে। চলতি বছরের খরিফ মরসুমে যেমন আউস ধানের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ঠিক করা হয়েছে ৩.৭ শতাংশ। যার মধ্যে ২.২৭ শতাংশ কৃষকের দেওয়ার কথা থাকলেও তা রাজ্য সরকারই দিয়ে দেবে বলে জানিয়েছে। আমন ধানের ক্ষেত্রে ৩.৬৮ শতাংশ, বাদামের ক্ষেত্রে ৭.৯৫ শতাংশ প্রিমিয়াম ধার্য করা হয়েছে। যার মধ্যে কৃষকের অংশের ২.২১ শতাংশ ও ৩.৯৭ শতাংশ সরকারই দিয়ে দেবে। অর্থাৎ বিমা করার জন্য কৃষকের কোনও খরচ লাগবে না।

কিন্তু সমস্যা হল, বিমার জন্য কোন কৃষক কতটা জমি চাষ করেছেন, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে জানাতে হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে। ব্যাঙ্ক তা বিমা সংস্থাকে জানাবে ১৫ অগস্টের মধ্যে। এক প্রবীণ কৃষকের বক্তব্য, “এখন বর্ষা দেরি করে আসে বলে ধান রোওয়াও দেরি করেই হয়। কিন্তু বিমা পেতে গেলে আমার যে ধান রোওয়া হয়ে গিয়েছে, তা দেখাতে হয়। এ বছর তা সম্ভব হবে না। তাই ইচ্ছে থাকলেও এ বার বিমা করাতে পারব না।” তার উপরে, আর এক কৃষক রবীন্দ্রনাথ পাত্র বলেন, “যে টুকু ধান রোওয়ার কাজ হয়েছে, বিমার জন্য ছোটাছুটি করতে গেলে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হবে। ধান রোওয়ার সময় নাওয়া-খাওয়ারও সময় থাকে না। এ কথা সরকার বুঝছে না।”

কী বলছে কৃষি দফতর? দফতরের জেলা তথ্য আধিকারিক দুলাল দাস অধিকারীর বক্তব্য, “কৃষকদের সমস্যার কথা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আশা করছি, সমাধান সূত্র কিছু একটা বেরোবে।”

কী কী জটিলতা

• সব মরসুমে সব ফসল বিমার আওতায় নেই। নেই সমস্ত ব্লক বা সব গ্রাম পঞ্চায়েতও।

• অঋণী কৃষকদের সহজে আবেদনপত্র দিতে রাজি হয় না ব্যাঙ্ক।

• যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমা করার কথা, সেই সময়ের মধ্যে চাষই হয় না।

• বিমার সময় ব্যাঙ্কগুলি এসব নিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে কিনা নেই নজরদারি।

আরও পড়ুন

Advertisement