Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বামেদের সঙ্গে মনোনয়ন মানসেরও

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেদিনীপুর ১৮ এপ্রিল ২০১৪ ০১:৩৬
মিছিল করে মনোনয়নের পথে বামপ্রার্থীরা। সামিল নেতৃত্বও। ছবি: কিংশুক আইচ।

মিছিল করে মনোনয়নের পথে বামপ্রার্থীরা। সামিল নেতৃত্বও। ছবি: কিংশুক আইচ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন বাম প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দিলেন বৃহস্পতিবার। এ দিন মনোনয়ন দিয়েছেন ঘাটাল কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মানস ভুঁইয়াও। সঙ্গে এসইউসি-সহ কয়েক জন নির্দল প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মনোনয়ন জমা পড়েছে মোট ২০টি। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে অবশ্য এখনও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উল্টে সৌজন্যের ছবি দেখা গিয়েছে। একপক্ষ মনোনয়ন জমা দিতে ঢুকলে অন্যপক্ষ ধৈর্য ধরে বাইরে অপেক্ষা করেছেন। বহু বছর আগের নির্বাচনী ময়দানে বিবাদে জড়িয়ে পড়া দু’জনকে করমর্দন করতেও দেখা গিয়েছে।

এ দিন সকালেই মনোনয়ন জমা দিতে হাজির হন ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মানস ভুঁইয়া। তবে কোনও আড়ম্বর ছিল না। সঙ্গে ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা ভাই বিকাশ ভুঁইয়া, কংগ্রেস নেতা মহম্মদ রফিক-সহ গুটিকয় দলীয় নেতা-কর্মী। মনোনয়ন দিয়ে বেরিয়ে মানসবাবু বলেন, “সব এলাকা চষে বেড়াচ্ছি। মানুষকে একটা কথাই বলছি, একবার সবংয়ে গিয়ে দেখে আসুন কেলেঘাই-কপালেশ্বরীর সংস্কার। যে পথ দিয়ে যাবেন সেই ডেবরা থেকে সবং পর্যন্ত রাস্তাটিও আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করে বানিয়েছিলাম। দ্রুত সবং পৌঁছে যাবেন। আমি থাকলে এ ভাবেই কাজ করব।” একই সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছেন মানসবাবু। কোথাও কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, কোথাও পতাকা ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “সব ঘটনা জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। এ বার বিশেষ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক থেকে কমিশনেও জানাব। আমি চাই অবাধ নির্বাচন হোক।”

Advertisement



মানসবাবুর মনোনয়ন চলাকালীনই হাজির হন তিন বাম প্রার্থী প্রবোধ পাণ্ডা, সন্তোষ রানা ও পুলিন বিহারী বাস্কে। মিছিল করে মনোনয়ন দিতে আসেন প্রার্থীরা। মিছিলে হাঁটেন সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মঞ্জুকুমার মজুমদার, সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত, সিপিএমের জেলা সম্পদাক দীপক সরকারের মতো বাম নেতৃত্ব। মেদিনীপুরে সিপিআই প্রার্থী প্রবোধ পণ্ডা নাম না করে প্রতিপক্ষ সন্ধ্যা রায়কে কটাক্ষ করেন। মনোনয়ন দিয়ে বেরিয়ে প্রবোধবাবু বলেন, “আমি আজ জানলাম আমার আগে যে তৃণমূল প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাঁর কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। আমাদের সর্ববৃহত্‌ গণতন্ত্রে তো ভারতীয় নাগরিক আর ২৫ বছর বয়স হলেই নির্বাচনে লড়াই করা যায়। ওঁরা তারকা। তারা আকাশে দেখা যায়। আর আমরা মাটিতে থাকি। মানুষই সব দেখে ঠিক করবেন, কাকে নির্বাচিত করবেন।” ঝাড়গ্রামের সিপিএম প্রার্থী পুলিনবিহারী বাস্কের দাবি, “যদি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয় তাহলে নির্বাচনের লড়াইটাই অন্য রকম হবে।” সিপিআই নেতা মঞ্জুবাবু আবার অভিযোগ করেন, “সারা রাজ্য জুড়েই তো সন্ত্রাস চলছে। মানুষকে বুঝতে হবে তাঁরা কোন দিকে যাবেন।”

গত ১২ এপ্রিল থেকে মনোনয়ন শুরু হলেও বুধবার থেকে মনোনয়ন জমা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। দু’দিনে ঘাটালে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ছাড়া দু’জন নির্দল প্রার্থী অঞ্জন জানা ও গোপাল মুর্মুু মনোনয়ন দিয়েছেন। ঝাড়গ্রামে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৬ জনের। তৃণমূল, কংগ্রেস, বিজেপি, বামফ্রন্ট ছাড়াও মুরারিমোহন বাস্কে ও রামপদ হাঁসদা নামে দুই নির্দল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। আর মেদিনীপুরে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৫টি। তৃণমূল, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও বিজেপি ছাড়াও এসইউসি-র তুষার জানা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

Advertisement