Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৫ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

প্রাচীন পুরসভা ঘাটালে পরিষেবা তিমিরেই

চিত্র এক: ঘাটাল শহরের জমজমাট কুঠিবাজার এলাকা। প্রতিদিনই গজিয়ে উঠছে নিত্যনতুন দোকান। ফুটপাথ দখল হয়ে যাচ্ছে ছোট্ট গলিঘুঁজির ভিতরেও। আর সরু হয়ে

অভিজিৎ চক্রবর্তী
২১ অক্টোবর ২০১৪ ০০:০১
Save
Something isn't right! Please refresh.
সরু রাস্তা দিয়ে চলাই দায়। ঘাটাল বাজারে তোলা নিজস্ব চিত্র।

সরু রাস্তা দিয়ে চলাই দায়। ঘাটাল বাজারে তোলা নিজস্ব চিত্র।

Popup Close

চিত্র এক: ঘাটাল শহরের জমজমাট কুঠিবাজার এলাকা। প্রতিদিনই গজিয়ে উঠছে নিত্যনতুন দোকান। ফুটপাথ দখল হয়ে যাচ্ছে ছোট্ট গলিঘুঁজির ভিতরেও। আর সরু হয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলার সময় গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে যাতায়াত নতুন কিছু নয়। রাস্তা এতই সঙ্কীর্ণ যে আগুন লেগে গেলে দমকলের গাড়ি ঢোকাও মুশকিল।

চিত্র দুই: বেহাল নিকাশির কারণে প্রায়ই নর্দমা উপচে জল উঠে আসে রাস্তায়। এমনকী অনেক এলাকার নিকাশির কোনও ব্যবস্থাই নেই। এমনকী পানীয় জলের সমস্যা নিয়েও মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

ঘাটাল পুরসভার বিভিন্ন এলাকার ছবিটা এমনই। অথচ ঘাটাল পুরসভার বয়স দেখতে দেখতে পেরোতে চলেছে প্রায় দেড়শো বছর। বাম আমল থেকে ডান-বছরের পর বছর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আশার আগুন বুকে জাগিয়ে রেখে সকলেই ভোট নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ১৮৬৯ সালে তৈরি হয়েছিল ঘাটাল পুরসভা। এই জনপদে এখন মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। বাড়ছে শহরের বহর। ফলে চাপে নাভিশ্বাস উঠেছে শহরের। শহরের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে বাসিন্দাদের যে আরও ভাল পরিষেবা দেওয়া উচিত, তা নিয়ে কারও উচ্চবাচ্যও নেই।

Advertisement

ঘাটাল শহরের জন্ম কত সালে হয়েছিল তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। নদীর তীর ধরে মানুষ বসতি স্থাপন করেছিলেন। জমিকে করে তুলেছিলেন শস্য শ্যামলা। জলপথেই গড়ে উঠত বাণিজ্যিক সম্পর্ক। জলপথেই যাতায়াত তাই নদীর উপর একাধিক ঘাট বানিয়েছিলেন ইংরেজ বণিকরা। ওই ঘাটেই লঞ্চ, নৌকা এসে দাঁড়াত। এই ঘাট থেকেই হয়তো ঘাটাল শব্দটি এসে থাকতে পারে। ঘাটাল শহর বহু বছর আগেও ব্যবসার কেন্দ্র ছিল। ঘাটালের আশপাশে রয়েছে বহু প্রাচীন শহর। ইতিউতি ছিল বেশ কয়েকটি নীল কুঠিও। সেখানে নীলকর সাহেবরা থাকতেন ঘাটাল শহরের প্রধান বাজারটির নাম কুঠিবাজার। ওলন্দাজরা আগে এই কুঠি তৈরি করেছিল। সেখানে রেশম বস্ত্র, লাক্ষা, সুতি বস্ত্র, নীল ব্যবসা হত। পরে ওই বাজার দখল নেয় ইংরেজরা। ঘাটালের ইতিহাস নিয়ে নানা চর্চা অনেকেই করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন রোহিণীনাথ মঙ্গল বলেন, “ইংরেজ শাসন শেষে ওই বাজার চলে যায় এক মাড়োয়াড়ির হাতে। তৈরি হয় ট্টাস্ট। ওই ট্রাস্টই এখন ওই কুঠি দেখভাল করে।”

কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা শহরের সবর্ত্রই নানা সমস্যা। প্রথমেই ধরা যাক শহরের প্রাণ কেন্দ্র কুঠিবাজার। যেখানে কয়েক’শ দোকান রয়েছে। ওই বাজার ছাড়াও পাশাপাশি রয়েছে পোস্তবাজার, আলমগঞ্জ, নিউ মার্কেট-সহ নানা বাজার। দিন কয়েক আগে, একজন দোকানদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার সময় ওই গলিপথে অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকেনি। রোগীকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে আসতে হয় বড় রাস্তা পর্যন্ত। তবু কারও হুঁশ নেই। হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে কিছু দিন হইচই হয়। তখন আশ্বাসের বন্যা বইতে থাকে। কয়েক দিন পর সব শান্ত। আবার আগের মতোই চলতে থাকে সব কিছুই। শুধু বাজার বললে ভুল হবে। শহরের কুশপাতা, কৃষ্ণনগর, আড়গোড়া, গম্ভীরনগর ও কোন্নগর-সব এলাকার রাস্তার অবস্থা একই। পুরসভার আইন এখানে কাযর্করী হয়নি বললেই চলে। ফলে বাড়ির তৈরির সময় যে ৬ ফুট চওড়া রাস্তা রাখার কথা তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেই। ফলে দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স অনেক পরের কথা। একটা রিকশাও সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকতে পারবে না। পুরসভা এলাকায় এই ধরনের সমস্যা যে ভবিষ্যতে গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তা সত্ত্বেও পুরসভার নজরদারি নেই। এমন কি বাড়ি তৈরির নক্সা অনুমোদন হয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। রাস্তার সম্প্রসারণ ও রাস্তা জবর দখল প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বিভাসচন্দ্র ঘোষ বলেন, “রাস্তা যাতে জবর দখল না হয় তার জন্য কালীপুজোর পর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য পূর্ত দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

নদীর জন্যই ঘাটাল শস্য শ্যামলা। আর এই নদীর জন্যই বর্ষায় ঘাটাল থাকে জলমগ্ন। অবস্থা এমনই হয় যে পাশের বাড়ি যেতে হলেও নৌকাই ভরসা। বেহাল নিকাশি এই সমস্যার অন্যতম একটা কারণও বটে। পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের অবস্থা এমনই। কিছু ক্ষেত্রে নিকাশি নালা থাকলেও তা জঞ্জাল জমে তা বুজে গিয়েছে। সর্বত্র পানীয় জলের পাইপ লাইনও নেই। শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বরূপ মাঝির অভিযোগ, “আমরা নামেই পুরসভায় বাস করছি। নিকাশি সমস্যায় গ্রামকেও হার মানায় আমাদের শহর।” পানীয় জলের সমস্যার সম্পর্কে ঘাটাল পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহবধূ উমা শাসমল বলেন, “জল ভরতে যেতে হয় আধ কিলোমিটার দূরের কলে। সেই কল থেকে অনেক সময় জল মেলে না। তখন তো নলকূপই ভরসা।”

নিকাশি সমস্যা সম্পর্কে ঘাটাল পুরসভার উপ-পুরপ্রধান উদয়শঙ্কর সিংহরায় বলেন, “শহরের যে এলাকায় নিকাশির সমস্যা রয়েছে, সেখানে কাজ শুরু হয়েছে। নিকাশি নালার আয়তন বড় করার কাজ চলছে। তবে অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ধীরে ধীরে কাজ হবে।” আর পানীয় জলের সমস্যা? তাঁর উত্তর, “কাজ চলছে।”

সমস্যার সমাধান কবে হয়, তারই অপেক্ষায় ঘাটালের বাসিন্দারা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement