×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

সুখেন্দুকে বাঁচাতে কৌটো হাতে ক্যাম্পাসে সহপাঠীরা

বরুণ দে
মেদিনীপুর ৩১ মার্চ ২০১৫ ০২:০৪
ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে চলছে অর্থ সংগ্রহের কাজ।

ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে চলছে অর্থ সংগ্রহের কাজ।

ক্যানসারে আক্রান্ত সহপাঠীকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বন্ধুরাই। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর গণিতের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুখেন্দু ভক্তের চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পাসে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন তাঁর সহপাঠীরা। সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। সকলেরই আশা, শীঘ্রই জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবেন সুখেন্দু।

সপ্তাহ কয়েক আগেই মলদ্বারে ক্যানসার ধরা পড়ে সুখেন্দুর। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের দশগ্রামের কোপ্তিপুরে। বাবা নিশিকান্তবাবুর সামান্য জমি রয়েছে। সেখানে চাষ করেই সংসার চলে। সুখেন্দুর দাদা বিশ্বজিত্‌ চাষের কাজে বাবাকে সাহায্য করেন। মা আরতিদেবী গৃহবধূ। অভাবে সংসারেই বেড়ে ওঠা সুখেন্দুর। বাড়ির ছোট ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারে সাচ্ছল্য ফিরিয়ে আনবে, এমনটাই স্বপ্ন দেখেছিল ভক্ত-পরিবার। সুখেন্দুর অসুস্থতার খবরে সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছে। দাদা বিশ্বজিতের কথায়, “মাস চারেক আগে পরীক্ষা চলাকালীন ভাইয়ের শরীর খারাপ হয়। তারপর সেরে গিয়েছিল। মাস খানেক আগে ফের শরীর খারাপ হয়। মার্চের মাঝামাঝি ভাইকে নিয়ে মুম্বই যাই। ওখানেই জানতে পারি ওর ক্যানসার হয়েছে।’’


সুখেন্দু ভক্ত।

Advertisement



কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। মাস কয়েক পরে অস্ত্রোপচারের জন্য মুম্বই যেতে হবে। সব মিলিয়ে চিকিৎসার খরচ ৮-৯ লক্ষ টাকা। গরিব পরিবারে কী ভাবে এত টাকা জোগাড় হবে বুঝতে পারছেন না আরতিদেবীরা। তবে ছেলের বন্ধুরা পাশে দাঁড়ানোয় আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা। সুখেন্দুর বাবা নিশিকান্ত ভক্ত বলেন, “ছেলের বন্ধুদের পাশে দাঁড়াতে দেখে মনে জোর পাচ্ছি। মনে হচ্ছে, যেমন করেই হোক টাকাটা ঠিক জোগাড় করতে পারব।’’ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তীরও বক্তব্য, “অর্থ সাহায্যের জন্য বন্ধুরা যে ভাবে এগিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে থেকে যতটা সাহায্য করা সম্ভব করব।’’ উপাচার্য নিজেও কিছু অর্থ সাহায্য করেছেন।

ছোট থেকেই মেধাবী সুখেন্দু। মাধ্যমিকে ৮৬ শতাংশ আর উচ্চ মাধ্যমিকে ৮১ শতাংশ নম্বর পায়। স্নাতক স্তরে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৬ শতাংশ। সুখেন্দু সহপাঠীদের প্রিয়ও। তাই তার শরীরে মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে জানতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অরুণাভ গিরি, গৌতম সিংহ, নিত্যানন্দ দাস, রূপক বেরা, সুব্রত পাঁজা, প্রিয়াঙ্কা দে, মৌমিতা সামন্তরা। ক্লাস না থাকলেই হাতে কৌটো নিয়ে ক্যাম্পাসে বেরিয়ে পড়ছেন তাঁরা। যাচ্ছেন একের পর এক বিভাগে। অরুণাভ, প্রিয়াঙ্কা, গৌতমদের কথায়, “আমরা জানি যে বিপুল পরিমাণ টাকা ওর চিকিত্‌সার জন্য প্রয়োজন, তুলনায় যা সাহায্য উঠবে তার পরিমাণ খুবই কম। যতটুকু পাশে থাকা যায়, সেই চেষ্টাই করছি।’’

পাশে থাকার চেষ্টা করছে ছাত্র সংগঠনগুলিও। এসএফআইয়ের জেলা নেতা প্রসেনজিত্‌ মুদি বলেন, “আমরা যতটা সম্ভব সুখেন্দুকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক স্বদেশ সরকারেরও বক্তব্য, “আমরাও সাধ্যমতো সাহায্যের চেষ্টা করছি। সুখেন্দুর চিকিত্‌সার জন্য অর্থ সাহায্য চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীেক চিঠিও পাঠাচ্ছি।’’ তাঁর চিকিৎসার জন্য সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জেনে খুশি সুখেন্দু। কলকাতার হাসপাতাল থেকে ফোনে তিনি বলেন, “বন্ধুরা এ ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে জানতে পেরে আমিও মনে জোর পাচ্ছি। আশা করি, শিগগিরি সেরে উঠব।’’

ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল।

Advertisement