×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

সর্বশিক্ষা মিশন

খরচ না হওয়া টাকার সুদ ফেরতের নির্দেশ

আনন্দ মণ্ডল
তমলুক ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০১:২৯

স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সর্বশিক্ষা মিশন থেকে যে বরাদ্দ মেলে সেই টাকা সময়ের মধ্যে খরচ করতে পারে না বহু স্কুল। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের ওই বাকি অংশ অনেক সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার জমা রাখেন ব্যাঙ্কে। ফলে সেই টাকার সুদ জমা হয় স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই নিয়মের বদল ঘটিয়ে জমা হওয়া সেই সুদ ফেরানোর জন্য নির্দেশ দিল সর্বশিক্ষা মিশন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের পক্ষে জেলা প্রশাসন সম্প্রতি (১৬ মার্চ) জেলার বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষকে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে ওই সুদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন ) অজয় পাল বলেন, ‘‘সর্বশিক্ষা মিশন চালু হওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে অনেক স্কুল উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের টাকা খরচ না করে ব্যাঙ্কে রেখেছে। সেই সুদ দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য স্কুলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সর্বশিক্ষা মিশনের নির্দেশ মেনেই আমাদের জেলার স্কুলগুলিকেও ওইসব বরাদ্দ অর্থ থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

জেলা প্রশাসন ও সর্বশিক্ষা মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৩২৬৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৬৫টি মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রায় ১৫০০ টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র ও ১৫০টি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। সর্বশিক্ষা মিশন চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, স্কুলের চারদিকে সীমানা প্রাচীর তৈরি, শৌচাগার তৈরি, স্কুলের শিক্ষা সামগ্রী, ছাত্র-ছাত্রীদের বই ও পোশাক কেনা প্রভৃতি খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েও বেশ কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষ তা সময়মতো খরচ করতে পারেনি বলে অভিযোগ। অনেক সময় স্থানীয় সমস্যার কারণে সময়মত অর্থ খরচ করতে না পারার অজুহাত দেওয়া হয়। আবার টাকা খরচ করতে না পেরে তা ব্যাঙ্কে জমা রাখার অভিযোগও উঠেছে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। স্কুলের উন্নয়নের জন্য সর্বশিক্ষা মিশন থেকে বরাদ্দ অর্থ খরচ করে সময় মতো শংসাপত্র জমা দিতে না পারায় পরবর্তী বছরে জেলার জন্য বরাদ্দ অর্থ কমে যায়। ফলে সামগ্রিকভাবে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়।

Advertisement

এই সমস্যা মোকাবিলা করতে বছর দেড়েক আগেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ শুরু করে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয় যে সব স্কুল সর্বশিক্ষা মিশনের অর্থ বরাদ্দ পেয়েও সময় মতো খরচের হিসেব জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এমনকি পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই খাতে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করার কথাও বলা হয়। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের জেরে জেলার অধিকাংশ স্কুল কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ অর্থ খরচের হিসেব জমা দেওয়ার ফলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলে খবর। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার সর্বশিক্ষা মিশন থেকে বরাদ্দের হিসেব পেতে স্কুলগুলিকে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ও খরচের হিসেব জমা দিতে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ অর্থ ব্যাঙ্কে রাখার ফলে যে সুদ পাওয়া গিয়েছে তা ফেরত দেওয়ার জন্য তাও চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্কুল শিক্ষা দফতরের একাংশের মতে, সর্বশিক্ষা মিশনে বরাদ্দ টাকা খরচ না হলেই সুদের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলকে পরবর্তী বরাদ্দ দেওয়ার আগে তার কাছে সুদ বাবদ কত টাকা জমা রয়েছে, তা দেখে নেওয়া হবে। সেইমতো হিসেব করেই ধার্য হবে পরের ধাপের টাকা।

এমন নির্দেশের কথা স্বীকার করে পাঁশকুড়ার একটি হাইস্কুলের এক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘সর্বশিক্ষা মিশনের বরাদ্দ অর্থ ব্যাঙ্কে রাখার ফলে যে সুদ পাওয়া গিয়েছে তা ফেরতের জন্য নির্দেশিকা পেয়েছি। প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তার খরচের পরিমাণ উল্লেখ করে একটি ফর্ম পূরণের কথাও বলা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’’ কোলাঘাটের একটি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের কথায়, ‘‘আমাদের স্কুলের তিন হাজার টাকা সুদ জমেছে। সর্বশিক্ষা মিশনের নির্দেশ মেনে আমরা সব হিসেব দিয়ে দেব।’’ এসইউসি প্রভাবিত বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি আনন্দ হান্ডা অবশ্য বলেন, ‘‘সর্বশিক্ষা মিশনের বরাদ্দ অর্থ সময়মত টাকা খরচ করতে না পারার কারণেই তা ব্যাঙ্কে জমে সুদ পাওয়া গিয়েছে এই অভিযোগ ঠিক নয়। অধিকাংশ স্কুল কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ অর্থ ব্যাঙ্কে রেখে ধাপে ধাপে খরচ করে। এই সময়ের মধ্যে কিছু টাকা সুদ মেলে। তবে ওই সুদের টাকা অনেক স্কুল খরচ করে ফেলেছে। এসব ক্ষেত্রে সুদের টাকা ফেরত দেওয়া মুশকিল। সেদিকটাও বিবেচনা করা উচিত।’’

Advertisement