×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ জুন ২০২১ ই-পেপার

খড়্গপুরে নালিশ বিজেপি-র

পুলিশ সুপারের নাম করে হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল

বরুণ দে
মেদিনীপুর ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০১:৩২

পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট করানোর অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে নতুন নয়। বাম-আমলে এমন অভিযোগ বারবার উঠত। পুরভোটের মুখে সেই একই আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে রেলশহর খড়্গপুরে। বাম, বিজেপি-সহ বিরোধীদের ধারণা, আসন্ন পুরভোটে পুলিশ-প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তৃণমূলের বাহিনী ভোট লুঠ করতে পারে।

ভোটের আগে জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের ঘনঘন খড়্গপুরে আসা আবার গোটা বিষয়টিতে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ সুপার রেলশহরে আসায় তৃণমূলের লোকজন বেশ উজ্জীবিত। ভারতীদেবীর নাম করে তৃণমূল কর্মীরা বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারকে মৌখিক ভাবে এই অভিযোগ জানিয়েও রেখেছেন বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়।

জেলা পুলিশের এক সূত্রে খবর, রেলশহরে পুলিশ সুপারের জন্য এক অফিসও তৈরি হয়েছে। খড়্গপুরে এলে এই অফিসেই বসেন ভারতীদেবী। পুলিশ সুপার অবশ্য এতে অন্যায়ের কিছু দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পুলিশ পুলিশের কাজ করছে। প্রয়োজনে জেলার যে কোনও এলাকাতেই যেতে পারি। খড়্গপুরে না-যাওয়ার কী আছে?’’ ভারতীদেবী আরও বলেন, ‘‘রেলশহরে এখন তল্লাশি চলছে। গত সাত দিনে পুলিশ প্রায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা সকলেই সমাজবিরোধী। প্রত্যেকের নামে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”

Advertisement

বিজেপি সূত্রে খবর, বুধবারই ফোনে ভারতীদেবী কে এই অভিযোগ জানান বিজেপির জেলা সভাপতি। তুষারবাবু বলেন, ‘‘পুলিশ সুপার এখন ঘনঘন খড়্গপুরে যাচ্ছেন। থাকছেন। এটা ভাল দিক! আমরা ওঁকে খড়্গপুরে স্বাগতই জানাচ্ছি! আমরা চাই পুরভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হোক। কিন্তু, পুলিশ সুপারের নাম করে তৃণমূলের একাংশ কর্মী তো আমাদের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে।’’ তুষারবাবুর কথায়, ‘‘রেল- এলাকায় এটা বেশি হচ্ছে। পুলিশ সুপারকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পর উনি অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’’ বিজেপির অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘ওঁর (তুষারবাবু) সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি নির্দিষ্ট করে নাম জানাতে বলেছি। নির্দিষ্ট করে নাম জানানো হলেই পুলিশ পদক্ষেপ করবে।”

পুরভোট আদৌ অবাধে হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে বাম, কংগ্রেসও। সিপিআইয়ের জেলা সহ-সম্পাদক বিপ্লব ভট্টের কথায়, ‘‘রেলশহরের সর্বত্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্তত পরিস্থিতি তেমনই। তবে পুলিশ সুপার যখন খড়্গপুরে আসছেন, তখন আমরা আশা করব, নির্বাচন নির্বিঘ্নেই হবে।’’ একই সুর কংগ্রেস নেতা তথা রেলশহরের বিদায়ী পুরপ্রধান রবিশঙ্কর পাণ্ডের কথায়। তিনি বলেন, “দিন কয়েক হল পুলিশ সুপার এখানে আসছেন বলে শুনেছি। আশা করব, পুরভোট নির্বিঘ্নে হবে।’’ একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘পুলিশ-প্রশাসন যদি তার জায়গা থেকে সরে যায়, তাহলে আমরাও রাজনীতির জায়গা থেকে সরে যাব! কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা কী ভাবে করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে!’’

এখন থেকেই রেলশহরে দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে সরব হয়েছে সিপিএম। এ ক্ষেত্রে তাদের ইঙ্গিত তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপির দিকেও। দলের জেলা সম্পাদক তরুণ রায় বলেন, ‘‘আমি শুনেছি দুষ্কৃতীরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে দু’টি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। পুরভোটে অশান্তি করার ছক কষছে। আশা করব, পুলিশ-প্রশাসন তত্‌পর হবে।’’

নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে পারে বলে যে আশঙ্কা বিরোধীরা করছে, তা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলেরর জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোত্‌ ঘোষ। তিনি বলেন, “এই আশঙ্কা অমূলক। সুষ্ঠু ভাবেই নির্বাচন হবে।” অন্যদিকে, পুলিশ সুপারের ঘনঘন খড়্গপুর আসা নিয়ে প্রদ্যোত্‌বাবুর মন্তব্য, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের কাজ। পুলিশ পুলিশের কাজ করছে। প্রয়োজনে পুলিশ সুপার খড়্গপুরে যেতেই পারেন। এতে অন্যায়ের কী আছে?’’

এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরের ৬টি পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে। এরমধ্যে খড়্গপুর অন্যতম। রেলশহরের পুরভোটে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে সব দলই। ২০১০ সালের আগে একটানা ১৫ বছর খড়্গপুর পুরসভা ছিল কংগ্রেসের দখলে। ২০১০ সালের নির্বাচনে জিতে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও পরে বোর্ডে পালাবদল হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থায় জিতে ফের পুরসভা দখল করে কংগ্রেস।

Advertisement