Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

ক্ষোভ নদিয়ায়

জাতীয় সড়কে মানবশৃঙ্খলে ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা
কৃষ্ণনগর ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:৩৯
৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মানবশৃঙ্খলে খুদেরা। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মানবশৃঙ্খলে খুদেরা। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য

প্রশাসনের উদ্যোগে শৌচাগার ব্যবহারের জন্য জেলাবাসীকে সচেতন করতে ১২২ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবশৃঙ্খল তৈরি করাল প্রশাসন। তার জেরে চরম হয়রানির শিকার হতে হল সাধারণ মানুষকে। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নদিয়া জেলার দক্ষিণে বড়জাগুলিয়া থেকে উত্তরে পলাশি পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে এই দীর্ঘ মানবশৃঙ্খলের জন্য যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হয়। মানবশৃঙ্খলের জন্য ছোট গাড়ি বা স্থানীয় বাস চললেও জাতীয় সড়কের বিভিন্ন এলাকায় দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এই মানবশৃঙ্খল তৈরির জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাসে করে লোক আনা হয়। জেলার বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন জেলার বিভিন্ন রুট থেকে প্রায় ৩০০টির মত বাস তুলে নেওয়া হয়েছিল। যার বেশির ভাগই আর রুটে চলেনি। ফলে এ দিন সকাল থেকেই জাতীয় সড়কের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যদিও সে কথা মানতে রাজি নন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

নদিয়াকে নির্মল জেলা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। জেলার প্রতিটি পরিবারকে শৌচাগার করে দেওয়ার পাশাপাশি একশো শতাংশ মানুষ যাতে শৌচাগার ব্যবহার করেন তার জন্য নানা প্রচারমূলক কর্মসূচি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তারই একটি অঙ্গ ছিল এ দিনের মানবশৃঙ্খল। শনিবারের এই মানব শৃঙ্খলে প্রায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার মানুষ যোগ দেন। এই মানব শৃঙ্খলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও। কিন্তু তাদের জন্য সামান্য টিফিনের ব্যবস্থা তো দূরে থাক পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ। দীর্ঘসময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকায় চাকদহের কাছে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে সাতজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের একাংশের ক্ষোভ, এমনিতেই ছাত্রছাত্রীদের খুব সকালে বাড়ি থেকে বেরোতে হয়েছে। তাই অনেকেই খেয়ে বেরোতে পারেনি। তার উপর দীর্ঘক্ষণ রোদে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে থাকার ফলে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অন্য দিকে, রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রেখে কোনও সরকারি অনুষ্ঠান করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দূরপাল্লার যাত্রীরা ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের ক্ষোভ, “অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য যতই ভাল হোক না কেন এ ভাবে মানুষকে সমস্যার মধ্যে ফেলে তা করা উচিত হয়নি।” শিলিগুড়িগামী এক বাসযাত্রী বলেন, ‘‘এত দিন বিভিন্ন রাজনৈতির দলের রাস্তা অবরোধ কর্মসূচির কারণে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মসূচি পালনের জন্য এ ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটা নয়া প্রাপ্তি বলতে পারেন।”

Advertisement

বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানানো গিয়েছে, এ দিন জেলার বিভিন্ন রুটের প্রায় সাড়ে ছশো বাসের মধ্যে প্রায় তিনশো বাস ওই মানবশৃঙ্খলে লোক আনার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতির এক কর্তা বলেন, “এ দিন প্রায় অর্ধেকের বেশি বাস জেলা প্রশাসন থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যাদের বেশিরভাগই এ দিন আর রাস্তায় নামেনি। স্বাভাবিক ভাবে যাত্রীদের এ দিন হয়রানির শিকার হতে হয়।” বাস না থাকায় এ দিন মানুষজনকে দীর্ঘ সময় বাসস্ট্যান্ডগুলিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। কোথাও বা ‘বাদুড় ঝোলা’ হয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

যান চলাচল যে বন্ধ ছিল তা মেনে নিয়েছে প্রশাসনও। জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ জানান, রাস্তায় প্রচুর মানুষ থাকায় প্রশাসনের তরফে ওই সময় বড় বড় গাড়ি চলার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ছোটগাড়ি চালানোয় কোনও বাধা ছিল না। তাঁর দাবি, “তাতে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হয়নি।” জেলা শাসক পিবি সালিম বলেন, “বাস আটকানোর কোনও খবর জানা ছিল না। বড় ট্রাক ও লরি আটকানোর কথা থাকলেও বাস বা অন্য গাড়ি আটকানোর কথা ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “সকালের দিকে কিছু বাস নেওয়া হলেও পরে সেগুলি নির্দিষ্ট রাস্তায় চলেছে। তাই সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হয়নি।”

আরও পড়ুন

Advertisement