Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

রেল দুর্ঘটনা কমাতে মডেল তৈরি স্কুল পড়ুয়ার

লেভেল ক্রসিং পেরোতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান বহু মানুষ। কিন্তু প্রতিবারই রেল কর্তৃপক্ষ তার জন্য রক্ষীহীন লেভেল ক্রসিংকেই দায়ী করেন। কিন

বিমান হাজরা
রঘুনাথগঞ্জ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০০:১১
Save
Something isn't right! Please refresh.
এই সেই মডেল।

এই সেই মডেল।

Popup Close

লেভেল ক্রসিং পেরোতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান বহু মানুষ। কিন্তু প্রতিবারই রেল কর্তৃপক্ষ তার জন্য রক্ষীহীন লেভেল ক্রসিংকেই দায়ী করেন। কিন্তু যদি এমনটা হত যে, কোনও রক্ষী ছাড়াই আপনা থেকেই পড়ে যাচ্ছে গেট। আবার ট্রেন চলে যাওয়ার পর সেই গেট খুলেও যাচ্ছে। তাহলে লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় অনেক দুর্ঘটনা কমে যেত।

ঠিক এমনই ভাবনা থেকে একটি মডেল বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের জোতকমল উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী পারভিন সুলতানা। সেই মডেল সর্বজনের প্রশংসা কুড়িয়ে রাজ্য থেকে দিল্লিতে পাঠানো ৬টি সেরা মডেলের মধ্যেও ঠাঁই করে নিয়েছে। পারভিনের সঙ্গে এখন তার স্কুলও স্বপ্ন দেখছে, এই মডেলকে স্বীকৃতি দিয়ে বিষয়টি বাস্তবায়িত করুক রেল মন্ত্রক। তাহলে শুধু দুর্ঘটনার পাশাপাশি কমবে খরচও।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর, ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবায়িত করার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে ওই স্কুলকে ৫০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার থেকে ২০০০ টাকা ব্যয়ে ওই মডেলটি তৈরি করেছে সুলতানা। যদিও সেই কাজে তাঁকে পাঁচ সহপাঠী ও পদার্থ বিজ্ঞানের দুই শিক্ষক অরবিন্দ দাস ও শুভাশিস দাস সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু মডেল তৈরির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভাবে পারভিনের।

Advertisement

গত ১২ অগস্ট জেলায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী মেলায় মডেলটি দ্বিতীয় হয়। এমনকী ১৬-১৭ সেপ্টেম্বরে কলকাতায় আয়োজিত রাজ্য পর্যায়ের বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে সেটি তৃতীয় স্থান লাভ করে। প্রধানশিক্ষক শিবশঙ্কর সাহা জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে ৬ টি মডেল দিল্লির প্রগতি ময়দানে প্রদর্শনীতে যাচ্ছে তার মধ্যে ওই মডেলটিও রয়েছে। তিনি বলেন, “এই রেল মডেলটিকে যদি কাজে লাগানো গেলে দেশ জুড়ে থাকা লক্ষাধিক লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে দুর্ঘটনাও অনেকাংশেই এড়ানো যাবে।” স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক অরবিন্দ দাস বলেন, “৬ থেকে ৮ অক্টোবর দিল্লির মেলায় রেলকর্তারা এসে এই মডেল ও তার উপযোগিতা স্বচক্ষে দেখে গেলে তাঁরাও এর সার্থকতা বুঝতে পারবেন।”


সুলতানা পারভিন।



কিন্তু কী আছে ওই রেল মডেলে? পারভিনের কথায়, ওই রেল-মডেল কার্যকরী করা গেলে ট্রেন আসা যাওয়ার পথে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট। একই ভাবে ট্রেন চলে গেলে গেট স্বয়ংক্রিয় ভাবেই খুলে যাবে। লেভেল ক্রসিংয়ের ঠিক সাড়ে তিন কিলোমিটার আগে ( দূরত্ব কমানো কিংবা বাড়ানো যাবে) ট্রেন আসার সঙ্কেত ধ্বনি বাজবে লেভেল ক্রসিংয়ে। ট্রেনটি ২ কিলোমিটার দূরত্বে থাকতেই লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রেন লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে ১০০ মিটার যেতেই আপনা থেকেই উঠে যাবে সেই গেট। সমস্ত ব্যবস্থাটাই চলবে বিদ্যুৎ বা সৌর-বিদ্যুতের সাহায্যে। প্রতিটি গেটেই থাকবে আলোর ব্যবস্থা। থাকবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও। এই ব্যবস্থা চালু রাখতে কোনও কর্মীর দরকার পড়বে না। স্বয়ংক্রিয় ভাবে সব কিছু চালু থাকবে বলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললে চলে।

গ্রামাঞ্চলে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যেই ওই ব্যবস্থা সহজেই রূপায়িত করা যাবে। তাই শুধু পুরস্কার পাওয়া নয়, বাস্তবে ওই মডেলটিকে কার্যকরী করা যায় কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে রেল মন্ত্রকের কাছে সম্ভাব্য খরচ-সহ লিখিত ভাবে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কলা বিভাগের ছাত্রী হয়ে ওই মডেলের ভাবনা তার মাথায় এল কী ভাবে? পারভিন জানায়, জঙ্গিপুরের আশপাশে লেভেল ক্রসিংগুলিতে ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারা গিয়েছেন বহু মানুষ। রেলকর্তারা রক্ষীহীন লেভেল ক্রসিং দেখিয়ে দুর্ঘটনার দায় এড়িয়ে গিয়েছেন প্রতিবারই। পাশেই মিঞাপুরে লেভেল ক্রসিং বন্ধ হয়ে যানজটে পড়তে হয়েছে বহুবার। তা থেকেই ওই রেল মডেলের ভাবনা। তার কথায়, “জেলা ও রাজ্যে পুরস্কৃত হওয়াটাই সব নয়। সবচেয়ে খুশি হব যদি আমার মডেলের ভাবনা বাস্তবে সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়ে তা রূপায়িত হয়।”

মেয়ের এই কাজে খুশি বাবা আসরাফ হোসেনও। পেশায় ঠিকাদার আসরাফ বলেন, “ছোট থেকেই ওর নানা বিষয়ে কৌতুহল। তাই বলে আস্ত একটা মডেল বানিয়ে পারভিন যে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে ভাবতেই পারিনি। ওর জন্য আমরা গর্বিত।”

ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement