×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৯ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

প্রেম-পার্বণে কদর কমছে গোলাপের

সুস্মিত হালদার
কৃষ্ণনগর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:৪২
আর কত দিন মন ভোলাবে গোলাপ? বনগাঁয় নির্মাল্য প্রামাণিকের তোলা ছবি।

আর কত দিন মন ভোলাবে গোলাপ? বনগাঁয় নির্মাল্য প্রামাণিকের তোলা ছবি।

কেউ ভিড় করলেন সোনার গয়নার দোকানে।

কেউ প্রিয়জনের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিলেন স্মার্টফোন।

গোলাপ দেওয়া-নেওয়া চোখে পড়ল না সে ভাবে।

Advertisement

গয়না, স্মার্টফোনের দাপটে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র উপহারের তালিকায় সাবেক গোলাপের কদর ক্রমশ কমছে এমনটাই মনে করছেন কৃষ্ণনগর শহরের ফুল বিক্রেতারা। কারণ, এই বিশেষ দিনে গোলাপ বিক্রিতে ভাটার টান। অন্য দিকে, শহরের নামী গয়নার দোকান বা মোবাইলের দোকানে দেখা গিয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়। দুই দোকানেই বিক্রিও যে বেড়েছে, তা মেনে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার থেকে কৃষ্ণনগর শহরের জনবহুল পোস্টঅফিস মোড়ে গোলাপের পসরা সাজিয়ে বসে ছিলেন ফুল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রেতা কই? ভ্যালেন্টাইনস ডে’তেও পসরার সামনে তেমন ক্রেতার ভিড় নেই। শহরের ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরেও পরিস্থিতি এমনটা ছিল না। গত বছর এই সময় মান অনুযায়ী ১০-১৫ টাকায় বিকিয়েছে এক-একটি গোলাপ। কিন্তু এ বার দাম প্রায় অর্ধেক। কোথাও ৭-১২ টাকা। তা সত্ত্বেও চাহিদা তেমন নেই।

পোস্টঅফিস মোড়ের ফুল বিক্রেতা আশিস বিশ্বাস বলেন, ‘‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে গোলাপ বিক্রি প্রতি বছর কমছে। গত বছর শুধু ভ্যালেন্টাইনস ডে’র আগের দিনই প্রায় দেড় হাজার গোলাপ বিক্রি করেছিলাম। এ বার দু’দিনে হাজারও পেরোবে না। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি পাল্টাচ্ছে।” পাশের স্টলের ফুল-বিক্রেতা গৌরাঙ্গ ঘোষ বলেন, “এখন প্রেমিক-প্রেমিকারা গোলাপের পরিবর্তে ভালবাসার মানুষকে মোবাইল বা অন্য কোনও দামী উপহার দেয়। বলতে পারেন ভালবাসার দিনে ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে পড়ছে গোলাপ।”

ফুল ব্যবসায়ীরা যে ভুল বলছেন না তা শহরের নামী সংস্থার গয়নার বিপণন কেন্দ্রগুলির কর্তাদের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যায়। কয়েক বছরে শহরে একাধিক নামী সংস্থার গয়নার বিপণন কেন্দ্র খুলেছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে তারা নানা গয়নায় সঙ্গে আকর্ষণীয় উপহার এবং ছাড়ের বন্দোবস্তও রেখেছিল। প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে হালকা গয়না। চাহিদা ছিল মুক্তোরও। শুক্রবার থেকেই এই সব বিপণন কেন্দ্রে উপছে পড়ে ভিড়। এমনই এক বিপণন কেন্দ্রের কর্তা তন্ময় ধর বলেন, “ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে বিক্রি হয় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিশেষ দিনে মানুষ গয়নার দিকেই ঝুঁকতে শুরু করেছেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরাও বিভিন্ন ধরনের গয়না রাখি। এ বারই এক গ্রামের সোনার চেন কিংবা এক গ্রামের হিরের লকেট মুড়ি-মুড়কির মতো বিক্রি হয়েছে।”

পাশাপাশি দামি চকোলেট, আইপডও উপহার দিতে দেখা গিয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের। ছিল প্রিয় গায়কের গানের সিডিও। তবে, সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন দামের স্মার্টফোন। ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে শহরের প্রেমিক-প্রেমিকাদের এটাই ছিল প্রথম পছন্দ। পোস্টঅফিস মোড়ের একটি মোবাইলের দোকানের মালিক ঋদ্ধি রায় বালেন, “এই বিশেষ দিনে মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়ছে। এখন প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে মোবাইল উপহার দেয়। এ বার স্মার্টফোনের চাহিদা বেশি।”

শনিবার দুপুরে ওই দোকানেই প্রেমিকার জন্য স্মার্টফোন কিনতে এসেছিলেন বছর বাইশের এক যুবক। কোন রকম রাখঢাক না করেই ঝকঝকে চেহারার ওই যুবক বলেন, “গত বছর হিরের লকেট উপহার দিয়ে ছিলাম। এ বার ও নিজেই স্মার্টফোন চাইল। সঙ্গে একটা চকোলেটের বাক্স দেব ভাবছি।” কিন্তু এ দিন উপহারের তালিকায় গোলাপ নেই কেন? হালকা হেসে ওই যুবক বলেন, “গোলাপের ধারণাটা অনেক পুরনো। আজকের হাইটেক-যুগে গোলাপ অপ্রাসঙ্গিক।”

পাত্রবাজার মোড়ের নামী প্রতিষ্ঠানের গয়নার দোকান থেকে এ দিন গয়না কিনে বের হওয়ার পথে এক দম্পতি বলেন, “অনেক ভেবে সোনার দোকানেই ঢুকলাম। কারণ সোনা মানে নিরাপত্তা। ভালবাসার দিনে আমার প্রিয় মানুষকে না হয় নিরাপত্তাই উপহার দিলাম।”

গোলাপের কথা তাঁরা তুললেন না।

Advertisement