×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

ভরা মরসুমেও খরা, ভিড় নেই সুন্দরবনে

নিজস্ব সংবাদদাতা
ক্যানিং ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ ১৫:৫১

বাতাসে বড়দিনের গন্ধ, শীতও বেশ পড়ে গিয়েছে। তবু পর্যটকের দেখা নেই সুন্দরবনে।

সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পুজো এ বছর অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ায় অক্টোবরে আর সুন্দরবনে ভিড় জমেনি। নভেম্বর পর্যটক আসা শুরু হলেও তা একেবারেই হাতে-গোনা। ফলে, মাথায় হাত বছরভর দু’টো লাভের আশায় বসে থাকা পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলো।

কিন্তু ভরা মরসুমেও কেন এই খরা?

Advertisement

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মূলত পরীক্ষার জন্যই এই পরিস্থিতি। কারণ, অনেক স্কুলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়েছে তৃতীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা। ইতিমধ্যে ফলপ্রকাশ শুরু হয়েছে। তার উপর ২০১৬ সালের মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও এগিয়ে এসেছে ফেব্রুয়ারিতে। আর সে জন্যই সুন্দরবনের সজনেখালি, পাখিরালয়, সুধন্যখালি-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখনও ঢল নামেনি।

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শশধর মান্না, দীপক সরকাররা বলেন, ‘‘স্কুল-কলেজে পরীক্ষার কারণেই পর্যটকরা এখনও সুন্দরবনে আসছেন না। অথচ আমরা সারা বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। ঠিকমতো ভিড় না হলে আমাদের খরচ উঠবে কী করে?’’ পর্যটকরা সে ভাবে না আসায় ক্যানিং, সোনাখালি, বাসন্তী, গোসাবার ছোট-বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাড়তি রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভিড় না হওয়ার অন্য একটি ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কারও কারও মতে গ্রিন বেঞ্চের নির্দেশে সুন্দরবনে হোটেল ব্যবসা চলবে কি না, তা নিয়ে টালমাটাল শুরু হওয়ায় অনেক হোটেল মালিকই বুকিং নেননি। ফলে, সমস্যা হয়েছে। পাখিরালয়ের এক হোটেল ব্যবসায়ীর কথায়, ‘গ্রিন বেঞ্চের নির্দেশে সুন্দরবনে হোটেল ব্যবসা চলবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয় টালমাটাল পরিস্থিতি। ফলে, সাহস করে কেউ বুকিং নিতে পারেনি। অনেকেই সুন্দরবন থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যত্র বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হোটেল ভাঙার নির্দেশ সরকারি ভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা সে ভাবে শুরু না হওয়ায় সরকারের রাজস্বেও ঘাটতি হচ্ছে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকদের থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু এ বছরে ওই পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে কি না, তা নিয়ে বনকর্তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জানা গিয়েছে, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থেকে পাওয়া অর্থের প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থ সুন্দরবন এলাকার মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়। এলাকায় জেটিঘাট, সৌর বিদ্যুৎ, খাল খনন থেকে শুরু করে নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। সুন্দরবনে ঘুরতে আসা ভ্রমণার্থীদের ভ্রমণকর থেকে এবার এলাকায় হওয়া উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনই মার খাবে সরকারি অর্থনীতিও।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর নীলাঞ্জন মল্লিক বলেন, ‘‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্য বারের তুলনায় এই সময়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বেশ কম। তবে শীত এখনও সে ভাবে পড়েনি। আর কয়েকটা দিন গেলে বোঝা যাবে সত্যি পরিস্থিতিটা কী।’’

Advertisement