×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

নাবালিকাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত বিন্নি

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০০:৩৭

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের দার্জিলিং পাহাড় শাখার নেতা বিন্নি শর্মার বিরুদ্ধে। দার্জিলিং আদালতের নির্দেশে শনিবার নকশালবাড়ি থানায় ওই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির নকশালবাড়ির ওই নাবালিকার অভিযোগ, গত ২ বছর ধরে তাকে বিয়ের টোপ দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তৃণমূল নেতা। সম্প্রতি ওই তৃণমূল নেতা বিয়ে করেছেন। এর পরেই নাবালিকা নকশালবাড়ি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ অফিসারদের একাংশ বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চাননি। এর পরে নাবালিকা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন। দার্জিলিং আদালত অভিযোগ তা দার্জিলিঙের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তবে তৃণমূল নেতা বিন্নি শর্মা গোটা ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “দলের একাংশ ওই ষড়যন্ত্রে সামিল রয়েছেন। গোটা বিষয়টি জেলা সভাপতি গৌতম দেবকে জানিয়েছি। প্রদেশ নেতাদেরও কাছেও জানানো হবে।” শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল নেতা এদিন শিলিগুড়িতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন। তাঁর দাবি, অভিযোগকারিণীকে তিনি চেনেন না। দলের কারও প্ররোচনায় এ ধরনের অভিযোগ হয়েছে। তাঁর কথায়, “অভিযোগকারিণীর নাম ও পরিচয় যর্থাথ নয়। ওই এলাকায় ওই নামে কোনও কিশোরী নেই। এমনকী যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেটিও ভুল।” তাঁর স্ত্রীর দাবি, “বিন্নি চক্রান্তের স্বীকার। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।” প্রয়োজনে তাঁরাও আইনি পদক্ষেপ করবেন বলে জানান তিনি।”

Advertisement

দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, “দার্জিলিং আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে নকশালবাড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছি। আইন মেনেই সব পদক্ষেপ করব।” তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। মন্ত্রী বলেন, “আমি বিশদে খোঁজ নেব। তার পরে মন্তব্য করব।” এই ঘটনার পরে অবশ্য নকশালবাড়ি থানার একাংশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, ওই কিশোরী থানায় যাওয়ার পরে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে থাকলে পুলিশ ঠিক করেনি। ফলে, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এলাকার কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের কয়েকজন জানান, তাঁরা গোটা বিষয়টি দলের স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর মালাকারের মাধ্যমে রাজ্যপালের কাছে জানাবেন। এদিকে, তৃণমূলের পাহাড় শাখার নেতারা বিন্নি শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। পাহাড় তৃণমূলের সভাপতি রাজেন মুখিয়া বলেন, “না জেনে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” মন্তব্য করতে চাননি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সহ-সচিব জ্যোতি কুমার রাইও।

Advertisement