×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বক্স ভেঙে, মাটি খুঁড়ে চুরি, বেহাল ব্রডব্যান্ড

কৌশিক চৌধুরী
শিলিগুড়ি ০৫ অগস্ট ২০১৪ ০১:৫৮

ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে শুনলেন নেটওয়ার্ক নেই। কখনও শুনতে পারেন, ‘লিঙ্ক ফেলিওর’। এমন মাঝেমধ্যেই ঘটে শিলিগুড়িতে। আবার কখনও ইন্ডিয়ান অয়েল, পর্যটন দফতরের টেলিফোন লাইন, ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের পরিষেবাও। জুন ও জুলাইয়ে একাধিকবার এমন হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই বিএসএনএলের অফিসারেরা দেখেছেন, বড় মাপের লোহার বক্সের তালা ভেঙে তামার তার চুরি হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে রাত হলেই শিবমন্দিরের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিভাগ, প্রশাসনিক দফতরের টেলিফোন, ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ। দেখা গেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস বিভাগ থেকে এমবিএ বিভাগ অবধি রীতিমত মাটি খুঁড়ে দুষ্কৃতীরা প্রায় ৩০০ মিটার তামার তার চুরি করে পালিয়েছে। রাত অবধি কাজ করার পর পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

গত সপ্তাহে বাগডোগরা বায়ুসেনা বিভাগেও একই ভাবে পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। বিহার মোড়ের মাটি খুঁড়ে একইভাবে তামার তার চুরি করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কিছুদিন আগে খোদ নকশালবাড়িতে বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে রাতের পর রাত চুরি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। সারা দিন বিডিও দফতরের কাজকর্ম কার্যত লাটে ওঠে। নকশালবাড়ি স্টেশন, শিবমন্দির বিএড কলেজ, চম্পাসারি, মেডিক্যাল মোড়, পানিঘাটা মোড়-সহ একাধিক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

Advertisement

৩/৪ মাস ধরে শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে রাতের অন্ধকারে একের পর তার চুরির ঘটনায় রাতের ঘুম ছুটেছে বিএসএনএলের অফিসার, কর্মীদের। সংস্থা সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে ১৬টি’র মত ঘটনা ঘটেছে। আবার বহু ক্ষেত্রে মাটি খুঁড়ে তামার তারের বদলে ‘অপটিক্যাল ফাইবার কেবল’ মেলায় সেগুলি নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বড় চুরির ক্ষেত্রে অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা এবং রাতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। বিএসএনএল সূত্রের খবর, সংস্থার সহকারি জেনারেল ম্যানেজার অলোক মজুমদারের দফতরে আলাদা ‘পুলিশ ফাইল’ও তৈরি করা হয়েছে।

শিলিগুড়ি টেলিকম ডিস্ট্রিক্টের জেনারেল ম্যানেজার অরুময় ডাকুয়া বলেন, “তারের তামার লোভে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী ওই কাজ করছে। পুলিশকে জানাচ্ছি। তবে চুরির জন্য পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে সমস্যা হচ্ছে।” পরিষেবার ক্ষেত্রে এই সমস্যার কথা তুলেছেন ব্যবসায়ীরাও। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফোসিনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “চুরি হওয়া মাত্রই ব্যাঙ্ক, বিমা, সরকারি দফতর-সহ নানা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে আমরা পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি বলেছি।”

বিএসএনএল সূত্রের খবর, কপার কেবল (তামার তার) এবং অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমেই সর্বত্র পরিষেবা পৌঁছনো হয়। মূলত ল্যান্ডলাইন এবং ব্রডব্যান্ডের সংযোগ ও পরিষেবার জন্য ওই তামার তার ব্যবহার হয়। দুষ্কৃতীরা তার গলিয়ে পরে তামা বার করে নিচ্ছে। ইলেকট্রনিক থেকে শুরু নানা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায়, সেই তামা পৌঁছচ্ছে। এক মিটারের জন্য সংস্থার লোকজন ৩০০-৫০০ টাকা হলেও চোরাবাজারে তা ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা অবধি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের আওতায় রয়েছে। বাকিটা মহকুমা দার্জিলিং জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এই প্রসঙ্গে আলাদাভাবে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার জগমোহন এবং দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেছেন, “প্রতিটি থানাকে রাতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। তদন্তও হচ্ছে।”

Advertisement