Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

এসডিও-কে ঘুষি, ধৃত রিসর্ট মালিক

পর্যটন দফতরের রিসর্ট পরিদর্শনের সময় মহকুমাশাসককে ঘুষি মারার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে ডুয়ার্সের মেটে

নিজস্ব সংবাদদাতা
মালবাজার ২২ জুন ২০১৪ ০১:১০

পর্যটন দফতরের রিসর্ট পরিদর্শনের সময় মহকুমাশাসককে ঘুষি মারার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে ডুয়ার্সের মেটেলি থানার মূর্তি ট্যুরিষ্ট রিসোর্টের ভেতরে। ধৃত ব্যক্তি দেবকুমার মিশ্র লাগোয়া বেসরকারি এক রিসোর্ট মালিক। মহকুমাশাসককে হেনস্থার অভিযোগ পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে মেটেলি থানার পুলিশ।

আলিপুরদুয়ার জেলা ঘোষণা ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গে আসার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর সফরে পদস্থ আধিকারিকেরা মূর্তি বাংলোয় থাকতে পারেন। এই খবর পেয়েই মহকুমাশাসক জ্যোতির্ময় তাঁতি এ দিন পরিদর্শনে যান। পর্যটন উন্নয়ন নিগমের জেনারেল ম্যানেজার অনিমেষ বিশ্বাসও সেই সময় মূর্তি রিসর্ট পরিদর্শন করছিলেন। তাঁরা দেখেন রিসোর্টে ঢোকার মুখে গেটের সামনে হোর্ডিং-এর লোহার কাঠামোয় গরুমারা নেচার কটেজ নামে একটি বেসরকারি রিসর্টের ফ্লেক্স টাঙানো। মহকুমাশাসকের নজরে আসায় তিনি দ্রুত রিসর্টের ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহাকে সেটিকে খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপরই নিরঞ্জনবাবু ফ্লেক্সটি খুলে দেন। মূর্তি ট্যুরিস্ট রিসর্টের ঠিক বা পাশে গরুমারা নেচার কটেজ রয়েছে থেকে ছুটে আসেন দেবকুমার মিশ্র। তিনি সোজা সরকারি রিসর্টের ভেতরে ঢুকেই কার নির্দেশে তাঁর হোর্ডিং খোলা হয়েছে জানতে চান। উত্তেজিত দেবকুমারবাবুকে মহকুমাশাসক সরকারি রিসর্ট চত্বর থেকে বেড়িয়ে যেতে বললে তিনি মহকুমাশাসকের বাম গালে ঘুঁষি মারেন বলে অভিযোগ। এরপরই মেটেলি থানার পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত দেবকুমার মিশ্রকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। দেবকুমারবাবু কলকাতার বেলগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যাঙ্ক কর্মী বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সরকারি কাজে বাধা দান, সরকারি এলাকায় বলপূর্বক প্রবেশ করে আধিকারিকের গায়ে হাত তোলার মত ৩৫৩ , ৫০৬ , ৪৪৭ এর মত জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা শুরু করে।

এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পর্যটন ব্যবসায়ী মহলে ডুয়ার্স জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মূর্তি লাগোয়া গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় দেবকুমার বাবুর গরুমারা নেচার কটেজকে কালো তালিকভুক্ত করেন। সদস্যপদ বাতিল করে দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে মহকুমাশাসককে লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনাও করেন তাঁরা। তবে পুরো ঘটনাটি দেবকুমারবাবু ইচ্ছাকৃত ঘটাননি বলে দাবি করেন। তাঁর রিসোর্টেরই আরেক মালিক প্রকাশ রায়। প্রকাশবাবু জানান, আমরা সরকারি হোর্ডিং এর খুঁটিতে ফ্লেক্স লাগাই নি। কেন এমন ভুল বোঝাবুঝি হল তা বুঝতে পারছি না।” দেবকুমারবাবু কথা বলার সময় আচমকা পা হড়কে পড়ে যান, সেসময় তাঁর হাত মহকুমাশাসকের গায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে লেগে যায়।

Advertisement

ঘটনার পরই রিসোর্টটির জমি এবং অনুমোদনের সমস্ত নথি নিয়ে আগামী ২৩ জুন সোমবারের মধ্যে মহকুমাশাসক মালিকপক্ষকে দফতরে ডেকেছেন। ভূমি সংস্কার দফতরকেও জমির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক পৃথা সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পর্যটন উন্নয়ন নিগমের জেনারেল ম্যানেজার অনিমেষ বিশ্বাস পুরো ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করে আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা গ্রহন হবে বলে জানান। প্রকাশ রায় বলেন, “২০১২ সালে রিসর্টটি হয় ৫.১৯একর জায়গার ওপর। জমিটি ভূমি সংস্কার দফতর থেকে ৩০ বছরে লিজ চুক্তিতে নেওয়া হয়েছে।” দেবকুমার বাবু, প্রকাশবাবু ছাড়াও অসিত লাহিড়ী নামের আরও একজন মালিকানায় যুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

Advertisement