Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

ত্রাণ অমিল, ঘেরাওয়ের পরামর্শ তৃণমূল নেতার

দলনেতাদের প্রশাসনের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের পরামর্শ সমর্থন করেছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি চন্দন ভৌমিক বলেন, “বাসিন্দারা ত্রাণ পাচ্ছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৪ মে ২০১৪ ০১:৩১
তৃণমূলের উদ্যোগে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। —নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের উদ্যোগে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। —নিজস্ব চিত্র।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলি নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুললেন ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতারা। গ্রামে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা এলে তাঁদের ঘেরাও করে রাখতেও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছেন শাসক দলের নেতারা। গত রবিবার সন্ধ্যায় ঝড়ে ময়নাগুড়ি সহ আলিপুরদুয়ার, ডুয়ার্স এবং কোচবিহার জেলায় বিপুল ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডার গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ময়নাগুড়ি বিধানসভার উপ নির্বাচনে তৃণমূূলের প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী এবং ব্লক নেতা কুমুদ রায়। দুই নেতাকে দেখেই বাসিন্দারা ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। নেতাদের কাছে বাসিন্দারা জানতে চান, শিশুদের খাবার, ত্রিপল, পানীয় জল কবে থেকে মিলবে? অনন্তদেববাবু মোবাইলে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষোভ জানান। তার পরেই অনন্তবাবু ও কুমুদবাবু বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন, “প্রশাসনের যেই আসুন না কেন ঘেরাও করে রাখুন। খাবার না পাঠানো পর্যন্ত ছাড়বেন না।” অনন্তদেববাবু অভিযোগ করে বলেন, “ঠাণ্ডা ঘরে বসে শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের বিপন্ন মানুষের দিশেহারা দশা সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

দলনেতাদের প্রশাসনের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের পরামর্শ সমর্থন করেছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি চন্দন ভৌমিক বলেন, “বাসিন্দারা ত্রাণ পাচ্ছেন না, এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। দলের তরফে ওই এলাকাগুলিতে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব অবশ্য ঘেরাও করার পরামর্শ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর কথায়, “বিশদে না জেনে নেতাদের মন্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারব না। তবে এলাকায় ত্রাণের সমস্যার কথা শুনেছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব”

Advertisement

স্বাভাবিক ভাবেই শাসক দলের নেতাদের মন্তব্য নিয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মুখ খুলতে চাননি। জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক সীমা হালদার বলেন, “ময়নাগুড়িতে ত্রাণ বিলি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা খারাপই রয়েছে। বুধবার থেকেই এলাকায় ক্ষতিপূরণ এবং বিশেষ সাহায্য দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ত্রিপল বিলি করা হয়েছে।” ময়নাগুড়ির বিডিও সংহিতা তলাপাত্র জানিয়েছেন, এলাকায় মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হয়েছে।

ত্রিপল না পেয়ে এলাকার অনেক বাসিন্দাই খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন ঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুল ঘরে। সেখানে পানীয় জল, আলোর কোনও কিছুরই ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। ময়নাগুড়ির যুগ্ম বিডিও সমরেশ রায় দাবি করেন, “ঘটনার পরে চূড়াভাণ্ডার এলাকায় দুটি শিবির খোলা হয়েছে। সেখান থেকে খিচুড়ি বিলি হচ্ছে। শিশুখাদ্য পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে। ৪৭০টি ত্রিপল সোমবার বিলি করা হয়েছে। আরও পাঠান হচ্ছে।” যদিও, তৃণমূলের ময়নাগুড়ি-১ ব্লক সভাপতি মনোজ রায় অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসনের কর্তারা কি বলছেন জানি না। পরিস্থিতি দেখে দুটি শিবির খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ত্রাণ বিলি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে আলিপুরদুয়ার মহকুমাতেও। কালচিনি ব্লকের রাজাভাতখাওয়া, আলিপুরদুয়ার পুর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণের ত্রিপল পাননি বলে অভিযোগ। পুরসভার চেয়ারম্যান অনিন্দ্য ভৌমিক অভিযোগ করে বলেন, “দু’হাজার ত্রিপল চাইলেও, মহকুমা প্রশাসন থেকে মাত্র দু’শো ত্রিপল দেবে বলে জানিয়েছে।” মহকুমা শাসক নিখিল নির্মল বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় ত্রিপল কম থাকায় জেলা থেকে চাওয়া হয়েছে। সেগুলি পেলেই, বিলি করা হবে।”

ঝড়ের পরে ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও, ক্ষোভ রয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও। রবিবার সন্ধ্যার ঝড়ের আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সলসলাবাড়ির টটপাড়া, রাজভাতখাওয়া, জয়ন্তী, চেচাখাতা, আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকায় এ দিন রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিল বলে অভিযোগ। রাজ্য বিদুৎ বন্টন সংস্থার আলিপুরদুয়ারের বিভাগীয় ম্যানেজার সৌমেন দাস বলেন, “কিছু এলাকায় উপড়ে পড়া বিদুতের খুঁটি ও ছেড়া তার জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। রাত-দিন কর্মীরা কাজে লেগে রয়েছেন।”

বিদ্যুহীন হয়ে রয়েছে ভুটান লাগোয়া বানারহাট এলাকার চামুর্চিও। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। ত্রাণ বিলি নিয়েও এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। রবিবারের ঝড়ে কোচবিহারে ১০০ হেক্টর জমির বোরো ধান সহ ভুট্টা, পাট তরমুজ নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি দফতর জানিয়েছে। ক্ষতি হয়েছে অন্তত হাজারখানেক ঘর-বাড়ির। রবিবারের ঝড় শিলা বৃষ্টিতে ময়নাগুড়ি ব্লকে ২৮০ হেক্টর জমির পাট, ২৭০ হেক্টর জমির সবজি এবং ভুট্টা নষ্ট হয়েছে।

এ দিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও ঝড় শিলাবৃষ্টি হয়েছে কোচবিহারে। ঝড় হয়েছে ময়নাগুড়ির সিঙ্গিমারি এলাকাতেও।

আরও পড়ুন

Advertisement