Advertisement
৩০ জানুয়ারি ২০২৩

টাকা দিয়ে টিকিটের নালিশ এ বার বিজেপিতে

সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে শিলিগুড়ি পুরভোটে দলের টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি’র জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এক প্রার্থীই। বিজেপির প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দেওয়া বৃজকিশোরবাবুর দাবি, তাঁর জায়গাতেই ওই ব্যক্তিকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়ানো ওই প্রার্থী এ দিন অভিযোগ করেন, বিজেপি’র তরফে প্রার্থী হিসাবে তাঁর নামই ঘোষণা করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৫ ০২:২৮
Share: Save:

সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে শিলিগুড়ি পুরভোটে দলের টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি’র জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এক প্রার্থীই।

Advertisement

বিজেপির প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দেওয়া বৃজকিশোরবাবুর দাবি, তাঁর জায়গাতেই ওই ব্যক্তিকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়ানো ওই প্রার্থী এ দিন অভিযোগ করেন, বিজেপি’র তরফে প্রার্থী হিসাবে তাঁর নামই ঘোষণা করা হয়। এর পরেই গত শনিবার বিজেপি’র উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী এবং জেলা সভাপতি রথীন্দ্র বসু তাঁকে একটি হোটেলে ডাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, হোটেলে ডেকে তাঁকে বলা হয়, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে। তিনি রাজি না হওয়ায় ৪২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে গেলে তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে বিশ্বপ্রিয়বাবু এবং রথীন্দ্রবাবু তাঁকে বলেন বলেও অভিযোগ করেন বৃজকিশোরবাবু। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে রবিবার তাঁর জায়গায় সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা তাসি দর্জি লামা নামে এক জনকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন বৃজকিশোরবাবু। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সভাপতিও এর সঙ্গে জড়িত। না হলে রাতারাতি কী করে তাঁর নাম বাদ দিয়ে অন্য একজনকে প্রার্থী করা হল।

নেতৃত্বের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে বৃজকিশোরবাবু অবশ্য সোমবার মনোনয়ন জমা করে এসেছেন বিজেপি’র প্রতীকেই। তাঁকে প্রার্থী পদ থেকে সরানো নিয়ে তিনি বিজেপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে এই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত শাহকেও অভিযোগ করেছেন। রাহুল সিংহ বলেন, “ওই ব্যক্তি যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। দলীয় শৃঙ্খলা মানছেন না। তাঁকে প্রার্থী না করাই উচিত। দল ঠিক কাজই করেছে।” ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তাসি দর্জি লামা। তিনি বলেন, “টাকার লেনদেনের অভিযোগ ঠিক নয়।”

অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী বাছাইয়ের অভিযোগ তুলে এ দিন বিজেপি’র জেলা সভাপতির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় দলের ২২, ৩৫, ৩৮ , ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী-সমর্থকেরা। বৃজকিশোরবাবুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্য নেতা বিশ্বপ্রিয়বাবুও। তিনি বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। যিনি বলছেন তাঁর কাছে কি কোনও প্রমাণ রয়েছে? ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিজেপি প্রার্থী হয়ে কেউ জিতবেন এমন হলে আমরাই সব ওয়ার্ডে জিতব। যাঁরা এ ধরনের অভিযোগ তুলছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশ্বপ্রিয়বাবু জানান, দলে অনেকেই আসছেন। প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনেকের প্রত্যাশা রয়েছে। একটি ওয়ার্ড থেকে একাধিক ব্যক্তির নাম প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাঁর মধ্যে এক জনকে করা হয়েছে। তাই বলে বাকিরা দল বিরোধী কাজ করবে, ভাঙচুর করবে এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। একই সুরে বিজেপি’র জেলা নেতা বলেন, রাজ্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সব কিছু করা হয়েছে। দল বিরোধী কাজ কখনওই বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement

বৃজকিশোরবাবু জানান, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বিজেপি করছেন। সেই মতো তাঁর নাম প্রস্তাব করা হলে রাজ্য নেতাদের কাছ থেকে অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাও করা হয়। তাঁর অভিযোগ, “টাকা না দেওয়ায় ১২ ঘন্টার মধ্যে আমার বদলে আরেক জনকে প্রার্থী করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজ্য সভাপতিরও যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করি। কেন না কলকাতা থেকেই আমার নাম অনুমোদন করা হয়েছিল। তার পরে কী ভাবে তা বদলে গেল। এর বিরুদ্ধে শীর্ষ নেতৃত্বকেও জানিয়েছি। প্রয়োজনে মানহানির মামলা করব।”

বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “শিলিগুড়িতে একটি নতুন সংস্কৃতি আমদানি করা হয়েছে। একদল লোক মনে করেছেন, কাউন্সিলর হলেই প্রচুর টাকা কামানো যাবে। তাই প্রার্থী হতে চেয়ে নেতাদের বাড়ি, পার্টি অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠছে। বিল্ডিং প্ল্যান, পার্কিং জোন বিলি, ট্যাক্স কমিয়ে, ট্রেড লাইসেন্স-সহ নানা ভাবে টাকা কামানো যাবে বলে কেউ কেউ ভাবছেন। শিলিগুড়িবাসী সব বুঝতে পারছেন। সঠিক প্রার্থীকেই তাঁরা বেছে নেবেন।” জেলা সিপিএম সম্পাদক জীবেশ সরকারও উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “প্রার্থী না করায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা যে ভাবে দলের মন্ত্রীর বাড়িতে চড়াও হচ্ছেন, তা সুস্থ রাজনীতির পরিচয় দেয় না। এই সংস্কৃতি শিলিগুড়ির নয়। শহরবাসী এমন পুরবোর্ড চান, যেখানে সুস্থ পরিবেশ থাকবে। এবার সেটাই হবে।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.