Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

চলে গেলেন উনি, জানতেও পারলাম না

১০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৪
কৃষ্ণা দত্ত। (মৃত সৌম্যদর্শন দত্তের স্ত্রী)

কৃষ্ণা দত্ত। (মৃত সৌম্যদর্শন দত্তের স্ত্রী)

কয়েকটা দিনের মধ্যে কী হয়ে গেল, ভাবতে পারছি না! মেনে নিতেও কষ্ট হচ্ছে। আমার স্বামী নিজেই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। দু’বেলা রোগীর ভিড় থাকত ওঁর চেম্বারে। আর কয়েক দিনের জ্বর ওঁকেই কেড়ে নিল! ডেঙ্গি হয়েছে বলেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। এক দিকে উনি নার্সিংহোমে ভর্তি। তার মধ্যেই আমিও ডেঙ্গিতে অসুস্থ হয়ে পড়ি। বাড়িতে কী যে ঝড় গিয়েছে, বোঝাতে পারব না! শেষমেশ উনি চলেই গেলেন।

দিনটা ছিল ৩১ অগস্ট, বৃহস্পতিবার। সে দিনও ওঁর চেম্বার করেছিল। রাত ১১টা নাগাদ বললেন, জ্বর এসেছে। পরের দিন সকালেই রক্ত পরীক্ষা করানো হল। দুপুর নাগাদ রিপোর্ট এলে জানা গেল, এনএসওয়ান পরীক্ষায় শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। স্থানীয় অন্য এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে আধঘণ্টার মধ্যে এলাকারই একটি নার্সিংহোমে ওঁকে ভর্তি করানো হয়। স্যালাইনও চালু হয়। তখন প্লেটলেট আড়াই লক্ষের মতো।

শনিবার বিকেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় ওঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। প্লেটলেট তখন কমে দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৮০ হাজারে। রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওঁকে দেখে আসি। বিকেলে আর যেতে পারিনি। আমি নিজেই জ্বরে পড়ি। শনিবার জ্বর বাড়ে। রবিবার আমার এনএসওয়ান পরীক্ষায় রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়ে। বাড়ির অবস্থা তখন ছন্নছাড়া। ওঁর শরীর, আমার অবস্থা।

Advertisement

আমার দাদা সুবীর বিশ্বাস, অন্য আত্মীয়-পরিজনেরা পাশে এসে দাঁড়ান। ওঁরাই নার্সিংহোমে গিয়ে স্বামীকে দেখে আসতেন। বাড়িতে তখন আমার চিকিৎসা চলছে। দুই মেয়ের এক জন বিএ পড়ছে, অন্য জন নবম শ্রেণির ছাত্রী। ওরাও বিপাকে পড়েছে। নার্সিংহোমে কোনও সমস্যা হলে আমি অসুস্থ বলে আমাকে কেউ কিছু বলতে চাইছে না।

৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসক ওঁর জন্য প্লেটলেট জোগাড় করতে বলেন। দশ ইউনিট প্লেটলেট দেওয়া হয়। ৬ জন রক্ত দিয়েছিলেন। প্রতি ইউনিটের জন্য ৬০০ টাকা দিতে হয়। বাকিগুলি দাদারা বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে নিয়ে আসে। দাম পড়েছিল ১৪০০ টাকা করে। গরিব পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তো প্লেটলেট জোগাড় করতেই মাথা খারাপ হয়ে যাবে!

মঙ্গলবার রাতে উনি রুটি-তরকারি খেতে চেয়েছিলেন। ননদাই দিয়েও আসেন। নার্সিংহোমের তরফে বলা হয়েছিল, ওদের লোকেরা খাইয়ে দেবে। কিন্তু সেটা আর খেতে পারেননি। ওই রাতেই স্ট্রোক হয়। আমি জানতে পারিনি। সকালে বাড়িতে লোকজন ভিড় করছে দেখে বুঝতে পারি, আমার সর্বনাশ হয়েছে।

তার পরেও দু’মাস কেটে গিয়েছে। ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল, নার্সিংহোমে ভর্তি হওয়ার হিড়িক কমেনি বলেই শুনতে পাই। বুঝতে পারি না, রাজনৈতিক দলমত ভুলে কেন এই সময়ে সকলে হাতে হাত রেখে লড়াই করেন না! তা হলে হয়তো অনেক মৃত্যু, ডেঙ্গি রোগ সংক্রমণ ঠেকানো যেত। ওঁর মৃত্যুর পর কয়েক দিন এলাকায় ধোঁয়া দেওয়া হল। স্প্রে-ও করা হল। তার পর আবার এখন দেখছি না। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির লোকদের নিয়ে ভয়েই রয়েছি।

আরও পড়ুন

Advertisement