জামাইষষ্ঠীর আমন্ত্রণ জানাতে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ফোন করেছিলেন বাবা, মা। এর কিছু ক্ষণ পরেই এসে পৌঁছল মেয়ের মৃত্যুর খবর! জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় ওই বধূর ঝুলন্ত দেহ। স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন বধূর বাপের বাড়ির সদস্যেরা। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে শ্বশুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁদের জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম রিতা তালুকদার। ১৪ মাস আগে তৃণমূলের ধূপগুড়ি শ্রমিক সংগঠনের গ্রামীণ সভাপতি স্বপন দাসের ছেলের সঙ্গে ফালাকাটা থানার জটেশ্বর এলাকার বাসিন্দা রিতার বিয়ে হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এই নিয়ে আগে এক বার সালিশি সভাও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয় নি। বৃহস্পতিবার জামাইষষ্ঠীর আমন্ত্রণ করতেই মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ফোন করেছিল রিতার পরিবার। সেই সময় তাঁদের কিছুই জানানো হয়। বধূর বাবা ও মায়ের দাবি, সন্ধ্যা নাগাদই তাঁরা জানতে পারেন, মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর পরেই রিতার শ্বশুর বাড়িতে ছুটে যান তাঁরা।
সেখানে গিয়ে রিতার পরিবার জানতে পারে, সন্ধ্যায় সুমিত বাড়ি ফিরে রিতার দেহ উদ্ধার করেছে। তড়িঘড়ি রিতাকে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে চিকিৎসক রিতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরেই স্বামী সুমিত ও শ্বশুর স্বপনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রিতার বাবা বিষ্ণু তালুকদার। তিনি বলেন, ‘‘নির্মম ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে আমার মেয়েকে। সোনার-গয়না আর নগদ দিয়ে সুমিতের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পর ওঁরা মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। বাবার কথায় রিতাকে মারত সুমিত। মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নও দেখতে পেয়েছি। আমাদের সন্দেহ, রিতাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, সুমিত ও স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুকবার তাঁদের জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করানো হয়। মৃতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।