×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

কাজে অসন্তুষ্ট, ছাই তুলতে বাধা

নিজস্ব সংবাদদাতা
সদাইপুর ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:৩৩

নদী থেকে ছাই পরিষ্কারের কাজ ঠিক মতো হচ্ছে না। এই দাবিতে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই পুকুর সংলগ্ন চন্দ্রভাগা নদী গর্ভ থেকে ছাই সরানোর কাজে বাধা দিলেন এলাকাবাসী। সদাইপুর থানা এলাকায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাইপুকুর ও চন্দ্রভাগা নদী সংলগ্ন রাইপুরের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে। খবর পেয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মহীতোষ মাজি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বাধা ওঠে।

প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভরে যাওয়া ছাই পুকুর থেকে ছাই মিশ্রিত জল চন্দ্রভাগা নদীতে দূষণ ছাড়াচ্ছে এবং ছাই উড়ে জেরবার হচ্ছে জনজীবন। এই মর্মে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা হয়। সেই মামলার নিরিখে পরিবেশ আদালত নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে এবং নদীগর্ভ ও পাড় থেকে যন্ত্র দিয়ে ছাই তুলে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে নদী থেকে ছাই পরিষ্কারের কাজে দিন কয়েক ধরে হয়েছে। এ দিনও তেমনই কাজ চলছিল। তখনই বাধা দেওয়া হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে থেকে।

চন্দ্রভাগা নদী ঘেঁষা মল্লিকপুর, রাইপুর, পলসাড়া, অমিত্রপুর, গজালপুর থেকে আসা কাজে বাধাদানকারী বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের নির্দেশে কাজ শুরু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ছাই তুলে নদী গর্ভেই জমিয়ে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ছাই আবার নদীতে মিশে দূষণ ছড়াবে। তাতে আর লাভ কী? এলাকাবাসী সুবল দত্ত, রিন্টু সেন, বাবু আনসারিদের কথায়, “আমাদের দাবি ছিল, কাজ যখন হচ্ছে তখন ঠিক করা হোক। এমনিতেই ছাই জমে নদী মজে গিয়েছে। ছাই মিশ্রিত মাটি নদী গর্ভে রাখলে সে তো আবার জলে মিশবে। আমাদের দাবি, ছাই মাটি অন্যত্র নিয়ে ফেলতে হবে। তাই বাধা দেওয়া হয়েছিল।” বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মহীতোষবাবু অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁর দাবি, “কাজ কেমন চলছে, তা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার দূষণ মিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিনিধিদের আসার কথা রয়েছে। নির্দেশ মতোই কাজ চলছিল। আসলে মল্লিকপুর গ্রামের লোকেরা তাঁদের এলাকার দিকে কাজ যাতে আগে হয় সেই দাবি করছিলেন। তবে ওঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মিটে গিয়েছে।”

Advertisement
Advertisement