×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৩ মে ২০২১ ই-পেপার

দেউচায় হাকিমের গ্রামে তদন্তে সিআইডি

ভাস্করজ্যোতি মজুমদার
মহম্মদবাজার ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ২৩:৫৪

বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত আব্দুল হাকিমের গ্রাম মহম্মদবাজারের দেউচায় তদন্তে নামল সিআইডির পাঁচ সদস্যের একটি দল। বুধবার এলাকায় গিয়ে তাঁর সমন্ধে খোঁজ খবর শুরু করে তাঁরা। যদিও, গত সোমবারই ওই গ্রামে যায় সিআইডি।

এ দিন গোয়েন্দারা অভিযুক্তর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলেননি। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাপারে কথা বলেন। তবে গত সোমবার গ্রামে গিয়ে আব্দুল হাকিমের বাবা মহম্মদ সাহা জামাল, জ্যাঠা শেখ মহসিন ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। গোয়েন্দামহল সূত্রে খবর, আব্দুল হাকিমের বাড়ির ঠিকানা জানার পর থেকেই জেলা পুলিশ-প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক। তদন্তে শনিবারই নামে তারা। মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ওই গ্রামে ঘুরে সে দিনই এক প্রস্থ খোঁজ খবর নেয়। সোমবার সিআইডির তিন সদস্যের একটি দল গোপনে হাকিমের বাড়িতে হানা দেয়।

আব্দুল হাকিম সম্পর্কে কী জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা? তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, ২০০৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার গফুরপুর বরোজ নামক গ্রামে মামার বাড়িতে থাকত হাকিম। বরোজ লাগোয়া জিদ্দিপাড়া গ্রামে তাঁদের আদি বাড়ি। বছর তিনেক মামার বাড়িতে ছিল হাকিম। সেখানে সে দিনমজুরের কাজ করত। বছর চারেক আগে সে দেউচা ফিরে আসে। হাই রোডের ধারে একটি ঘর ছিল। সেখানে সে মুদিখানার দোকান করে। বছর খানেক দোকান চালানোর পর একদিন ভোরবেলায় হাকিম গ্রাম ছেড়ে পালায়। দোকানের চাবি ঘরেই পরে ছিল। খোঁজ খবর করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি আর।

Advertisement

মাস ছয়েক বাদে লোক মাধ্যমে পরিবার খবর পায়, হাকিম বর্ধমানে রিকশা চালায়। খোঁজ করে তাঁকে ধরে নিয়ে আসে তাঁর পরিবার। হাকিম পরে জানায়, বর্ধমানে সে আরবি পড়ছে। আরবি পড়ার জন্য সে চলে যায়। এর মাস ছয়েক বাদে একদিন ফোন করে জানায় যে সে বিয়ে করেছে। তাঁকে বাড়ি থেকে বলে দেওয়া হয়, তুমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছ কাজেই তুমি বৌ নিয়ে ওখানেই থাক। বাড়ি আসতে হবে না। মাস আটেক আগে তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের মাস চারেকের একটি শিশু কন্যাকে নিয়ে বাড়ি আসে আব্দুল হাকিম। আব্দুল হাকিমের পরিবার জানায়, “দিন দুয়েক থাকার পর চলে যায় আব্দুল হাকিম। তবে বাড়িতে থাকা কালিন বৌমা একবারের জন্য বোরখা খোলেনি। কার্যত আমরা কেউ বৌমার মুখ দেখিনি।” হাকিমের বাবা মহম্মদ সাহা জামাল বলেন, “আর শেষ বারের জন্য এসেছিল এক মাস সাত আট দিন আগে। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। আমার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাঙ্গালোরে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার আগে।”

হাকিম কোন স্কুলে পড়াশুনা করেছে, সে নিয়েও জানতে চায় সিআইডি। গ্রামের বাসিন্দা সীতেশ ঘোষ, পিন্টু বাউড়ি, আনোয়ার ইসলামরা বলেন, “এমনিতে ছেলেটি শান্ত প্রকিৃ্তর ছিল। তবে দীর্ঘ দিন গ্রামে ছিল না। বছর চারেক আগে এসে কিছুদিন ছিল। তারপর প্রায় তিন বছর থেকে আর দেখি না।”

Advertisement