×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৫ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

মাদলের তালে প্রকৃতি পুজো

নিজস্ব সংবাদদাতা
সদাইপুর ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০০:৫৬
সদাইপুরের কচুজোড় হাটতলায় চলছে প্রকৃতি পুজো। ছবি: দয়াল সেনগুপ্ত।

সদাইপুরের কচুজোড় হাটতলায় চলছে প্রকৃতি পুজো। ছবি: দয়াল সেনগুপ্ত।

প্রকৃতি থেকেই আমরা বাঁচার রসদ নিই। কিন্তু সেই প্রকৃতির প্রতিও আমাদের যে কিছু দায়িত্ব রয়েছে, সে কথা কি মাথায় রাখি? মহালয়ার পুণ্য সকালে ‘প্রকৃতি পুজো’র মাধ্যমে সেই কর্তব্য পালনের কথাই খেয়াল করিয়ে দিলেন ওঁরা।

ওঁরা মানে, মনোজ বিশ্বাস, অসীম শীল, রতন সরকার, বংশীধর দাস বা সবিতা কর্মকারেরা। কেউ শিক্ষক, কেউ সাহিত্য অনুরাগী। কেউ আয়কর বিভাগের আধিকারিক, কেউ আবার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী, কেই বা নার্স। শুধুমাত্র ভাললাগা ও সমমনষ্কতার জন্য মঙ্গলবার সকালে তাঁরা প্রকৃতি পুজোর আয়োজনে সামিল হলেন। সদাইপুর থানার কচুজোড় হাটতলায় আয়োজিত অভিনব ওই অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন এলাকার মানুষ। তবে, এ দিনের অনুষ্ঠান কেবল প্রকৃতিপুজোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পাশাপাশি এলাকার প্রান্তিক ৬০ জন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হল একটি করে ছাগল বা ভেড়া।

এ দিন অনুষ্ঠানের শুরুতে গাছেদের জন্য রাখা ছিল কলসী ভরে ভরে জল, সার। পাতায় পাতায় রান্না করা খিচুড়ি কুকুরদের জন্য। গরু-ছাগল-ভেড়ার জন্য খোল আর ভুষি। দানাশস্য পাখিদের জন্য। এমনকী, মাছেদের জন্যও আলাদা খাবার ছিল। অনুষ্ঠান শুরু হল ঢাকের বোলে। এর পরে অদিবাসী নৃত্য, পাতার বাঁশি, মাউথ অর্গান, আদিবাসী বেহালা। কেন প্রকৃতি পুজো সেই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সবের শেষে ধামসা-মাদল ও ঢাকের তালে শোভাযাত্রা করে বধূ রিতা বিশ্বাস, সুমিতা সরেন, সরস্বতী মুর্মু, শিবায়ন দাস, দীপু সরেনের মতো শিশুরা সেই জল, সার খাবার দানাশস্য ছড়িয়ে দিলেন। পুকুরে দেওয়া হল মাছেদের খাবার। ওঁরা সকলে বলছেন, “গাছ-পশু-পাখি-কীটপতঙ্গ এবং মাছেদের খাওয়ানোর পাশাপাশি আড় বাঁশির সঙ্গে পাতার বাঁশি, মাদলের সঙ্গে ঢাক, গিটার বা মাউথ অর্গানের সঙ্গে মিলল আদিবাসী বেহালার সুর। আদাবাসী নাচ, সকলে মিলে আনন্দে মেতে ওঠা, সব মিলিয়ে সকালটা দারুণ কাটল।”

Advertisement

আয়োজকেরা বলছেন, “প্রকৃতি পুজো আসলে দেবী দুর্গাকেই আহ্বান করা। কিন্তু দেবীর সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা যত নজর দিই, তাঁদের বাহনদের কথা ততটা ভবি কি? কিন্তু সকলকে নিয়েই তো এই প্রকৃতি!” বছর ধারাবাহিক ভাবে ওঁরা এই প্রকৃতি পুজোর আয়োজন করে আসছেন। একটি ট্রাস্টও গঠিত হয়েছে।

Advertisement