×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন, অস্বীকার শতাব্দীর

নিজস্ব সংবাদদাতা
সাঁইথিয়া ১৬ মার্চ ২০১৪ ০৪:০৫

পঞ্চায়েত ভবনের সামনে পাতা গোটা দু’য়েক টেবিল। গোটা পনেরো সবুজ চেয়ার। শনিবার সকাল থেকে সাঁইথিয়ার দেরিয়াপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ কানাঘুষোয় শুনেছেন, সেখানে সভা হবে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ শতাব্দী রায়ের।

বেলা ১১টায় এলাকারই বাগডোলা মোড়ে দাঁড়াল শতাব্দীর গাড়ি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি ঘিরে ভিড়। গ্রামবাসীর দাবি, তাঁরা তৃণমূল প্রার্থীর কাছে জানতে চান, তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেও এলাকার রাস্তার কেন হাল ফেরেনি? একই বক্তব্য সিপিএমেরও। তবে শতাব্দীর দাবি, এ দিন ওই এলাকায় তাঁর সভা করার কথা ছিল না। এমন কোনও প্রশ্ন তাঁকে কেউ করেনি। তিনি ওই এলাকার রাস্তা সারানোর প্রতিশ্রুতিও দেননি। তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ঘটনায় ‘সিপিএমের চক্রান্ত’ দেখেছেন। তবে শতাব্দী চলে যাওয়ার পরে দেরিয়াপুরে সভাও হয়নি। সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের দখলে। দেরিয়াপুর পঞ্চায়েতেও ক্ষমতায় তারাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ দিন ওই পঞ্চায়েত ভবনের সামনে শতাব্দী রায় সভা করতে আসছেন বলে এলাকায় খবর ছিল। চেয়ার-টেবিল পাতা দেখে অনেকে ভেবেছিলেন সভার জন্যই ওই আয়োজন। কিন্তু শতাব্দীর গাড়ি যখন বাগডোলা মোড়ে পঞ্চায়েত ভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছয়, তখন ধারেকাছে তৃণমূলের কেউ ছিলেন না।

এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, গাড়ির জানলার ফাঁক দিয়ে শতাব্দীর কাছে বাগডোলা থেকে হেরুকা হাইস্কুল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেহাল রাস্তা সারানো নিয়ে প্রশ্ন করেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, বছর দেড়েক আগে ওই এলাকায় সভা করেছিলেন শতাব্দী। তখনও এলাকাবাসীর তরফে তাঁর কাছে ওই রাস্তাটি সারানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। সারানোর আশ্বাসও মিলেছিল। শতাব্দী অবশ্য বলছেন, “এমন প্রতিশ্রুতি কখনও দিইনি। রাস্তা সারানো নিয়ে কোনও প্রশ্নও এ দিন কেউ করেননি। বাগডোলা মোড়ে কিছু মানুষের ভিড় দেখে গাড়ি থামাই। আমার সঙ্গে হাত মেলাতে তাঁদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়।”

Advertisement

তৃণমূলের সাঁইথিয়া ব্লক সভাপতি সাবের আলি খানের বক্তব্য, “ওখানে শতাব্দী রায়ের কোনও সভা এ দিন ছিল না।” জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, “এটা সিপিএমের চক্রান্ত।” অভিযোগ উড়িয়ে সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, “আশ্বাস থাকলেও রাস্তা সংস্কার হয়নি। তাই ক্ষুব্ধ মানুষ তৃণমূল প্রার্থীকে প্রশ্ন করেছেন। ওখানে সভা না হওয়াটা অপ্রত্যাশিত নয়।”

Advertisement