Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ব্লক সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা চেয়ে চিঠি তৃণমূল নেতার

পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠালেন নলহাটি ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারী। গত রবিবার বোলপুরে দলের জেলা সভাপতি অনুব

নিজস্ব সংবাদদাতা
নলহাটি ০৫ নভেম্বর ২০১৪ ০১:২৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠালেন নলহাটি ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারী। গত রবিবার বোলপুরে দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দলের নলহাটি ২ ব্লক চেয়ারম্যান কুদরতএ খোদা’র কাছেও চিঠির প্রতিলিপি জমা দেন তিনি।

এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করা হলে অনুব্রত দাবি করেন, ভুল খবর। পরে যখন বলা হয় যে, চিঠি দেওয়ার কথা বিভাস অধিকারী সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। তখন অনুব্রত বলেন, “দল মানেনি। আর দল এই নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে।” জেলা সভাপতি চিঠি পাওয়ার কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও ২ ব্লক চেয়ারম্যান কুদরতএ খোদা বলেন, “সোমবার বিভাসবাবুর লেখা একটি চিঠি পেয়েছি। তাতে উনি দলীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আমি বলি, সামনে নির্বাচন আসছে। এই মুহূর্তে দলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া যাবে না।”

এ দিকে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাসক দল তৃণমূলকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এ সবের সঙ্গে মাখড়া-কাণ্ড, তার পরে সিউড়িতে দলীয় কর্মসূচিতে বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা চেয়ে বিভাসবাবুর চিঠি আরও অস্বস্তি বাড়াবে বলে দলেরই নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন।

Advertisement

ঘটনা হল, এক বছর আগে এই কুদরতএ খোদাকে ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বিভাস অধিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নলহাটি কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বিভাসবাবু স্থানীয় একটি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিএড কলেজের মালিক। লোকসভা নির্বাচনের আগে নলহাটি ২ ব্লকের লোহাপুরে এমআরএম হাইস্কুল মাঠে দলীয় সভায় শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের চার জন কংগ্রেস সদস্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিভাসবাবুরই। এ ছাড়াও ওই সভায় কংগ্রেস ছেড়ে জেলা পরিষদের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অতুল দাস, ভদ্রপুর ২ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান আমানুল্লা এবং এলাকার বেশ কিছু ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন। পঞ্চায়েত ভোটের পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে ব্লক সভাপতি হন। এই সব কর্মকাণ্ড করে বিভাসবাবু দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের খুব কাছের লোক হয়ে উঠেন বলে দলেরই কিছু নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বিভাসবাবুর কথায়, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে নলহাটি ২ ব্লকের ৬টি পঞ্চায়েতের একটিও তৃণমূলের দখলে যায়নি। নলহাটি ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে একটি মাত্র কংগ্রেস সদস্য ছাড়া বাকি সব বামফ্রন্টের। তৃণমূল এখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্টের চেয়ে ১৮ হাজার ভোট কম পেয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের চেয়ে ৩ হাজার ভোট কম পেয়েছে।” বিভাসবাবুর দাবি, তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন আগের থেকে ভাল হয়েছে।

তবে কেন তিনি ইস্তফা দিলেন?

বিভাষবাবুর দাবি, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। তা ছাড়া, স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে পারছি না। তাই দলের ব্লক সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছি।” এ দিকে, বিভাসবাবু যে এলাকার বাসিন্দা, সেই এলাকাটি হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ছে। গত ২১ জুলাই হাঁসন কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মাল তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলের মধ্যে অসিত মালে প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, দলে নব্য তৃণমূল এবং পুরনো তৃণমূল সংঘাতের জন্য বিভাস অধিকারী ব্লক সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিভাসবাবু অবশ্য বলেন, “না না ও সব কিছু নয়।” তবে দলের একাংশ মনে করছেন, নতুন প্রতিষ্ঠান খুলতে বিভাসবাবুর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থাকার কথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবগত আছেন। সে জন্য তিনি আর ব্লক সভাপতি থাকুক, সেটা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে না। আর্থিক লেনদেন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে বিভাসবাবু বলেন, “মানিকবাবুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল। তাই অনেকে এই জিনিসটাকে ঈর্ষার চোখে দেখছেন। তা ছাড়া বিএড কলেজ করতে গেলে কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হয়।” এ সব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার ফোনে প্রতিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কেউ ইস্তফা দিতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন কি না বা চিঠি দিয়ে থাকলে কী কারণে দিয়েছেন এ সব খোঁজ না নিয়ে মন্তব্য করব না।”



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement