Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বাড়ছে মানুষের ভিড়, চড়ছে ঘরভাড়া

বছর কুড়ি আগেও ছবিটা ছিল অন্যরকম। খাতড়ার পাম্পমোড় থেকে রবীন্দ্র সরণি, এ টিম ময়দান থেকে মুসলিম পাড়া এই নিয়ে চার কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল খাতড়া।

দেবব্রত দাস
খাতড়া ২৮ অগস্ট ২০১৪ ০০:৪৪
নতুন বসতি গড়ে উঠেছে পূর্বাশা পল্লিতে। —নিজস্ব চিত্র

নতুন বসতি গড়ে উঠেছে পূর্বাশা পল্লিতে। —নিজস্ব চিত্র

বছর কুড়ি আগেও ছবিটা ছিল অন্যরকম। খাতড়ার পাম্পমোড় থেকে রবীন্দ্র সরণি, এ টিম ময়দান থেকে মুসলিম পাড়া এই নিয়ে চার কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল খাতড়া। আশপাশে গড়ে উঠেছিল দু-চারটে বাড়ি। ওই পর্যন্তই।

এখন পুরসভা গড়ে না উঠলেও জঙ্গলমহলের মহকুমা সদর খাতড়ায় জনবসতি অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। স্বাভাবিক ভাবেই মাথা গোঁজার আস্তানা পাওয়া নিয়ে সমস্যা বেড়ে গিয়েছে। প্রবীণরা জানাচ্ছেন, ১৯৯২ সালে খাতড়াকে পূর্ণাঙ্গ মহকুমা ঘোষণার পর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। কর্মসূত্রে চাকরিজীবী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে জঙ্গলমহলে মাওবাদী অশান্তির জেরে অনেকেই ২০০৬ সাল থেকে রানিবাঁধ, বারিকুল, রাইপুর, সারেঙ্গা থানার প্রত্যন্ত এলাকার ভিটে ছেড়ে খাতড়ায় পরিবার নিয়ে উঠে এসেছেন। ফলে শহরে মানুষের চাপ বেড়ে গিয়েছে।

এক দিকে এ টিম ময়দান পেরিয়ে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, পাম্প মোড় ছাড়িয়ে সার্কাস ময়দান, গুঁইয়ানালা, অন্য দিকে রবীন্দ্র সরণি পেরিয়ে পূর্বাশা, পাঁপড়া, চন্দনা পর্যন্ত নতুন বসতি গড়ে উঠেছে। মুসলিম পাড়া থেকে বাড়ি উঠতে উঠতে এখন গিয়ে ঠেকেছে খড়বোন মোড়ে। যত দিন যাচ্ছে খাতড়া শহরে বহিরাগত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেকে কর্মসূত্রে কয়েক বছরের জন্য খাতড়ায় বদলি হয়ে এসে ভাড়া বাড়ির খোঁজ করছেন। তাঁদের আক্ষেপ, লোকের বাড়িতেই তাঁদের ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজন মতো সে সব বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যও মিলছে না বলে তাঁদের খেদ। এর ফলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া নিয়ে সমস্যা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, খাতড়া শহরের বর্তমান আয়তন প্রায় আট বর্গ কিমি। লোকসংখ্যা ২১ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে পড়াশোনা ও চাকরির সূত্রে আরও প্রায় দু’হাজার মানুষ শহরে বসবাস করছেন। শহরে রয়েছে প্রায় ৫০০০ পাকা ও কাঁচা বাড়ি। এর পাশাপাশি শহরে রয়েছে ৮টি লজ, দু’টি আবাসন।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কর্মসূত্রে এই শহরে বাইরের মানুষের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু এখনও সে ভাবে আবাসন তৈরি হয়নি। ফলে মাথা গোঁজার জন্য বহিরাগতদের ভরসা ভাড়া বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে থাকা মানুষদের ক্ষোভ, পর্যাপ্ত সংখ্যায় বাড়ি না থাকায় ভাড়াও পাওয়া যায় না। যদি বা একটা দু’টো বাড়ি ভাড়া মেলে, সেখানেও প্রতি মাসে চড়া ভাড়া গুনতে হয়। আশ্রয়ের জন্য নিতান্ত বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। এই সমস্যার জন্য অবশ্য তাঁরা শহরে আবাসন গড়ে না ওঠাকেই দায়ী করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই শহরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন রানিবাঁধের দেউলি শুক্লা হাইস্কুলের শিক্ষক উত্তম পাল। তিনি বলেন, “শহরে আবাসন বা ফ্ল্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়ে একটি পরিবারের বাড়িতেই সপরিবারে ভাড়া নিয়ে রয়েছি। প্রতি মাসে মোটা টাকার ঘরভাড়া গুনতে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক খাতড়ার একটি স্কুলের শিক্ষক দাবি করেন, ১০ বছর আগে একটা ছোট বাড়ি মাত্র ৬০০ টাকা ভাড়ায় থাকতাম। এখন সেই বাড়ির ভাড়া হয়েছে ৩০০০ টাকা। বেগতিক দেখে আমি ভাড়া বাড়ি ছেড়ে দিয়ে এখন বাঁকুড়া শহরে থাকছি। প্রতিদিন দীর্ঘ ৯০ কিমি আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।” একই সমস্যার কথা শুনিয়েছেন অনেকেই। তাঁরা বাধ্য হয়ে কিছুদিন করে স্থানীয় লজে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাড়া বাড়ির সমস্যার জন্য অনেকেই পরিবার নিয়ে আসতে পারছেন না এই শহরে। শিক্ষক শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাড়ি ভাড়া না পেয়ে প্রথম দিকে লজে থাকতে হয়েছে। এখন আমরা সবাই মিলে কোনওরকমে ভাড়া বাড়িতে মেস করে আছি।” এলাকার লজ মালিকেরা জানাচ্ছেন, অনেকে লজে বছরের পর বছর ভাড়া থাকছেন।

এ দিকে, শহরে বসতি যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জমির দাম। ১৫ বছর আগেও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ আশ্রম, বনতিল্লা যাওয়ার রাস্তার ধারে যে জমির দাম ছিল বিঘা পিছু এক লাখ টাকা। এখন সেই জমির বাজার-দর কাঠা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। শহরের করালী মোড়, দাসের মোড়, রবীন্দ্র সরণি, পাম্প মোড় এলাকায় জমির দাম কাঠা প্রতি দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা ছুঁয়েছে। খাতড়া মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক মদনমোহন দে বলেন, “লোকসংখ্যা বাড়ছে বলেই জমির দামও সমানুপাতিক হারে বাড়ছে।”জমি বেচাকেনায় মধ্যস্থতা করা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “১৫ বছর আগে খাতড়া শহরে জমি বিক্রি করতে গিয়ে আমাদের কালঘাম ছুটে যেত। দাম তেমন মিলত না। আর এখন জমি বিক্রি আছে শুনলে খদ্দেররা হামলে পড়ছেন। যে দামে হাঁকছি প্রায় সেই দামেই জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহরে এখন দূর দূরান্তের বহু মানুষ বসবাস করতে শুরু করায় জমির দাম আকাশ ছুঁয়েছে।



আরও পড়ুন

Advertisement