Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

থানার বয়স কত, উঠল প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা
মানবাজার ০১ অক্টোবর ২০১৪ ০১:১১

শহিদ-স্মরণে এসে মানবাজার থানার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শহিদ পরিবারের সদস্যেরা। ফি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর লোকসেবক সঙ্ঘের উদ্যোগে মানবাজার থানা চত্বরে শহিদস্মরণ অনুষ্ঠান হয়। মঙ্গলবারও সেই অনুষ্ঠান হয়েছে। আর সেখানেই মাইকে থানার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শহিদ পরিবারের সদস্যেরা। বিতর্কটা মানবাজার থানার গেটের বোর্ডে লেখা থানার প্রতিষ্ঠা সাল নিয়ে। সেখানে লেখা আছে ১৯৫৯ সাল।

প্রশ্ন এখানেই। মানভূম কলেজের ইতিহাসের শিক্ষক প্রদীপ মণ্ডল জানান, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর অহিংস আন্দোলনের ঢেউ সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুরুলিয়া তথা সাবেক মানভূম জেলাতেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা সেনানিরা মানবাজার থানা ঘেরাও করেন। ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হন গোবিন্দ মাহাতো ও চুনারাম মাহাতো নামে দুই যুবক। এর পর থেকে প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর থানার ভিতরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে শহিদ-স্মরণ অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। চুনারাম মাহাতোর ভাইপো সত্যবান মাহাতো এবং গোবিন্দ মাহাতোর সম্পর্কে নাতি দিলীপ মাহাতোর ক্ষোভ, “ওঁরা দু’জন ১৯৪২ সালে শহিদ হয়েছিলেন। এই তথ্য ইতিহাসেও লিপিবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু, আমরা সম্প্রতি লক্ষ করেছি, মানবাজার থানার গেটে একটি বোর্ডে থানার প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৫৯ সাল লেখা রয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, থানা যদি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়, তাহলে ১৭ বছর আগে গোবিন্দ মাহাতো ও চুনারাম মাহাতো কোথায় মারা গিয়েছিলেন?”এ দিন শহিদ-স্মরণ অনুষ্ঠানের আগে শহর পরিক্রমায় বেরিয়ে অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা থানার প্রধান গেটের সামনে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। লোকসেবক সঙ্ঘের সচিব সুশীল মাহাতো মাইকে বলেন, “মানভূমের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। আমি পুরুলিয়ার বিভিন্ন থানায় গিয়েছি। কিন্তু বোর্ডে কোনও থানারই বয়স উল্লেখ নেই। কোন সরকারি নথির সুবাদে এই ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জানানো হোক।” ওই বোর্ড সরানোর আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এ দিন আরও একটি সংস্থার পক্ষ থেকে থানার গেটের বাইরে শহিদ-স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বয়স-বিভ্রাট সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার নীলকান্ত সুধীরকুমার বলেন, “ওই বোর্ডে মানবাজার থানার প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৫৯, এই তথ্য কী ভাবে পাওয়া গেছে জানার চেষ্টা করছি।”

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisement