Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

পুরুলিয়ায় হাতাহাতি, উত্তাল থানা

নিজস্ব সংবাদদাতা
পুরুলিয়া ০৬ জুন ২০১৬ ০১:১৫
থানার সামনে দু’পক্ষের জমায়েত। সামাল দিচ্ছে পুলিশ।—নিজস্ব চিত্র

থানার সামনে দু’পক্ষের জমায়েত। সামাল দিচ্ছে পুলিশ।—নিজস্ব চিত্র

জোটের বিজয় মিছিলের পরেই পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ালেন তৃণমূলের এক নেতা ও কর্মী। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার অনেক রাত পর্যন্ত পুরুলিয়া থানায় দু’পক্ষের নেতা-কর্মীদের জমায়েত থেকে উত্তেজনা ছড়াল। মারধরের ঘটনায় আহত হয়ে এক তৃণমূল কর্মী পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পুরুলিয়ার বিধায়কর সুদীপ মুখোপাধ্যায়, তাঁর ভাই-সহ মোট চারজনের নামে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের নেতা সুদীপ মাহাতো, দলের কর্মী শম্ভু সরকার (হাসপাতালে ভর্তি)-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস। যদিও কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি।

শনিবার বিকেলে পুরুলিয়ায় বিজয় মিছিল করে জোট। তারপরে রাত সাড়ে দশটা নাগাদ শহরের কেন্দ্রস্থল ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে এক হকারের সঙ্গে দুই জোট কর্মীর বচসাকে ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত। স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল নেতা সুদীপ মাহাতো বচসার মধ্যস্থতা করতে যান। এলাকাতেই ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক। জোটকর্মীরা তাঁকে ফোন করে সেখানে ডাকেন। এরপরেই বিধায়কের সঙ্গে ওই তৃণমূল নেতার বচসা শুরু হয়। সুদীপ মাহাতোর অভিযোগ, ‘‘বিধায়ক এসে আমাকে দেখেই বাগবিতণ্ডা শুরু করে দেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমাকে মারধর করেন। আমি প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি মাত্র।’’

Advertisement

এ দিকে সুদীপ মাহাতো আক্রান্ত হয়েছেন শুনে সেখানে ছুটে আসেন তৃণমূল কর্মী শম্ভু সরকার। ততক্ষণে জোটের কর্মীরা জুটেও গিয়েছিলেন। শম্ভুর কথায়, ‘‘আমি সুদীপের মাহাতোর পাশে দাঁড়াতেই বিধায়ক আমায় মারধর শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আমি ছুটে সোজা পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে আশ্রয় নিই।’’ সুদীপ মাহাতো জানান, তিনিও ছুটে সোজা সদর থানায় ঢুকে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, থানা পর্যন্ত ধাওয়া করে সেখানেও তাঁকে হেনস্থা করেন বিধায়ক।

যদিও বিধায়কের পাল্টা দাবি, বিজয় মিছিল শেষ করে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড মোড়ে আমি চা খাচ্ছিলাম। এক হকারের সঙ্গে কী নিয়ে গোলমাল হচ্ছে দেখে এগিয়ে যেতেই তৃণমূলের ওই নেতা-কর্মীরা আমার উপর হামলা চালায়। উল্টে ওরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’’

এ দিকে গোলমালের খবর পেয়ে রাতে থানায় পৌঁছন যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম রায়-সহ দলের কর্মীরা। জড়ো হয়ে যান জোটের নেতা-কর্মীরাও। থানার বাইরে দু’পক্ষের জমায়েত হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। গৌতম রায় ঝামেলায় ইন্ধন জোগাতে এসেছেন এই অভিযোগ তুলে ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে উদ্দেশ করে নানা মন্তব্য ছোড়া হয়। এই অভিযোগ অস্বীকার করে গৌতমবাবু বলেন, আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন এই খবর পেয়েই আমি এসেছিলাম. উল্টে থানার বারান্দায় কাল্টু(বিধায়কের ডাকনাম) ও আরও কয়েকজন মিলে আমার উপরেও চড়াও হয়েছেন. তিনি বিধায়ক, তাঁর ভাই সহ মোট চারজনের নামে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন. বিধায়কও সুদীপ মাহাতো, শম্ভু সরকার সহ তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন. পৃথক আরেকটি অভিযোগ করেছেন সুদীপ মাহাতোও. তাঁর বিরুদ্ধে ওটা অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ. থানার বারান্দায় আমি আক্রমন করলে অন্যদের চোখে পড়বে না. জোটের কর্মীদের কথা্য়, তৃণমূল পরাজয় মানতে পারছে না.

তৃণমূলের জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘এই ধরনের বিশৃঙ্খলা কখনই কাম্য নয়। আমরা রাজনৈতিক ভাবেই এর জবাব দেব।’’ কংগ্রেসের শহর নেতা বিভাস দাস বলেন, ‘‘ঘটনা যাই হোক বিধায়কের আচরণের উপরে দলের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। একজন বিধায়কের কখনই হাতাহাতিতে জড়ানো কাম্য নয়।’’ যদিও বিধায়ক বলেছেন, ‘‘আমি কারও সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াইনি। আমার উপরে চড়াও হওয়ায় আমি প্রতিরোধ করেছি।’’

আরও পড়ুন

Advertisement