×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৫ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

গণধর্ষণের পরে খুনের হুমকি বড়জোড়ায়, ধৃত

নিজস্ব সংবাদদাতা
বড়জোড়া ১৪ অক্টোবর ২০১৭ ০১:২৪
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

খুনের ভয় দেখিয়ে এক কিশোরীকে বারবার গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। কিন্তু খুনের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেনি সে। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় ঘটনাটি নজরে আসে পরিবারের কাছে। তখনই চাপে পড়ে ওই নাবালিকা বাড়িতে সব কথা খুলে বলে। বড়জোড়া থানা এলাকার ওই কিশোরীর পরিবারের দাবি, এখন সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই নাবালিকার পরিবার ঘটনাটি নিয়ে বড়জোড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়েই দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে বুধন বাউরি ও লেবু বাউরি ওই নাবালিকার গ্রামেরই বাসিন্দা। আরেক অভিযুক্ত পড়শি গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ভুঁই পলাতক। তার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পকসো (প্রোটেকশন অব চিল্ড্রেন ফর্ম সেক্সুয়াল অফেন্সেস) আইনে গণধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের বাঁকুড়া আদালতে তোলা হলে, জেল হাজত হয়।

চাইল্ড লাইন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়জোড়া থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নির্যাতিতা কিশোরীর মা মারা গিয়েছেন বহু বছর আগেই। গ্রামের বাড়িতে সে বাবার সঙ্গে থাকে। বাড়ি-বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে রোজগার করে সে। ওই কিশোরীর অভিযোগ, ‘‘মাস সাতেক আগে এক সন্ধ্যায় কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম সংলগ্ন একটি ফাঁকা মাঠে আমাকে আটকে জোর করে মুখে ওড়না চাপা দিয়ে ওই তিন জন যুবক গণধর্ষণ করে। কাউকে ঘটনাটি জানালে আমাকে ও বাবাকে ওরা খুন করবে বলে হুমকি দেয়।’’ নির্যাতন সেখানেই শেষ হয়নি। কিশোরীর আরও অভিযোগ, “ওই দিনের পরে আরও অন্তত বার চারেক আমাকে জোর করে গণধর্ষণ করেছে ওরা। মুখ খুললে পাছে আমাদের মেরে ফেলে, সেই আশঙ্কায় আমি কাউকে কিছু বলার সাহস পাইনি।”

Advertisement

পরিবার সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বর মাসে ওই নাবালিকার বাবা প্রথমে মেয়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে বলে বুঝতে পারেন। ঘটনাটি তিনি নিজের বড় মেয়েকে ফোনে জানিয়ে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলেন। বাবার ফোন পেয়ে ওই নাবালিকার দিদি বাড়িতে এসে বোনের প্রস্রাব পরীক্ষা করান বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।

পরিবারের দাবি, হাসপাতালের রিপোর্টেই তাঁরা নিশ্চিত হন, ওই নাবালিকা গর্ভবতী। চিকিৎসকেরা তাঁদের জানিয়েছেন, নির্যাতিতা এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর পরেই ওই নাবালিকাকে তার দিদি চেপে ধরলে গোটা ঘটনাটি সামনে আসে। পরিবারটির দাবি, বড়জোড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। যদিও পুলিশের দাবি, নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অভিযোগ পেয়েই তারা দু’জনকে ধরেছে।

বৃহস্পতিবার ওই নাবালিকার পরিবার বাঁকুড়ায় জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদক দুর্গাশঙ্কর রানা বলেন, “ঘটনাটি জানার পরেই আমি পুলিশ ও চাইল্ড লাইনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি করি।’’ ওই নাবালিকার পরিবারকে নিয়েই শুক্রবার রাতে থানায় যান বাঁকুড়া চাইল্ড লাইনের সদস্যেরা।

বাঁকুড়া চাইল্ড লাইনের সদস্য শুভ্র শীট, রুমা মণ্ডল, শ্রীমন্ত বাউরি ওই নাবালিকার বাড়ি গিয়ে তাকে কাউন্সেলিং করেন। ওই নাবালিকার বাবা দোষী ব্যক্তিদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। তবে নির্যাতিতার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ কী সেই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। নাবালিকার বাবা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে যদি সন্তানটিকে জন্ম দিতে হয়, তাহলে প্রশাসনকেই সাহায্য করতে হবে। বাচ্চা নষ্ট করলে যদি মেয়ের ক্ষতি হয়, তা হলে তা করার পক্ষে আমরা নই। তবে আমার একার পক্ষে এখন মেয়েকে বাড়িতে রেখে দেখভাল করা সম্ভব নয়। প্রশাসন ওকে হোমে রাখলেই ভাল।’’

সন্তানকে সে জন্ম দিতে চায় কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই নাবালিকার কাছেও। বাঁকুড়া চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর সজল শীল বলেন, “নাবালিকার পরিবার যদি আমাদের কাছে তাকে হোমে রাখার আবেদন করেন, তাহলে আমরা শিশু কল্যাণ সমিতির নজরে বিষয়টি আনব।”



Tags:
Gangrape Rape Barjoraবড়জোড়া

Advertisement