E-Paper

‘ওয়টস্যাপে’ নিয়োগ নয়, মমতা সরকারকে বিঁধে আশ্বাস শুভেন্দুর

রাজ্যে পরিবর্তনের লড়াইয়ে কর্মসংস্থান ও তাতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিদায়ী শাসককে কোণাঠাসা করে ফেলেছিল বিজেপি। শিক্ষক, পুর- কর্মী সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি নিয়ে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৮:৫৬
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

শুধু রঙেই নয়, প্রশাসনে বদল প্রমাণের দায় ছিল রাজ্যের বিজেপি সরকারের। সরকারি নিয়োগে ‘নতুন নীতি’র আশ্বাসে তা পূরণের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বচ্ছতা রক্ষায় সেই নীতি প্রণয়নে রাজ্য বিধানসভায় আইন পাশ করা হবে বলে জানালেন তিনি। শনিবার শিয়ালদহে রেল মন্ত্রক আয়োজিত ‘রোজগার মেলা’ অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে নিয়োগ ব্যবস্থা ‘কলুষিত’ হয়ে গিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এই অবস্থা থেকে আমাদের প্রিয় বঙ্গভূমিকে বের করে আনতে হবে।’’ বিদায়ী সরকারকে খোঁচা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমরা চাই, স্বচ্ছতার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা। ওয়টস্যাপ মেসেজে আর যেন নিয়োগ করা না হয়!’’

রাজ্যে পরিবর্তনের লড়াইয়ে কর্মসংস্থান ও তাতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিদায়ী শাসককে কোণাঠাসা করে ফেলেছিল বিজেপি। শিক্ষক, পুর- কর্মী সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি নিয়ে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ‘ওএমআর শিট’-এ কারচুপিই ছিল অভিযোগের কেন্দ্রে, এ দিন সে সব মনে করিয়ে করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আধিকারিকদের থেকে জানলাম, এখানে ‘ওএমআর শিট’-এর কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের সঙ্গে জমা নিয়ে নেওয়া হয়। ঠিক এখানেই স্বজন পোষণ, দুর্নীতির জন্ম হয়।’’ এই প্রসঙ্গেই তাঁর সমাধান, ‘‘যে পরীক্ষার্থীর হাতে উত্তরপত্রের কার্বন কপি থাকা জরুরি।’’ এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে আগামী ৬ জুন কেন্দ্রীয় নিয়োগ সংস্থা ও রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ সংস্থার মতবিনিময়ের ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নতুন সরকারের এই অবস্থান সম্পর্কে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কাজের নিরিখেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল্যায়ন করতে হবে। এখনই ভাল বা মন্দ বলার সময় হয়নি।’’ সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘বিজেপি আমলেই ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় শুধু আশ্বাসে নয়, কাজে করে দেখাতে হবে।’’

কর্মসংস্থানের প্রশ্নে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মতো ঘটনা তৃণমূল সরকারকে ‘কাঠগড়ায়’ তুলে দিয়েছিল। রাজনীতিতেও এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সহ সব বিরোধীরা। নতুন সরকারের কাছে তা নিয়ে প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কে সতর্ক মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘রেল সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায়ে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, রাজ্যেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আস্থা ফেরাতে তা অনুসরণ করা হবে।’’ সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্যে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার চাকরির ক্ষেত্রে মানা হয়নি। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় উপযুক্ত গুরুত্ব দিতে চাই। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমাতে চাই।’’ পাশাপাশি তফসিলি জাতি, জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের চাকরি ক্ষেত্রে যে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশিকা রয়েছে, তৃণমূল আমলে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাশাপাশি সরকারি স্তরে শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিল কার্যকর করতে উদ্যোগী হল রাজ্য প্রশাসন। সব দফতরের প্রধানদের উদ্দেশে অর্থ দফতরের বার্তা—প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দফতর, দফতরগুলির অধীনে ডাইরেক্টরেট, দফতরগুলির আঞ্চলিক বা জেলাভিত্তিক কার্যালয়গুলিতে তেমন শূন্যপদ গত ১ মে পর্যন্ত কত রয়েছে, নির্দিষ্ট বয়ানে তার রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। ৩ জুনের মধ্যে এই রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র।

এ দিন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর জানান, জমি- জট কাটাতে রাজ্যের সঙ্গে রেলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওই সমস্যা মেটাতে রাজ্যের পক্ষ থেকে নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছেন বলে জানান তিনি। রাজ্যে কল্যাণী - রানাঘাট তৃতীয় লাইন, রানাঘাট - বনগাঁ ডবল লাইন, চন্দনপুর - শক্তিগড় চতুর্থ লাইন ছাড়াও হাওড়া থেকে ধানবাদের মধ্যে প্রায় ৬০ টি রেল ওভার ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করার মতো প্রকল্পগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার।

এ দিন সারা দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫১ হাজার চাকুরী প্রার্থীর হাতে একাধিক অনুষ্ঠান থেকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই দিনে খড়োগপুরের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দুর মঞ্চে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কাশীপুর- বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy