গত কয়েক বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে বাঘের দেখা মিলেছে বহু বার। জঙ্গলে বসানো স্বয়ংক্রিয় ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’র ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছে বন দফতর।
দফতর সূত্রের খবর, চার বছর অন্তর বাঘ গণনা হয়। ২০২২ সালে হওয়া শেষ ব্যাঘ্রসুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০১টি। এই হিসাবে ব্যাঘ্র শাবকদের (দু’বছর পর্যন্ত বয়সের) ধরা হয় না। বাঘের সংখ্যা গণনার জন্য গত বছর ডিসেম্বরে জঙ্গলের প্রায় ৪১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১৪৮৪টি ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’ বসানো হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাঘের ছবি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে বন-কর্তাদের দাবি, সুন্দরবনের জঙ্গলে এই মুহূর্তে অন্তত ১১০টি বাঘ রয়েছে।
বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে খুশি বনাধিকারিকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক কর্তা বলেন, ‘‘বাঘের সংখ্যা যে এ বার কিছুটা বাড়বে, তা আগেই অনুমান করেছিলাম। গত কয়েক বছরে যে ভাবে ব্যাঘ্র শাবকের দেখা মিলেছিল, তাতে বাঘ-সংখ্যা বাড়াটাই স্বাভাবিক। ক্যামেরার ছবি বিশ্লেষণ করে সে ফলই মিলেছে।” ইতিমধ্যেই সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের তরফে ‘ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি’র কাছে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সারা দেশের বাঘের সংখ্যার সঙ্গে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যাও একসঙ্গে প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।
বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা জয়দীপ কুণ্ডুর মতে, ‘‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কৃতিত্ব বনকর্মীদের এবং যৌথ পরিচালন কমিটির। বাঘ সংরক্ষণে বন দফতরের উদ্যোগেরফল মিলছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)