জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন তিন দিন আগে। এ বার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ। নাম-না করে নিশানা করলেন দলেরই আর এক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, দুর্নীতি থেকে আরজি কর কাণ্ড তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে। বুধবার তিনি লেখেন, ‘আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ আরজি করের প্রাক্তনী কাকলী এ-ও জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করেছেন। পাশাপাশি, চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, (তখন) সে পদে থাকার মানে হয় না।’
এখানেই শেষ নয়, চিঠির দ্বিতীয় অংশে কাকলি নিশানা করেছেন তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা আই-প্যাককে। প্রবীণ সাংসদ জানিয়েছেন, আই-প্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে নানা অভিযোগ উঠেছে। সেগুলোও তাঁকে বিচলিত করেছে। দলের রাজ্য সভাপতিকে সাংসদ লিখেছেন, ‘যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।’
সাংসদ কাকলি জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেননি। দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন।
সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ওই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যার প্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমে অভিমান ব্যক্ত করেছিলেন কাকলি। তিনি লিখেছিলেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ ঘটনাক্রমে রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন। মঙ্গলবার কাকলি উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে কাকলি জানিয়েছিলেন প্রশাসন সবার। সেখানে দল দেখা অনুচিত। শুভেন্দু জানান, তাঁরা ‘বিশেষ বিশেষ সাংসদ’কে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকবেন। তৃণমূল জমানায় বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা বৈঠকে ডাক পেতেন না। সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি মুছে দেবে বিজেপি সরকার।