আমার যখন প্রথম পিরিয়ড হয়, তখন জানতে পারি ব্যাপারটা আসলে কী! তার আগে কিন্তু মা আমাকে কিছু বলেনি।

সে সময় এক বার মা বাড়িতে ছিল না। বাধ্য হয়ে আমার অসুবিধের কথা বাবাকে বলেছিলাম। কারণ, আমার আর কোনও উপায় ছিল না। বাবা প্রথমে অদ্ভুত ভাবে তাকালেও, পরে এটা ভেবে খুশি হয়েছিলেন, যে আমি ওপেনলি ডিসকাস করতে পারছি। যে দিন সব মেয়েরা এটা নিয়ে ওপেনলি বলতে পারবে, যে দিন পিরিয়ড হওয়ার আগেই মেন্টাল প্রিপারেশনের জন্য সব মেয়েরা এ ব্যাপারটা জানবে, সে দিনই আসলে নারী দিবস।

ক’দিন আগেই ‘প্যাডম্যান’ রিলিজ করেছে। তার আগে আমরা দেখেছি ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’। উওম্যান নিড টু কেয়ার অ্যাবাউট দেয়ার হাইজিন। এ সময়ে এই ধরনের ভাবনা খুব দরকার। আমার নিজেরই তো মনে হয়েছিল, আমাকে কেন পিরিয়ডের আগে জানানো হয়নি। আসলে নারী দিবস নিয়ে বড় বড় কথা না বলে এ সব আগে ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন, কোনও পুরুষ দিবস আছে কি? তা হলে নারী দিবস কেন?

আসলে আমি মনে করি প্রত্যেক দিন ঘুম থেকে উঠে প্রত্যেকটা মেয়ের বলা উচিত, আমি সুন্দর, স্ট্রং, পাওয়ারফুল— আমি সব করতে পারি। বাড়িতে কে কী ব্রেকফার্স্ট করবে, পোষ্যরা কী খাবে, বাড়ির প্রত্যেকটা আলো জ্বলছে কি না— এ সব ছোট ছোট জিনিস যখন প্রত্যেক দিন মেয়েরা খেয়াল রাখে, বাড়িটা এত ভাল করে সামলায়, তা হলে মেয়েরা যে কোনও কাজই করতে পারে। আমার তো মনে হয়, মেয়েরা মাল্টি টাস্কিং করতে পারে। ছেলেরা তুলনায় কম।

আরও পড়ুন, আমি মনে করি, নারী আগে, পুরুষ তার পরে

নারী দিবসের আগে আমার আরও একটা বিষয় বলার আছে। একটা ঘটনা বলি। মুম্বইতে একটা বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়েছিলাম। ওখানে মেকআপ আর্টিস্টকে বার বার ওরা বলছিল, অনিন্দিতাকে ফর্সা করে দাও। মানে, আমার কালো গায়ের রং নিয়ে ওদের সমস্যা ছিল। আমার এটা নিয়ে আপত্তি আছে। স্টপ থিঙ্কিং অ্যাবাউট দ্যাট আইডিয়াল লুক। ফর্সা হতে হবে, ৩৬-২৪-৩৬ সাইজ হতে হবে, এ সব জাস্ট ভুলে যান। ভগবান যে ভাবে তৈরি করেছেন, সেই আমিটাকেই ভালবাসুন। বোটক্স, স্কিন ট্রিটমেন্ট— একদম করবেন না। এই নারী দিবসে সেই প্রমিসটাই করুন না…।

আরও পড়ুন, এখনও এ সমাজে মেয়েরা শুধুই ‘মেয়ে’!