সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভ্রূণে জটিলতা, গর্ভপাতে সায় আদালতের

Calcutta High Court
আদালতের মতে, দেশের সংবিধান মা এবং তাঁর সন্তান দু’জনকেই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার দিয়েছে।

সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্ত উল্টে গেল ডিভিশন বেঞ্চে। বেলেঘাটার ২৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভপাত করাতে সোমবার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তাদের এই রায় যুগান্তকারী বলে মনে করছেন হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দেশের সংবিধান মা এবং তাঁর সন্তান দু’জনকেই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার দিয়েছে। সংবিধানে মানুষের মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়েছে। ‘কেবল অস্তিত্ব’ নিয়ে পশুর মতো বেঁচে থাকার কথা বলা নেই।

ওই অন্তঃসত্ত্বা জানুয়ারির গোড়ায় জানতে পারেন, তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণে জটিলতা রয়েছে। শিশু ভূমিষ্ঠ হবে ‘ডাউন সিন্ড্রোম’ নিয়ে। গর্ভধারণের ২৫ সপ্তাহের মাথায় তিনি গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর আদালতের দ্বারস্থ হন। গর্ভপাত করানো উচিত হবে কি না, তা জানার জন্য বিচারপতি চক্রবর্তী ওই মহিলাকে এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হতে বলেন। মেডিক্যাল বোর্ড জানায়, মহিলার গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্রোমোজ়োমে যে-জটিলতা রয়েছে, তাতে সন্তান জন্মাবে ‘ডাউন সিন্ড্রোম’ নিয়ে। তবে সে বেঁচে থাকবে। ভ্রূণে যে-সব জটিলতা থাকলে গর্ভপাত আইনসম্মত, ডাউন সিন্ড্রোম-যুক্ত ভ্রূণ সেই তালিকায় পড়ে না। ডাউন সিন্ড্রোম-যুক্ত শিশু ভাল পরিচর্যা পেলে, সাধারণের সঙ্গে খোলামেলা মিশলে সুস্থ জীবন কাটাতে পারে। তার ভিত্তিতেই বিচারপতি চক্রবর্তী ওই মহিলাকে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দেননি।

ডাউন সিন্ড্রোম কী

• একটি জিনঘটিত অসুখ। এতে শারীরিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ ঠিক মতো হয় না। মস্তিষ্কের গঠন ঠিক মতো না-হওয়ায় আচরণগত সমস্যাও দেখা যায়। ক্রোমোজ়োমের গঠনগত ত্রুটি থাকায় সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সম্ভাবনা কম।

বিচারপতি চক্রবর্তীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন ওই অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর আইনজীবী কল্লোল বসু ও অভিষেক কুশারী জানান, গর্ভপাতের অনুমতি দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই গর্ভাবস্থা অটুট থাকলে তার পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। ডাউন সিন্ড্রোম নিয়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে মায়ের বাকি জীবনের মানসিক যন্ত্রণার দিকটিও আদালতকে বিচার করতে হবে। এই ধরনের সন্তান কেবল তার মায়ের নয়, সমাজেরও বোঝা হয়ে বেঁচে থাকবে। মায়েরও মানসিক সুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে।

কল্লোলবাবু জানান, ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই মহিলা সন্তানের জন্ম দিলে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসার চূড়ান্ত ফল কী হবে, বোর্ড নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের উচিত ছিল, ওই সন্তানের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া। কিন্তু এই ব্যাপারে সরকার অক্ষমতার কথা জানিয়েছে। তাই গর্ভপাতের পক্ষেই সায় দিচ্ছে আদালত। গর্ভপাত করাতে হবে নথিভুক্ত কোনও নার্সিংহোম বা হাসপাতালে। আইনজীবীদের একাংশ জানান, মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছিল, ডাউন সিন্ড্রোম-যুক্ত ভ্রূণ গর্ভপাতযোগ্য নয়। ডিভিশন বেঞ্চ চিকিৎসাবিজ্ঞানের খুঁটিনাটির চেয়েও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিষয়টির বিচার করেছে। এই রায় যুগান্তকারী। ‘‘পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান, এমন মহিলার পক্ষে ডাউন সিন্ড্রোম-যুক্ত সন্তানকে প্রতিপালন করা কি সম্ভব! ডিভিশন বেঞ্চ দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে,’’ বলেন এক প্রবীণ আইনজীবী।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন