আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর নিয়ম করে ক্যালেন্ডারে থাকে এই দিনটা। উত্সব, আনন্দও হয়। কিন্তু তাতে কি মেয়েদের অবস্থা কিছু বদলায়?

আসলে শহরে বসে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অসম্ভব। শহরে বসে বোঝা যাবে না প্রত্যন্ত মফস্‌সলে মেয়েদের অবস্থা কী রকম। ফলে আমাদের কথাই বলি।

আমার কী মনে হয় জানেন, ক্যালেন্ডারে বিশেষ দিনগুলোকে দেগে দেওয়াই ভাল। তাতে যদি মানুষের বোধোদয় হয়। আমাদের যদি এখনও ‘জেব্রা ক্রসিং ধরে পার হন’, এটা লিখে দিতে হয়, ‘অন্ধ মানুষকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দিন’— এটা লিখে দিতে হয়, তা হলে সেলিব্রেশন হলে খারাপ কী? আমরা যদি আজ অর্থে প্রত্যেকটা দিন ভাবি, প্রত্যেক দিনের সমার্থক যদি আজ হয়, তা হলে সেলিব্রেশনে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সমাজের পরিবর্তনটা বুঝতে গেলে প্রত্যন্ত জায়গায় যেতে হবে।

আরও পড়ুন: সোনাগাছির স্কুলে বেবি এখন বাংলা-হিন্দির দিদিমণি

তবে বদল তো নিশ্চয়ই হয়েছে। আগে রবিবার বিশ্রামের দিন ছিল। এখন কাজের দিন। তেমনই লেখাপড়ার ওপর সার্বিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের থেকে মানসিকতাও বদলাচ্ছে অনেকটাই। বদল হচ্ছে। দেরিতে হলেও আসুক বদল।

আরও পড়ুন: চাষির ছদ্মবেশে ছেড়েছিলাম বাড়ি​

এ ছাড়া যদি স্বাধীনতার কথা বলেন, এক এক জনের কাছে স্বাধীনতা এক এক রকম। ধরুন এক জন অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষ, মাস গেলে বউয়ের হাতে আট হাজার টাকা দিচ্ছেন। বউয়ের স্বাধীনতা কী? ওই আট হাজার থেকে কিছু বাঁচিয়ে নিজের মতো খরচ করা। তার থেকে আর একটু উচ্চ অবস্থানে যখন যাবেন তাঁরা, তখন আট থেকে ওটা ১৬ হাজার হবে। স্বাধীনতা ছেলে-মেয়ে উভয়েরই আছে।

বিখ্যাত নারীদের নিয়ে এই প্রশ্নগুলি জানতেন?

পরাধীনতাও তাই। স্বাধীনতা মানেই সিগারেট খাওয়া বা ছোট জামা পরা নয়। স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতা সেটাই যে নিজে পড়েনি, পড়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু মেয়েকে পড়াচ্ছে, পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও। সে আমার কাছে স্বাধীনচেতা মানুষ। আবার কারও কাছে ১১টার পর বাড়ির বাইরে থাকাটা স্বাধীনতা। ফলে আন্তর্জাতির নারী দিবস আসছে, মানসিকতা পাল্টাচ্ছে, মানেই সকলে, অর্থাত্ সকল মহিলা স্বাধীনচেতা হয়ে উঠছেন, এমনটা নয় হয়তো।

আরও পড়ুন: মহিলাদের নিয়ে এই বিশেষ তথ্যগুলি জানতেন?

যদি আমার কথা জানতে চান, বলব…আমার কাছে প্রত্যেক দিনই ভালবাসার দিন। মানসিক স্বাধীনতার দিন। আজ অর্থে প্রত্যেকটা দিন বরং ভাবতে শিখি আমরা…।