পহেলগাম হামলার পরে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত হয়েছে একাধিক জঙ্গি নেতা। পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নিহত হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে। তার পরেও বারবার জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বীকার করছে পাকিস্তান। কিন্তু পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী হামজ়া বুরহানের অন্ত্যেষ্টিতে জঙ্গি নেতাদের ভিড়ে পাকিস্তানের সেই দাবির অসারতা ফের প্রমাণ হয়ে গেল বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে হামজ়া বুরহান ওরফে আর্জুমান্দ গুলজ়ার দার ওরফে ডক্টর অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হয়। গত কাল ইসলামাবাদে তার অন্ত্যেষ্টির ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে একাধিক অতিপরিচিত জঙ্গি নেতাকে। তাদের মধ্যে রয়েছে হিজ়বুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন ও আল বদরের শীর্ষ নেতা বখত জ়ামিন খান। এদের মধ্যে সালাউদ্দিন আমেরিকার জঙ্গি তালিকায় রয়েছে। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের অফিসারদেরও ওই জমায়েতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি সূত্রের।
হামজ়ার অন্ত্যেষ্টি ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছিল ইসলামাবাদে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাহারায় ছিল দলে দলে সশস্ত্র জঙ্গি। বিশেষত বখত জ়ামিন খানের সুরক্ষা ছিল নজরকাড়া। এ কে-৪৭ ও অন্য আধুনিক অস্ত্র নিয়ে তাকে পাহারা দিচ্ছিল জঙ্গিদের একটি বড় দল।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, সম্প্রতি পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলায় বেশ কয়েক জন জঙ্গি নেতা নিহত হয়েছে। ফলে হামলার ভয়েও কড়া নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছিল ইসলামাবাদে।
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয়ের উপরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন জওয়ান নিহত হন। ভারতের দাবি, সেই হামলার পিছনে হাত ছিল পুলওয়ামারই রাতনিপোরার বাসিন্দা হামজ়ার। পরে সে বৈধ নথির সাহায্যেই পাকিস্তানে যায় ও আল বদর গোষ্ঠীতে যোগ দেয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২২ সালে হামজ়াকে ‘জঙ্গি’ তকমা দেয়। সে পাকিস্তান থেকে আল বদরের কাজকর্মে অর্থ জোগান ও যুবকদের মৌলবাদে দীক্ষিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল বলে দাবি ভারতীয় গোয়েন্দাদের।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি হামজ়া পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ভুয়ো পরিচয়ে শিক্ষকের কাজ করত। মুজ়ফ্ফরাবাদে একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিল সে। কলেজ চত্বর থেকে বেরোনো মাত্র তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)