ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। অপেক্ষা শুধু ঘোষণার। রবিবার এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ-ও জানান, সমঝোতার অংশ হিসাবে আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে।
রবিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে শুধু কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি মাত্র। তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার দিকে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। শীঘ্রই তা ঘোষণা হবে। চুক্তিতে অনেক বিষয় আছে। তবে তার মধ্যে অন্যতম বিষয়ই হল হরমুজ় প্রণালী। চুক্তির অংশ হিসাবে ওই প্রণালী খুলে দেওয়া হবে।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথবাহিনী ইরান আক্রমণ করে এবং সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। এর পরেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। গত ৪ মার্চ তারা হরমুজ়ের উপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ঘোষণা করে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, কোনও জাহাজ ওই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তার উপর হামলা হবে।
হরমুজ় প্রণালীর চার দিকে যে সব দেশ রয়েছে— প্রতিটিই অপরিশোধিত তেলের খনি। এই দেশগুলি থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করা হয়। রফতানির অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ়। তেলসমৃদ্ধ পশ্চিম এশিয়া থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তো বটেই, ইউরোপ, আমেরিকাতেও পণ্য পরিবহণ করা হয় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সারা বিশ্বের জ্বালানির এই প্রাণকেন্দ্রে আঘাত করে বসেছে ইরান। তবে আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি পর্বে হরমুজ়ের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করেছে ইরান। ‘বন্ধু’ দেশগুলির পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না তারা। যদিও হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত না-হওয়া বিভিন্ন দেশের তৈলভান্ডারে টান পড়তে শুরু করেছে।
সেই আবহে আমেরিকা বার বার দাবি করছে, হরমুজ় মুক্ত করবেই তারা। প্রয়োজনে তারা নৌবাহিনী পাঠিয়ে পণ্যবাহী জাহাজগুলি পাহারা দিয়ে হরমুজ় পার করাবে। শুধু তা-ই নয়, হরমুজ় প্রণালীতে পাল্টা ‘অবরোধ’ও শুরু করে আমেরিকা। তারা দাবি করে, ইরানের কোনও বন্দর থেকে কোনও জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কোনও জাহাজ আসতে পারবে না ইরানি বন্দরে। তার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
সংঘাতের সমাধান খুঁজতে উদ্যোগী হয় পাকিস্তান। তাদের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তিবৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। যদিও ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠক ব্যর্থ হয়। কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি ওই বৈঠক থেকে। তবে এখনও আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আবার শান্তিআলোচনা শুরু করাতে চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। শুধু তারা নয়, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশও একই চেষ্টায় রয়েছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এ-ও জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরান এবং একটি বৃহত্তর শান্তি বিষয়ক সমঝোতা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘আমি ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলেছি। সেই আলোচনাও খুব ভালভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’’
হরমুজ় নিয়ে ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করেছে ইরান। তারা জানিয়েছে, চুক্তির অংশ হিসাবে হরমুজ় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে তেহরানের হাতেই। পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই বলেই মত ইরানের।