ইউরোপে শরণার্থীরা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হন? হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষের হতাশা, নিরাশার প্রতিচ্ছবি নিজের বইয়ে তুলে ধরলেন লেখিকা শতরূপা ঘোষ। সদ্য আমস্টারডামে তাঁর লেখা নতুন বই ‘হোয়্যার ডু দে বিলং?’ প্রকাশিত হয়েছে। সেই বই নিয়ে সাধারণ পাঠককূলের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়েছে।
‘হোয়্যার ডু দে বিলং?’ বইটি ‘যাদের দেশ বলে কিছু নেই’-এর ইংরেজি সংস্করণ। ওই বইটিও শতরূপার লেখা। গত বছর অগস্টে কলকাতায় সেই বই প্রকাশিত হয়। শতরূপার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নাড়ির সম্পর্ক থাকলেও বছর কুড়ি দেশছাড়া তিনি। ইউরোপে তাঁর জীবন সংগ্রামের ছবিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে শতরূপার বইতে। নিজের পরিবার বন্ধুবান্ধব ছেড়ে নতুন দেশে নতুন ভাবে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা কতটা কঠিন, তা উপলব্ধি করেছেন শতরূপা। তাই নিজের বইতেও হাজার হাজার শরণার্থীর কিছু সাধারণ সমস্যার বিষয় তুলে ধরতে পেরেছেন।
শতরূপা মনে বার বার প্রশ্ন জেগেছে,‘‘ইউরোপে তাঁর মতো মানুষদের একটা সুস্থ জীবন সম্ভব?’’ অনেকেই রাজনীতির ঘোলাজলের শিকার হন। ইউরোপে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতেই বছরের পর বছর কেটে যায়। প্রয়োজনে ডাচ শিখতে হয়েছিল শতরূপাকে। সেই ক্লাসে গিয়ে তিনি দেখেছেন তাঁর সহপাঠীরা অধিকাংশই শরণার্থী। ‘হোয়্যার ডু দে বিলং?’ বইটিতে অভিবাসী বিতর্কের রাজনৈতিক দিকগুলিও তুলে ধরেছেন শতরূপা। নানা দেশের নানা মানুষের ইউরোপে শরণার্থী হয়ে থাকার গল্প ফুটে উঠেছে তাঁর লেখনিতে। এ-ও প্রশ্ন করেন, ‘‘নেদারল্যান্ডসে আমরা সমতা, সাম্য, বৈষম্য ও বর্ণবাদ না-থাকার কথা বলি। কিন্তু সত্যিই কি সাম্য আছে? সত্যিই কি কোনও বৈষম্য নেই?’’ শতরূপা মনে করেন, ‘‘এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার।”
আমস্টারডামের দ্য আমেরিকান বুক সেন্টারে (এবিসি) তাঁর বই উন্মোচনের অনুষ্ঠানে শতরূপা বলেন, ‘‘আমার জন্ম এক জায়গায়, কিন্তু পরিচয় গড়ে তুলেছি অন্য জায়গায়। এটা আমার গল্প নয়, কিন্তু হতেও পারত।’’