স্পাইন সার্জারি
ঘন্টার পর ঘন্টা একভাবে বসে থেকে অফিসের কাজ এবং শরীরচর্চার অভাবে শিরদাঁড়ার সমস্যায় ভুগছে বেশিরভাগ মানুষ। তবে কি যারা অফিস করে তাদেরই কেবল শিরদাঁড়ার সমস্যা হয়? উত্তরটা না। তাহলে কারা ভোগেন এই সমস্যায়?
শিরদাঁড়ার সমস্যা নিয়েই আলোচনা করলেন মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের স্পাইন সার্জারির বিশেষজ্ঞরা। ছিলেন স্পাইন সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ক্লিনিকাল লিড, এমবিবিএস, এমএস (অর্থোপেডিকস), এমআরসিএস, এমসিএইচ (অর্থোপেডিকস), ডিএনবি (অর্থোপেডিকস), এমএনএএমএস, এও গ্লোবাল স্পাইন ডিপ্লোমা, চিকিৎসক অনিন্দ্য বসু; বিশেষজ্ঞ স্পাইন সার্জন, এমবিবিএস, এমএস (অর্থোপেডিকস), স্পাইন সার্জারিতে ফেলোশিপ (অস্ট্রেলিয়া, পুণে), অ্যাডভান্সড পেন মেডিসিনে ফেলোশিপ, মিনিমালি ইনভেসিভ এবং এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারিতে ফেলোশিপ, চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ এবং স্পাইন সার্জারির অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট, এমবিবিএস (এমএএমসি, নয়াদিল্লি), এমএস অর্থোপেডিকস (জিটিবি হাসপাতাল, নয়াদিল্লি), এও গ্লোবাল স্পাইন ডিপ্লোমা (সুইৎজ়ারল্যান্ড), মিনিমালি ইনভেসিভ এবং এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারিতে ফেলোশিপ (এইচএসএস - নিউ ইয়র্ক, উরিদুল - সিওল, কলকাতা, পুণে), চিকিৎসক প্রত্যুষ শাহী।
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
শিরদাঁড়ার সমস্যা নিয়েই আলোচনা করলেন মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের চিকিৎসক অনিন্দ্য বসু, চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ এবং চিকিৎসক প্রত্যুষ শাহী।
চিকিৎসক অনিন্দ্য বসু বলেন যে কোনও বয়েসে এই সমস্যা হতে পারে। অনেক সময়েই শিশুরা শিরদাঁড়ার সমস্যা নিয়ে জন্মায়, আবার কম বয়সী বাচ্চারাও এই সমস্যায় ভোগে, মাঝবয়সী যারা জিম করেন অথবা খেলাধূলার সঙ্গে যুক্ত তাদের ক্ষেত্রেও স্লিপডিস্ক এর মতো সমস্যা হতে পারে, আবার অনেকসময় টিউমারও দেখা যায়। তবে পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে শিরদাঁড়ার সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
শিরদাঁড়ায় কী কী ধরণের সমস্যা দেখা যায়?
চিকিৎসক প্রত্যুষ শাহী জানান অনেক সময়েই ঘাড়ে ব্যথা হয় যা হাত অবধি ছড়ায়, আবার অনেকে কোমরের ব্যথায় ভোগেন যা পায়ের দিকে ছড়ায়। কারোর কারোর হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হয়, শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারেন না, আবার কারোর প্রস্রাবের সমস্যাও হতে পারে।
তাহলে কি এই সমস্যাগুলির নিরাময় সম্ভব?
চিকিৎসক সৌরভ ঘোষের কথায় এই সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ শিরদাঁড়ার সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব।
আবার এইসব সমস্যায় ফিজ়িয়োথেরাপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফিজ়িয়োথেরাপি করলে বেশিরভাগ সমস্যা থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়।
অনেকসময়ই দেখা যায় ফিজ়িয়োথেরাপি করে অথবা ওষুধেও রোগী সুস্থ হচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে ইঞ্জেকশন অথবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের সুস্থ করা হয়। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অনেকের ভয় থাকে পক্ষাঘাত
হয়ে যাবে না তো! এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ইন্ট্রাঅপারেটিভ নিউরোমনিটরিং এবং ‘ও’ আর্ম ৩ডি ন্যাভিগেশন যন্ত্রের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়, যেখানে পক্ষাঘাত হওয়ার সম্ভাবনা একদমই কম।
অস্ত্রোপচারের কথা শুনলে রোগীর বা রোগীর পরিবারের এই ধারণা থাকে যে অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে হয়তো অনেকদিন শুয়ে থাকতে হবে বা অনেক বেশি ব্যথায় কষ্ট পাবে। কিন্তু এখন শিরদাঁড়ার অস্ত্রোপচারও এন্ডোস্কোপিক এবং মাইক্রোসার্জারি অথবা খুব ছোট ছিদ্র করে হয়, যেখানে রোগীকে কয়েক ঘন্টা পর থেকেই হাঁটানো শুরু করে দেন চিকিৎসকরা। ১-২ সপ্তাহের মধ্যেই রোগীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
তাই শিরদাঁড়ার সমস্যায় যদি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়, ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবেন না। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরে আসা সম্ভব।
এই প্রতিবেদনটি ‘মণিপাল হাসপাতাল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।