Viral Video

হাত-পা বেঁধে পড়ে জনা পঞ্চাশেক দুধের শিশু, অনেকে পড়ে নিথর অবস্থায়! ডে-কেয়ারের ভাইরাল ভিডিয়োয় নিন্দার ঝড়

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি থাকা ১০৩ শিশুর মধ্যে অন্তত ৫৩ জন, যাদের বেশির ভাগের বয়স দু’বছর, নির্যাতনের শিকার। পুলিশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু অভিযোগ উদ্ঘাটন করেছেন, যার মধ্যে কিছু শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বেঁধে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৩
13 detained after more than 50 toddler seen tied up at daycare facility In Indonesia, video creates outrage

অমানবিক। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

হাত-পা বেঁধে একটি কামরার মেঝেয় ফেলে রাখা হয়েছে জনা পঞ্চাশেক দুধের শিশুকে। অনেকে নড়াচড়াও করছে না। কেউ কেউ কেঁদে যাচ্ছে নাগাড়ে। কিন্তু সে দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই উপস্থিত কারও। ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিয়াকার্তার একটি দিবাযত্ন (ডে-কেয়ার) কেন্দ্রে শিশুদের উপর তেমনই পরিকল্পিত নির্যাতনের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। দেশব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি ১০৩ জন শিশুর মধ্যে অন্তত ৫৩ জন, যাদের বেশির ভাগের বয়স দু’বছর, নির্যাতনের শিকার। কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু অভিযোগ উদ্ঘাটন করেছেন, যার মধ্যে কিছু শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বেঁধে রাখার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জালান পাকেলে এলাকায় অবস্থিত ‘লিটল আরেশা’ নামের ডে-কেয়ার কেন্দ্রটি স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিশু নির্যাতনে সরাসরি যুক্ত সন্দেহে ১৩ জনকে আটক করার আগে ডে-কেয়ার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

ইয়োগিয়াকার্তা পুলিশের মুখপাত্র প্রধান কমিশনার ইহসান বলেন, “আমরা এই ঘটনায় গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গত রাতে, ইয়োগিয়াকার্তা মেট্রো পুলিশ ১৩ জন সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেছে। এঁদের সবাইকে অবিলম্বে আটক করা হয়েছে। পুলিশ আমাদের শিশুদের সুরক্ষায় দৃঢ় ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” যে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সংস্থাটির প্রধান, ব্যবস্থাপক এবং ১১ জন কর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইয়োগিয়াকার্তা মেট্রো পুলিশের প্রধান ইভা গুনা পান্ডিয়া। তদন্তকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওই ঘটনায় আরও বেশ কয়েক জনের নাম উঠে আসতে পারে।

এই ঘটনা এবং ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিয়োটি ইন্দোনেশিয়া জুড়ে ডে-কেয়ার তত্ত্বাবধান এবং শিশু সুরক্ষা আইন নিয়ে বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং অভিভাবক— উভয় পক্ষই সরকারের কঠোর পরিদর্শন, বাধ্যতামূলক নজরদারি ব্যবস্থা এবং শিশু পরিচর্যা কর্মীদের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

ঘটনার ভিডিয়োটি ‘সেরকান তানিলদিজি’ নামে একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে হইচই ফেলেছে সেই ভিডিয়ো। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ ভিডিয়োটি দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে হিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতেও সরব হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন