Serendipity 2026

‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’ - অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার ২৫ বছর উদ্‌যাপন

গত ২৫ বছরে, গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল (জিবিএস) এমন একটি ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে, যা শুধু পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৩
‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’

‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’

গত ২৫ বছরে, গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল (জিবিএস) এমন একটি ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে, যা শুধু পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পড়াশোনার ক্ষেত্রে দৃঢ় ভিত্তি এবং শিল্প-সংক্রান্ত শিক্ষার নতুন ধারণার মাধ্যমে, জিবিএস, আধুনিক পড়াশোনার পদ্ধতি এবং সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তৈরি করছে। এর ফলে ৪,০০০-এরও বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী সহজেই চাকরি বা শিল্পজগতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিজ়নেস স্কুলের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল ‘বিয়ন্ড এডুকেশন’ ভাবনা, যেখানে বইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার উপর জোর দেওয়া হয়। ‘সেরেন্ডিপিটি’ হল এর প্রধান উদ্যোগ। এটি একটি বড় লাইভ প্রোজেক্ট, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই পুরো অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরিচালনা করে। অর্থ, মার্কেটিং, অপারেশন, এইচআর, লজিস্টিকস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সবকিছুই তারা নিজেরাই সামলায়, ঠিক যেমন বাস্তব কোনও প্রতিষ্ঠানে করা হয়।

‘সেরেন্ডিপিটি’ নামটি এসেছে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক সুখকর ঘটনার ধারণা থেকে, যা এই অনুষ্ঠানের সময় ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে খুব ভালভাবে মিলে যায়। পোস্টগ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট শিক্ষায় ২৫ বছর উদ্‌যাপনের সময়ে, ‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’ হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানের মূল ভাবনা এবং মূল্যবোধের এক বিশেষ উদ্‌যাপন। এই অনুষ্ঠানটি শুধু ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা এবং নেতৃত্ব তুলে ধরেনি, বরং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের শিক্ষাদর্শনের একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবেও কাজ করেছে।

‘সেরেন্ডিপিটি’-র দীর্ঘদিনের ভাবনা এবং মনোভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গ্লোবসিন গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান বিক্রম দাশগুপ্ত বলেন, “২৫ বছর ধরে সেরেন্ডিপিটি-র ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখা সহজ কাজ নয়। এটি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলির একটি। অভিজ্ঞতামূলক ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার প্রাণ হিসেবে সেরেন্ডিপিটিকে ভাবা হয়েছিল। একসময় মনে হয়েছিল এটি নিজেই একটি পূর্ণ দুই বছরের ম্যানেজমেন্ট কোর্স হয়ে উঠতে পারে। আজও এর ধারাবাহিকতা গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল-এর সেই চিরস্থায়ী মনোভাবকেই তুলে ধরে, যা সেরেন্ডিপিটি এবং বিয়ন্ড এডুকেশন-এর নানা উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে।”

এই বছর ‘সেরেন্ডিপিটি’-র মূল থিম ছিল ‘ইকোভার্স’, যা ‘সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল ১৩: ক্লাইমেট অ্যাকশন’-এর সঙ্গে যুক্ত। এই থিমটি প্রমান করে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু দায়িত্ব নয়, ব্যবসার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং নৈতিক বিষয়।

‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ডিরেক্টর এবং ট্রাস্টি রাহুল দাশগুপ্ত বলেন, “সেরেন্ডিপিটি হল সেই জায়গা, যেখানে ক্লাসরুমে শেখা শিক্ষা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে। পরিকল্পনা এবং কাঠামো থেকে শুরু করে যোগাযোগ ও সমন্বয়, এই সবকিছুই ছাত্রছাত্রীদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে দায়িত্ববোধ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলগত কাজ খুবই জরুরি।”

‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’-এর একটি বড় আকর্ষণ ছিল ‘ইনভিক্টাস’, যা কলেজের মধ্যেই একটি খেলাধূলার প্রতিযোগিতা। ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা, দড়ি টানাটানি, পুল, ক্যারম এবং মহিলা ক্রিকেটের মতো খেলাগুলোর মাধ্যমে এখানে শারীরিক শক্তি, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ এবং মানসিক দৃঢ়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শুধু খেলা নয়, ‘ইনভিক্টাস’ শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, সহযোগিতা এবং মানসিক শক্তির মূল্য শেখায়।

আরেকটি আকর্ষণ ছিল ‘ব্যাটেল রয়্যাল’, যা একটি আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে ছিল গ্লোবসিন ওপেন ডিবেট, ট্রেজার হান্ট এবং নিজের দ্রব্য বিক্রি করার মতো নানা আয়োজন। দেশের বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নেন। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্লাসরুমে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পাওয়া যায়, যা সুস্থ প্রতিযোগিতা, একে অন্যের কাছ থেকে শেখা এবং সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।

আগের অংশগুলোতে যেখানে দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতার কথা উঠে এসেছে, সেখানে সোস্যাল ছিল ‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’-এর কেন্দ্রবিন্দু। গান, নাচ এবং থিয়েটারের মাধ্যমে অডিটোরিয়াম ভরে উঠেছিল আনন্দে। দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মা, শিক্ষক, প্রাক্তনী এবং কর্মকর্তাদের প্রতি মন থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ২৫ বছরের পথচলা উদ্‌যাপনের এই বছরে, ‘সেরেন্ডিপিটি ২০২৬’ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই আয়োজন ভবিষ্যতের ম্যানেজারদের দায়িত্বশীলভাবে নেতৃত্ব দিতে এবং নৈতিকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত করে তুলছে।

এই প্রতিবেদনটি ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আরও পড়ুন